গুইমারার পর এবার মহালছড়িতে অপপ্রচারের স্বীকার সেনাবাহিনী!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারা উপজেলার ২ নং হাফছড়ি ইউপির কুকিছড়া পরিত্যক্ত সেনা ক্যাম্প দখল করে বৌদ্ধ মন্দির নির্মানের পর এবার জেলার সদর উপজেলার দেবতাপুকুর এলাকায় একই কায়দায় আরেকটি পরিত্যক্ত সেনা ক্যাম্পের সরকারী খাস ভূমি পূর্বানুমতি ছাড়াই দখল করে সেখানে লক্ষ্মী নারায়ন মন্দির নির্মান করেছে উপজাতীয়রা আর এ অবৈধ মন্দির অন্যত্র সরিয়ে নিতে বলায় গুইমারার মতো আবারো একটি মহল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা শুরু করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত সেনাক্যাম্প ও বাঙালীদের ভূমি অবৈধ দখলে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা ধর্মীয় স্থাপনা তৈরিকে হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করেছে এবং তারা জানে এবিষয়ে সেনাবাহিনী বাধাঁ দিতে আসবেই আর তখনি পাহাড় হতে সেনাবাহিনী উচ্ছেদে অপপ্রচারের আরেকটা সুযোগ তারা পাবে, সুতরাং, এক ঢিলে দুই পাখি শিকার।

জানা গেছে, মহালছড়ি জোন অধিনস্ত সদরের ৪নং মাইসছড়ি ইউনিয়নের দেবতাপুকুর সংলগ্ন নুনছড়ি এলাকায় পরিত্যক্ত একটি সেনাক্যাম্পের স্থানে “পরিত্যক্ত সেনাক্যাম্পের স্থান, অনুমতি ছাড়া দখল নিষেধ” সংবলিত একটি ষ্টিলের সাইনবোর্ড লাগানো ছিলো এবং মহালছড়ি জোন সেখানে নিয়মিত টহল পরিচালনা ও বিশ্রামের জন্য উক্ত স্থানটিকে ব্যবহার করতো।

কিন্তু সরকারী কোন অনুমতি ছাড়াই উক্ত ভূমি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে লক্ষ্মী নারায়ন মন্দির নির্মানের নিমিত্তে ২-৩ দিনের মধ্যেই একটি ঘর দাড় করায় স্থানীয় উপজাতীয়রা। চারপাশে টিনের ছাওনী দেয়া ঘরটি নির্মানের আগে স্থানীয়রা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে উক্ত স্থানটিকে মন্দির নির্মানের উপযোগী করে তোলে।

কয়েকদিন আগে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঐ এলাকায় গমনের পর সরকারী ভূমিতে অবৈধভাবে মন্দির ঘর দেখতে পেয়ে মন্দির নির্মাতাদের কাছে ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি পত্র দেখতে চাইলে তারা কোন প্রকার মালিকানা বা অনুমতি পত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের আলোচনার জন্য মহালছড়ি জোনে ডাকা হয়।

২৬ অক্টোবর সকালে জোন অধিনায়কের ডাকে সাড়া দিয়ে উক্ত এলাকার ৮টি গ্রামের (থলিপাড়া, পুকুরপাড়া, হেডম্যান পাড়া, গুইমারা পাড়া, ছাতি পাড়া, স্কুল পাড়া, মধ্যম পাড়া, মালতি পাড়া) কার্বারী, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার মুরুব্বীসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী মহালছড়ি জোনে আলোচনা সভায় মিলিত হন। সেখানে জোন অধিনায়ক মন্দির বা কোন ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মানের আগে দানপত্র বা অনুমতিপত্র বা ভূমির মালিকানা লাগে এবং মালিকানা না থাকলে ভবিষ্যতে ঝামেলা হতে পারে মর্মে মন্দির নির্মানকারী ও এলাকাবাসীকে বোঝাতে সমর্থ হন এবং তাদের মন্দিরটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে কোন ব্যক্তি মালিকানা ভূমিতে প্রতিঃস্থাপনের অনুরোধ জানান।

এসময় মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা মন্দিরটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে সম্মত হয়।

এসময় আলোচনা সভায় মাইসছড়ি মৌজার হেডম্যান কলিন জ্যোতি চাকমা, পুকুর পাড়ার কার্বারী কুঞ্জ মেহান ত্রিপুরা, গুইমারা পাড়ার কার্বারী কলিধন ত্রিপুরা, মধ্যম পাড়া কার্বারী খুকুমনি ত্রিপুরা, হেডম্যান পাড়া কার্বারী তেজেন্দ্র রোয়াজা, মহিলা কার্বারী দৃহ ত্রিপুরা, গুইমারা ইউনিয়নের ৯ নং ওর্য়াড মেম্বার কইসক ত্রিপুরা ও মন্দির পরিচালনা কমিটির সম্পাদক বিনাচান ত্রিপুরাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু স্থানীয় নিরীহ গ্রামবাসীরা সোজা কথাটি বুঝে অবৈধ কাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেও সুযোগ সন্ধানী কুচক্রী মহলটি অনেকটাই ব্যথিত হয়েছে। আর নিজেদের পুরোনো চরিত্র আবারো আরেকবার দেখিয়ে দিয়েছে পার্বত্যবাসীকে।

সন্ত্রাসীরা তাদের পরিকল্পনা মাফিক এগুতে ভূল করেনি। এবার তাদের মুখের বুলি, “সেনাবাহিনী মন্দির ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে”। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসকারীরা সেই ১৯৮৬ সালকে টপকে ২০১৮ তে পদার্পন করেছে এটা সন্ত্রাসীদের জানা ছিলোনা। তারা জানেনা আসলে মন্দির ভাঙ্গার নির্দেশ আর অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে প্রতিঃস্থাপনের অনুরোধে মধ্যখানে আকাশ-পাতাল ব্যবধান।

এদিকে আলোচনা সভায় উপস্তিত থাকা মন্দির পরিচালনা কমিটির সম্পাদক বিনাচান ত্রিপুরা জানান, আমরা জোন অধিনায়ক মহোদয়ের সাথে একমত পোষন করেছি এবং মন্দিরটি অন্যত্র সরিয়ে নেবার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি কিন্তু কে বা কারা এখানে তাদেও স্বার্থে অপপ্রচার করছে যা মোটেই কাম্য নয়।
তবে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কল করার পরেও রহস্যজনক কারণে প্রতিবেদকের কল রিসিভ করেননি মাইসছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আ¤্রে মারমা।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য যোগদানকৃত খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোঃ নাজমুস শোয়েব বলেন, পরিত্যক্ত সেনা ক্যাম্পের ভূমিটি অবশ্যই সরকারী খাস ভূমি আর সেখানে কোন প্রকার অনুমতি ছাড়া অবৈধ ভাবে দখল করে মন্দির, মসজিদ কিংবা প্যগোডা নির্মান একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ । তাছাড়া পাহাড় কাটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। যদি কারো সরকারী ভূমি ব্যবহারের প্রয়োজন হয় তাহলে তাকে অবশ্যই সরকারী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ানুমি সাপেক্ষে তা ব্যাবহার করতে হবে, অন্যথায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গুইমারার ঘটনায় প্রশাসন কর্তৃক মন্দির নির্মানসহ দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস ও আজ থেকে কাজ শুরু হলেও দেখা গেছে এটি নিয়ে জল ঘোলা করে মাছ শিকারের আশায় ফাহাড়ের বিভিন্ন স্থানেই আন্দোলনের নামে পরিবেশ অশান্ত করার র্পাঁয়তারা করছে একটা মহল। এ ঘটনায়ও ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয়না।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো ঘটনা ঘটলেই প্রত্যক্ষদর্শী না থাকলে তার দায় বাঙালী ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর চাপিয়ে ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হয়। কিন্তু তদন্ত শেষে দেখা যায় ঐ সকল ঘটনায় পাহাড়ী সন্ত্রাসীরাই জড়িত। কিন্তু যখনই এসকল ঘটনায় পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের নাম আসে তখন সুশীল ও মানবতাবাদী সংগঠনগুলো রহস্যজনক কারণে নীরব হয়ে যায়।

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাস নির্মূলে যখনই কোনো বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করে তখনই মিথ্যা নারী ধর্ষণ ইস্যু কিংবা অন্যকোন সমস্যা সৃষ্টি করে অপপ্রচারের মাধ্যমে সেই অপারেশন থামানোর অপচেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা আর তাদের দাবার গুটি হয়ে কাজ করে নিরীহ পাহাড়ীরা।

রাঙামাটির বিলাইছড়িতে দুই মারমা বোনের কল্পিত নির্যাতনের কাহিনী ও বান্দরবানের লামার দুই মারমা বোনের সাম্প্রতিক ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তার জলন্ত প্রমাণ। তদন্তে যখন প্রমাণ হয় ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা, তখন পাহাড়ীরা নীরব হয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে থেমে যায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অপারেশন। এভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনকে তাদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার নিকৃষ্ট হাতিয়ারে পরিণত করেছে।

ভাবুন তো, জাতিসংঘে যদি সুনাম থাকে বাংলাদেশ সেনাদের, বিশ্বেও ৪৩টি দেশে যদি ধর্ষণের কোন ঘটনা না ঘটে, ঘরবাড়িহীন অসহায় ১১-লাখ রোহিঙ্গাদের সাথে কাজ করতে গিয়ে যদি কোন রোহিঙ্গা নারী ধর্ষণের শিকার না হয়, তাহলে পাহাড়ে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী উপজাতিরা সত্যি কি আমাদের সেনা কর্তৃক অপদস্ত কিংবা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে? নাকি এটা বিশেষ কোন মহলের প্রপাগান্ডা নিজেদের স্বার্থে? এখানেই মূল প্রশ্নটা। নিজের বিবেক, প্রজ্ঞা আর যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণের দাবি রাখে, প্রকৃত সত্যটা কি হতে পারে!
ধারনা করা হচ্ছে একটি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের সন্ত্রাসীরা গুইমারার ঘটনায় কোন এশপার- ওশপার করতে না পেরে মহালছড়ির নিরীহ গ্রামবাসীদের দাবার গুটিতে পরিনত করে রাষ্ট্র’র বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য করছে।