বাঘাইছড়িতে ছাত্র-যুবলীগকর্মী নিয়ে সাংবাদিক পরিবারের রেকর্ডীয় জায়গা দখল!

॥ সিনিয়র প্রতিবেদক ॥

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকর্মী নিয়ে রাতের আঁধারে এক সাংবাদিক পরিবারের জায়গা দখল করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার রাতে উপজেলা সদরের চৌমুহনী এলাকায় তাদের পরিবারের নিজস্ব পৈত্রিক জমির বিশাল অংশ সরকারি দলের কতিপয় সন্ত্রাসী নিয়ে চিহ্নিত ভূমিদস্যু জনৈক আবুল মোমিন ও তার স্ত্রী হাজেরা বেগম ঘেরাবেড়া দিয়ে দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন, রাঙামাটি রিপোটার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক ও দেশের অন্যতম বেসরকারি টিভি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি ফজলুর রহমান রাজন।

ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, পিকনিক করার নাম দিয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কতিপয় নেতাকর্মী টাকার বিনিময়ে মোমিন ও তার স্ত্রী হাজেরা বেগমকে সহায়তা করে ফজুলর রহমানের পরিবারের জায়গাটি ঘেরাবেড়া দিয়ে দখল করে দেয়। সূত্র মতে, ১৯৯৪-৯৫ সালের দিকে সাংবাদিক রাজনের পরিবার থেকে জায়গাটির সাড়ে ৪ শতক ক্রয় করেন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব আবুল মোমিন। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে রাজনের বাবা, মা বেঁচে থাকা অবস্থায় ক্রয় করা জায়গার নাম পরিবর্তনের নিবন্ধন করে নেননি আবুল মোমেন ও হাজেরা খাতুন। জায়গার মালিক সাংবাদিক ফজলুর রহমানের বাবার মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে ক্রয় করা জমির নাম পরিবর্তন করে দিতে বলেন তারা। এতে ফজলুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা একটি কাগজে দস্তখত করে দেন তখন। কিন্তু পরে কায়দা করে রাঙামাটি জজ আদালতে সাড়ে চার শতকের স্থলে সাড়ে ৭ শতক জায়গা নাম পবির্তনের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন মোমিন ও তার স্ত্রী হাজেরা। অথচ বাবা, মা বিক্রি করায় সাড়ে চার শতক জমি দিতে বিরোধিতা করেননি ফজলুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা।

এরপরও জামায়াত-শিবির সমর্থক মোমিন ও স্ত্রী হাজেরা ওই পরিারটির পুরো জায়গাটি দখলে নিতে নানা ধরনের অপচেষ্টা চালাতে থাকে। সর্বশেষ রোববার রাতে পিকনিকের নামে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কতিপয় নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে পুরো জায়গাটি ঘেরাবেড়া দিয়ে দখল করে নিয়েছেন আবুল মোমিন ও তার স্ত্রী। অপর এক সূত্রে জানা যায়, আবুল মোমিনের ছেলে সোহাগ ডেসটিনির নামে প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার ছেলে সোহাগ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সঞ্জয় ধর, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ইসতিয়াক আহম্মদ, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মামুনুর রশীদ মামু, ৪ নং যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ইকবালের নেতৃত্বে স্থানীয় কতিপয় ছাত্র ও যুবলীগ নেতাকর্মীর নেতৃত্বে ফজলুর রহমান রাজনদের পরিবারের জায়গাটি ঘেরাবেড়া দিয়ে দখল করে নেয়া হয়েছে।

সাংবাদিক ফজলুর রহমান রাজন জানান, জায়গাটি এখনও তাদের ৯ ভাই বোনের মধ্যে পৃথক নামে নিবন্ধন বা নাম পরিবর্তন করেননি। যখন হাজেরা বেগম ডাকযোগে রেজিষ্ট্রি পাওয়ার জন্য আবেদন করে তখন থেকেই নানা চক্রান্ত করে আসছিল তারা। কিন্তু পরিবারের ৯ সদস্যের মধ্যে ৭ সদস্য বাইরে থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতে পুরো জায়গাটি দখল করে নিয়েছে মোমিন ও তার স্ত্রী। আমরা জায়গাটি যে অবস্থায় ছিল তা উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সহায়তা চাই এবং বেদখলকারী মোমিন ও তার স্ত্রী হাজেরা পরিবারকে জায়গাটি অবিলম্বে উচ্ছেদ করাতে চাই।

এদিক ফজুলুর রহমান রাজনের পরিবারের ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা এভাবে দখলে নেয়ার জন্য তীব্র প্রতিবাদসহ অবিলম্বে দখলকারীদের উচ্ছেদ ও জায়গা উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে জানিয়েছে, সাংবাদিক সংগঠন রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, সাধারন সম্পাদক আনোয়র উল হক,, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা, কোষাধ্যক্ষ এম, কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি সাংবাদিক ফোরাম এর সভাপতি নন্দন দেবনাথ সাধারন সম্পাদক মিল্টন বাহাদুর, সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সাধারন সম্পাদক উড়াল মনি চাকমা হিমেল । এসব সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে সাংবাদিক রাজনের পরিবারের জায়গাটি উদ্ধার করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে এবং দুস্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে আবুল মোমিন বলেন, আমি তাদের কাছ থেকে সাড়ে ৭ শতক জমি ক্রয় করেছি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তারা তা নাম পরিবর্তনের নিবন্ধন করে দেননি। পরে নিজের উদ্যোগে আদালতে নিবন্ধন করে নিয়েছে। জায়গা তো আগে দখল করা ছিল গত রাতে কোন জায়গা দখল করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে লাইন কেটে দেন।