১৩ হাজার ৮১০ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে রাঙামাটিতেও শুরু হচ্ছে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা

॥ আলমগীর মানিক-হোসাইন ইকবাল ॥

সারাদেশের ন্যায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) ও এসএসসি (ভোকেশনাল) নবম শ্রেণীর বোর্ড সমাপনী পরীক্ষা। রাঙামাটিস্থ জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, এবছর পহেলা নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া জেএসসি-জেডিসি ও ভোকেশনাল বোর্ড সমাপনী পরীক্ষায় সর্বমোট ১৩ হাজার ৮১০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। তারমধ্যে, জেএসসিতে ২৩ কেন্দ্রে মোট ১২,৪৩৫ জন, জেডিসিতে ৫ কেন্দ্রের মোট ৬৩৩ জন, ও ভোকেশনাল নবম শ্রেণীর বোর্ড সমাপনী পরীক্ষায় ৫ কেন্দ্রে মোট ৭৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক প্রাপ্ত তথ্যানসারে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে রাঙামাটির ১০ উপজেলায় মধ্যে – সদর উপজেলার ৪ কেন্দ্রে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের ২,৫৯২ জন পরিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। কাউখালী উপজেলায় ৩ কেন্দ্রে ১৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১,৩২৭ জন, লংগদু উপজেলায় ২ কেন্দ্রে ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১,৪০৬ জন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৪ কেন্দ্রে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ২,০০২ জন, কাপ্তাই উপজেলার ৩ কেন্দ্রে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ১৩৮৭ জন, নানিয়ারচর উপজেলায় ২ কেন্দ্রে ০৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৫৩ জন, রাজস্থলী উপজেলায় ১টি কেন্দ্রে ০৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৫৪, বিলাইছড়ি উপজেলায় ১ কেন্দ্রে ০৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৮১ জন, বরকল উপজেলায় ২টি কেন্দ্রে ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৫২ জন ও জুরাছড়ি উপজেলায় ১টি কেন্দ্রে ০৫ টি প্রতিষ্ঠানের ৪০৬ জন পরিক্ষার্থী এবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার তথ্য জেলা শিক্ষা অফিসে রয়েছে।

এদিকে, জেডিসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে রাঙামাটির ৫ উপজেলার মধ্যে- রাঙামাটি সদরে ১ টি কেন্দ্রে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১২৭ জন, লংগদু উপজেলায় ১ টি কেন্দ্রে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮৭ জন, কাউখালী উপজেলায় ১ টি কেন্দ্রে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১৫ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১ টি কেন্দ্রে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৫০ জন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১ টি কেন্দ্রে ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৪ জন পরিক্ষার্থী অংশগ্রহন করবে আজ থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষায়।

অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) নবম শ্রেণীর বোর্ড সমাপনী পরীক্ষায় রাঙামাটির ৪ উপজেলার পরিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে এর মধ্যে- রাঙামাটি সদরে ২ কেন্দ্রে ২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৩৩ জন, কাউখালী উপজেলায় ১ টি কেন্দ্রে ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০৫ জন, রাজস্থলী উপজেলায় ১টি কেন্দ্রে ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮৬ জন ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১ টি কেন্দ্রে ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১৮ জন পরিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।

রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা অফিসার জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আজ থেকে রাঙামাটিতে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তিনি জানান, আইন শৃংখলা বাহিনী পরীক্ষা কেন্দ্রের সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তাছাড়া পরিক্ষা কেন্দ্রে কেউ এমনকি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকও মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক সাধারন মোবাইল (যে মোবাইলে ছবি তোলা যায় না) ব্যবহার করতে পারবেন।

তাছাড়া এবারই প্রথমবারের মত পরীক্ষা কেন্দ্রে সকল প্রশ্নের সেট প্রেরণ করা হবে। পরীক্ষা শুরুর পূর্বে প্রধান শিক্ষককে মুঠোফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে কোন সেট প্রশ্নের দ্বারা পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষার্থীদের পরিক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। যারা এ নিয়ম ভঙ্গ করবে তাদের রোল নম্বর এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে রাখা হবে এবং তা বোর্ডে প্রেরন করা হবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের পরীক্ষায় মোট ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। গত বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন। এবার মোট ২ লাখ ১ হাজার ৫১৩ পরীক্ষার্থী বেড়েছে। জেএসসিতে ২৯ হাজার ৬৭৭টি বিদ্যালয়ের মোট ২২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৩ এবং জেডিসিতে ৪ লাখ ২ হাজার ৯৯০ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের জেএসসি পরীক্ষায় অনিয়মিত ২ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৩ এবং জেডিসির ৩৪ হাজার ২৫১ পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। সারাদেশে মোট ২ হাজার ৯০৩টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গতবছর কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮৩৪টি। সেই হিসাবে এবার ৬৯টি কেন্দ্র বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়াও এবার দেশের বাইরে ৯টি কেন্দ্রে ৫৭৮ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিবে।

এদিকে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, পরীক্ষা কেন্দ্রে আগেই একাধিক প্রশ্ন সেট পাঠানো হবে, তবে পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির মধ্যেমে প্রশ্ন নির্বাচন করে প্রশ্নপত্রের খাম খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শ্রবণ প্রতিবন্ধীসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেয়া হয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পলসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই তাদের জন্য শ্রুতি লেখকের সুযোগ রাখা হয়েছে।