ফলোআপ : গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী রবিউল ২ দিনের রিমান্ডে

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটি শহরে রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হওয়া গৃহবধু জান্নাতুল নাঈমের লাশ উদ্ধার পরবর্তী তার পিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিহতের স্বামীকে দুইদিনের রিমান্ডে নিয়েছে রাঙামাটির কোতয়ালী থানা পুলিশ। থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহিদুল হক রনি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, আমরা নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছি।

এরই মধ্যে নিহতের পিতা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার কথা উল্লেখপূর্বক নিহতের স্বামী আবু নাছের রবিউলকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা রবিউলকে গ্রেফতার করে রোববার আদালতে উপস্থাপন করে ৫দিনের রিমান্ডের আবেদন জানাই। আদালত ২দিনের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন। রোববারই তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহিদুল হক রনি। রিমান্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এই মামলার বাকি পদক্ষেপ নিবে পুলিশ।

নিহতের পিতা তার অভিযোগে জানিয়েছেন, তার মেয়ে জান্নাতুল নাঈমকে বিগত বছরের ১৬/০৮/২০১৭ ইং তারিখে রবিউলের সাথে বিবাহ দেন। তাদের ঘরে গৃহবধু হয়ে আসার পর কয়েকমাস যেতে না যেতেই বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের দাবিতে তার মেয়ের উপর নির্যাতন চালিয়েছে রবিউল ও তার মা মনোয়ারা বেগম। মৃত্যুর দুইদিন আগেও ফোন করে মেয়ের মাধ্যমে যৌতুক চাইছিলো মেয়ের জামাই রবিউল। টাকা নাদেওয়ায় তার মেয়েকে মানসিক নির্যাতন করে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দিয়েছে রবিউল ও তার মা মনোয়ারা বেগম।

এদিকে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গৃহবধু নাঈম এলাকায় বউ হয়ে আসার পর থেকেই ঘরের বাইরে তেমন একটা বের হতে দেওয়া হতোনা। মারা যাওয়ার দিন আড়াইটার সময় রবিউল ঘর থেকে বের হওয়ার পরপরই জান্নাতুল নাঈমের মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মেয়েটিকে যেভাবে ঝুলানো অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেটি কখনোই আত্মহত্যা বলে কেউ বিশ্বাস করবে না। কারন হলো মৃত্যুর সময় যেকোনই মানুষই বাঁচার চেষ্ঠা করবে, আর নাঈম সেটা করতে চাইলেই সে বেচে যেতো, কারন তার শরীরের পাশেই ওয়্যারড্রোপ বসানো ছিলো। এছাড়াও আত্মহত্যাকারিনীর হাতের মুঠ আবদ্ধ অবস্থায় ছিলোনা, জিহবা বের করা ছিলো না।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিহতের শারিরিক অবস্থা দেখে কর্তব্যরতদের মনেও একটি ধারনা জম্মেছিলো যে, এটি আত্মহত্যার মতো ঘটনায় হয়তো নাও হতে পারে। এদিকে, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে। কোতয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের ময়নাতদন্তে প্রাপ্ত রিপোর্টের মৃত্যুর আসল কারন উৎঘাটন হবে এবং সেই অনুসারেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের লেকার্স পাবলিক স্কুল রোডের একটি বাসা থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সন্ধ্যার দিকে বাড়ির লোকদের দেওয়া সংবাদে সেখানে এসে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় সন্দেজনকভাবে গৃহবধূর স্বামী রবিউলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। মৃত গৃহবধূ চারমাসের অন্তসত্ত্বা ছিল বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ২১ বছর বয়সী এই গৃহবধূর নাম জান্নাতুল নাঈম। সে রাঙামাটি শহরের লেকার্স রোড এলাকার বাসিন্দা সিএনজি ড্রাইভার রবিউল আলমের স্ত্রী।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র গৃহবধূর মৃত্যুকে রহস্যজনক বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন। আমরা সন্দিহান থাকার কারণেই তার স্বামীকে আটক করেছি। তিনি জানান, সুরতহাল দেখে আত্মহত্যার অনেক আলামত পাওয়া যায়নি।