রাঙামাটিতে গুর্খা সম্প্রদায়ের ২ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী “ভৈল-ধেওসী” উৎসব শুরু!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙামাটি পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত নেপালের বংশদ্ভুত গুর্খা সম্প্রদায়ের দেওয়ালী পূজা (কালিপূজা) উপলক্ষ্যে ২ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী উৎসব “ভৈল-ধেওসী” মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ নভেম্বর) দেওসী ও ভাইটিকা দেয়ার মাধ্যমে গুর্খা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব শেষ হবে। নেপালের বংশদ্ভুত আদিবাসী গুর্খা সম্প্রদায়ের আবাল, বৃদ্ধ, বনিতারা সবাই এই উৎসবে মেতে উঠে আনন্দে উদ্বেল হয়ে পড়ে। দেওয়ালী পূজাকে সামনে রেখে নেপালের বংশদ্ভুত এই গুর্খা সম্প্রদায় সুদীর্ঘকাল থেকে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই উৎসব পালন করে আসছে।

গুর্খা সম্প্রদায়ের দু’দিন ব্যাপী এই উৎসব উৎসাহ ও উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে চলে। উৎসবের প্রথম দিনকে “ভৈল” ও দ্বিতীয় দিনকে বলা হয় “ধংসি/ঢেউসি”। গুর্খা সম্প্রদায়ের আবাল বৃদ্ধ বণিতা সবাই পাড়ায় পাড়ায় এই উৎসবে মেতে উঠে আনন্দে উদ্বেল হয়ে পড়ে। উৎসবে পাড়ায় পাড়ায় নাচ গানসহ ঘরে ঘরে মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে দিন ও রাতভর আনন্দে মেতে থাকে। আর এই উৎসবের দিনে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে এলাকার বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে নাচ, গানসহ ঘরে ঘরে মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে দিনে ও রাতে আনন্দে মেতে থাকে। উৎসবের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে দলগুলি বিভিন্ন পাহাড়ী পল্লীগুলোতে গিয়ে চাউল, টাকা, তরিতরকারী, রক্সী (পাহাড়ী মদ) সংগ্রহ করে থাকে। এই সমস্ত জিনিস সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সবাই মিলে বনভোজনের আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় দিন ভাইটিকা দেয়া হয়। দধিতে চাউল মিশিয়ে ভাই বোন একে অপরকে তাজ পড়িয়ে দেয়। রাঙামাটি শহরের জেল রোড, মাঝেরবস্তি, আসামবস্তি ও গর্জনতলীতে গুর্খা সম্প্রদায় “ভৈল-ধেওসী” উৎসবে মেতে উঠতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, রাঙামাটি জেলায় গুর্খা সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা দেওয়ালী পূজা (কালীপুজা) কে সামনে রেখে নেপাল বংশোদ্ভুত এই সম্প্রদায় সুদীর্ঘকাল থেকে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে এই উৎসব পালন করে আসছে।