ব্রেকিং নিউজ

সামান্য ভূলেই খাগড়াছড়ি আসন হারাতে পারে আওয়ামীলীগ!

॥ আল-মামুন – খাগড়াছড়ি ॥

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে খাগড়াছড়িতে পাল্টে যেতে পারে রাজনীতির সমীকরণ। নয় উপজেলা নিয়ে গঠিত ২৯৮নং নয় উপজেলায় এবার ভোটার ৪ লক্ষ ৪১ হাজার ৬১ জন। তার মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১৪ হাজার ১শ ৯৯ ও পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৮শ ৬৯ জন। খাগড়াছড়িতে গত নির্বাচনে ভোটার ছিল ৩ লক্ষ ৮১হাজার ৫শ ১৬ জন ভোটার থাকলেও তাতে এবার প্রায় ৬০ হাজার ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

খাগড়াছড়ি আসনে মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে আওয়ামীলীগে খাগড়াছড়িতে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও কম নয়। দলের নেতৃত্ব দেওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে পাওয়া-না পাওয়ার ব্যাথাও। সব মিলিয়ে আশা, প্রাপ্তি আর হতাশার হাতছানি ঘুরপাক খাচ্ছে নেতাকর্মীদের মাঝে। মনোনয়ন পেতে লবিং করে কেন্দ্রীয় বিভিন্ন নেতার সান্নিধ্য ও দোয়া পেতে ছুটছে প্রার্থীরা। তবে কে হতে যাচ্ছে খাগড়াছড়ির নৌকার মাঝি তা দেখা এখন সময়ের ব্যাপার।

এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে আছে-খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি-সংসদ সদস্য ও ট্রাস্কফোর্স চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা, বর্তমান সংসদ সদস্য ও ট্রাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা,পাজেপ সদস্য চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীসহ তরুণ রাজনীতিবিদ নিকি রোয়াজার নাম শোনা যাচ্ছে।

বর্তমান সরকার তথা নৌকা উন্নয়ন প্রচারে ব্যস্ত আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে থাকা খাগড়াছড়ির জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা বলেন, মনোনয়ন মুল বিষয় নয়। নৌকার বিজয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রাণপন চেষ্টা অব্যাহত থাকবে তার। নমিনেশনের ব্যাপারটা একান্তই নেত্রী ও হাই কমান্ডের বলে তিনি মন্তব্য করে বলেন, দলের সকল দু:সময়ে ছিলাম আগামীতেও থাকবো। তবে তিনি পার্টির পক্ষ থেকে তার কোন প্রাপ্তি নেই জানিয়ে বিষয়টি নেত্রী বিবেচনা করবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

সাবেক সংসদ সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা নৌকার প্রচারণায় ও দলের হাল ধরে রাখার বিষয়ে জানান, সব কিছুর উর্ধ্বে জননেত্রীর সম্মান অক্ষুন্ন রেখে আবারো নৌকার বিজয়ে কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি খাগড়াছড়িতে দলীয় কার্যালয় প্রত্যাক্ষাণ করে অস্থায়ী কার্যালয়ে থেকে কর্মসূচী পালনকারীদের দলের ঠিকানায় ফিরে এসে কাজ করার আহবান জানান।

অপরদিকে-বর্তমান সংসদ সদস্য ও ট্রাক্সফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা খাগড়াছড়ির আওয়ামীলীগে দু’ভাগে বিভক্ত হওয়ার পর থেকে বিভাজন নিরসনে কোন উদ্যোগ না নিয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা করে দলকে বিপদগামী করে তুলেছেন বলে পাহাড় সমান অভিযোগ থাকলেও মনোনয়ন দৌড়ে থেমে নেই তিনি। তিনি বলেন, নেত্রী যাকে দেয় তার পক্ষে তিনি কাজ করবেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।

অন্যদিকে- খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সহ-সভাপতি কংজরী চৌধুরী সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে কাজ করে গেলেও জেলা পরিষদের কোটি কোটি টাকার অনিয়ম, শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য ,প্রজেক্ট প্রকল্প হরিলুটের অভিযোগ সেতো আছেই। তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে নিকি রোয়াজাও মাঠ চসে বেড়াচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে। তিনি সরকারের নানামূখী উন্নয়ন, প্রচার-প্রচারণা নিয়ে মাঠে নেমেছেন কোমড় বেঁধে। তবে মনোনয়ন না চাইলেও খাগড়াছড়িতে রয়েছে বাঙ্গালী ও পাহাড়ীতে একাধিক তরুণ যোগ্য ও দলের জন্য নিবেদীত প্রাণ নেতা। দলের হাই কমান্ড বিবেচনা করলে মনোনয়ন পেতে পারে তরুণ প্রজম্মও।

খাগড়াছড়ি আসনে আওয়ামীলীগকে পরাজিত করতে মাঠে সক্রিয় ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের আরেক রাননৈতিক দল বিএনপি, পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), জাপাসহ অন্যান্যরা। একটু ভূল হলেই এই আসন হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামীলীগের। তাই এ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আওয়ামীলীগে বিভক্তি ছাপিয়ে যোগ্য প্রার্থী চান খাগড়াছড়িবাসী।