জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের খামখেয়ালীপনায় চরম দূর্ভোগে এলাকাবাসী!

॥ হোসাইন ইকবাল ॥
রাঙামাটি পৌরসভা’র ৪নং ওয়ার্ডের এডিসি কলোনি’র দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অফিস সংলগ্ন এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটি’র আওতাধীন পানি সাপ্লাই’র পাইপ এ ফাটল হওয়ার ফলে দুর্ভোগে পড়েছে অত্র এলাকার প্রায় অর্ধশত এলাকাবাসী।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় তবলছড়ি বাজার থেকে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স এ যাতায়াতের দুদক অফিস সংলগ্ন মূল সড়কের নিচে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটির আওতাধীন পানি সাপ্লাইয়ের মূল পাইপ ফেটে গিয়েছে। যার কারণে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স এ সারা বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর পর্যটক আসেন। বেশিরভাগ পর্যটক দেখা যায় বাস, মাইক্রো, কার, মোটরবাইক ইত্যাদি যানবাহন দ্বারা ভ্রমনে এসে থাকেন। তাছাড়া উল্লেখ্য সড়ক হলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেক্টর সদর দপ্তর রাঙামাটি ও ডাইরেক্টর জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টালিজেন্স (ডিজিএফআই) রাঙামাটি অফিসে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এবং অত্র এলাকায় বসবাসরত কয়েক হাজার এলাকাবাসী এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু প্রায় সবসময় দেখা যায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটি’র আওতাধীন পানি সাপ্লাইয়ের পাইপে বিভিন্ন সমস্যা থাকায় রাস্তাটি স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থায় থাকে।
অত্র এলাকায় বসবাসরত কয়েকজনের সাথে ঘটনাস্থলে আলাপকালে তারা জানান দীর্ঘদিন যাবত উক্ত পানি সাপ্লাই পাইপে বিভিন্ন সমস্যা থাকায় তারা দুর্ভোগে আছেন। তাছাড়া সড়ক সংলগ্ন ঘর-বাড়ি গুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার নীচে থাকা পাইপ ফেটে যাওয়ায় তাদের বসতঘড়ের ভেতরে পর্যন্ত পানি ঢুকে যায়। সড়ক সংলগ্ন বসতবাড়ি তে গিয়ে তাদের সমস্যাটির সমাধানের জন্য তারা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে তাদের সমস্যা সম্পর্কে অবগত করেছেন কিনা জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত পরিবারের এক সদস্য জানান, তারা কয়েকবার অফিসে গিয়ে সমস্যাটি সম্পর্কে উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছেন। পাইপ মেরামতের কাজও করা হয়েছে কয়েকবার কিন্তু সমস্যাটির সমাধান তো হয়নি। উল্টো প্রায় ৩ বছর পূর্বে মূল পাইপ ফেটে যাওয়ায় সড়কের ধারক দেয়ালের ভেতর দিয়ে পানি চলাচলের ফলে ধারক দেয়াল টি ধ্বসে পড়ে। যদিওবা এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি কিন্তু সম্ভাবনা ছিলো বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান সড়কের ধারক দেয়াল ধ্বসের পর উল্লেখিত পানি সাপ্লাইয়ের পাইপটি সংস্কার করা হয় এবং পুনরায় সড়কের ধারক দেয়াল নির্মান করা হয়। সড়কের ধারক দেয়াল নতুন করে নির্মান করার পর এ সমস্যাটির সমাধান হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু প্রায় দেড় বছর পূর্বে সড়ক’র নীচে থাকা মুল পাইপে ফাটল ধরে এবং আবার সড়ক’র ধারক দেয়াল’র ভেতর দিয়ে পানি বের হওয়া শুরু হয়। যা সরজমিনে গিয়েও দেখা যায় এবং ইতিমধ্যে ধারক দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাই উক্ত ব্যক্তি সঙ্কিত ভাবে বলেন তারা উক্ত সড়কের ধারক দেয়াল ধ্বসের আশংকায় দিনযাপন করছেন।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটির প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার অনুপম দে’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানেন না, ২/১ দিনের মধ্যে উক্ত সমস্যাটির সমাধানের ব্যবস্থা করবেন। তাছাড়া পূর্বে
পানি সাপ্লাইর পাইপে ফাটল দেয়ার ফলে প্রতিনিয়ত সড়কের ধারক দেয়াল ধ্বসে পরার ঘটনা ঘটেছলো কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত পুনরায় পাইপে ফাটল দেখা দেয়ার পর ও কেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা শহরে যে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সাপ্লাইয়ের কাজ করা হচ্ছে উক্ত পাইপ সমূহ অনেক পুরাতন হয়ে গিয়েছে তাই সংস্কার করার পরও বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে আরো বলেন মন্ত্রনালয় থেকে উনাকে জানানো হয়েছে যে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এর আর্থিক সহোযোগিতায় আগামী ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের পূর্বে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।  তাই তিনি আশা করছেন ২০১৯ সাল’র জুন নাগাদ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা শহরের পানি সাপ্লাই’র সকল পাইপ সমূহ নতুন করে সম্পূর্ন নতুন পাইপ দ্বারা পুরো পানি সাপ্লাই’র কার্যক্রম ঢেলে সাজানো হবে। উক্ত প্রকল্প সম্পর্কে তিনি আরো বলেন কিছুদিন পূর্বে তিনি মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করেছিলেন এবং জানতে পেরেছেন যে, উক্ত প্রকল্পের ফাইল বর্তমানে অর্থ মন্ত্রনালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে।