“কেপিএম’র শ্রমিক-কর্মচারিদের বকেয়া শীঘ্রই বুঝিয়ে দিন”বিসিআইসিকে এমপি ঊষাতন

॥ আলমগীর মানিক ॥

এশিয়ার বিখ্যাত কাগজ কল কর্ণফূলী পেপার মিলস কেপিএম এর শ্রমিক-কর্মচারিদের বকেয়া পাওনাদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন রাঙামাটি সংসদীয় আসনের নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

বুধবার ঢাকাস্থ বিসিআইসি প্রধান কার্য্যালয়ে পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) শাহীন কামাল এবং উর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক আসাদুর রহমান টিপুসহ অন্যান্যদের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হয়ে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে কেপিএম এর ৩৪৮ জন কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রমোশন এবং সরকার ঘোষিত মজুরী কমিশন দ্রুত কার্যকর ও বাস্তবায়ন করার অনুরোধ করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন এমপি ঊষাতন তালুকদারের একান্ত সহকারী এমআর হোসাইন জহির।

এদিকে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, কেপিএম এর সার্বিক সংকট নিরসনে সংসদ সদস্যের নানামুখী প্রচেষ্টার ফলে বর্তমানে কেপিএম ঘুরে দাড়াচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে বিসিআইসির নিজস্ব তত্বাবধানে মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে কাচামাল ও পাল্প সংগ্রহের জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু বিগত বছর গুলোর বকেয়ার কারনে সরবরাহকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা যাচ্ছেনা।

স্থানীয় সরবরাহকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাচামাল সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদারকে উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। এসময় সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার কেপিএম এ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কাচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ ও যাবতীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে মিলের ব্লিচিং ইউনিট এবং পাল্প ইউনিট দ্রুত পূর্ণ মাত্রায় সচল করতে পরামর্শ দেন তিনি।

বৈঠকে বিসিআইসি’র কাছে শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্যকে অবগত করা হয় শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন বর্তমানে প্রায় নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। পূর্বেরমত পাঁচ-ছয় মাসের বেতন এখন আর বকেয়া নেই। এছাড়া গ্র্যাচুইটি বাবদ ম্যাক্সিমাম পরিশোধ হয়েছে বাকী টাকা দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পুর্ণ পরিশোধ করা হবে।

পার্বত্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আপাতত একশো কোটি টাকা বরাদ্দ দ্রুত পাওয়া গেলে অনেক সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি কেপিএম দ্রুত ঘুরে দাড়াতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করা হয় বৈঠকে।

বৈঠক শেষে এমপির একান্ত সহকারী এমআর হোসাইন জহির জানান, নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি কেপিএম কলেজ পুনঃ রায় চালু করা এবং কেপিএম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ করেছেন এমপি মহোদয়।