রোয়াংছড়িতে নিরাপত্তাবাহিনী ও এলাকাবাসীর উপর সন্ত্রাসীদের গুলি : যুবক নিহত

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার ঘেরাও ভিতর পাড়া এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক মারমা কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা গেছে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোয়াংছড়ি উপজেলার বিইউটি ইটভাটায় স্থানীয় মগ পার্টি চাঁদার দাবীতে দীর্ঘদিন হুমকি দিয়ে আসছিল। বিষয়টি ইটভাটার মালিক পক্ষ স্থানীয় ক্যাম্পে জানায়। সোমবার দিবাগত রাতে তাদের চাঁদা নিতে আসার কথা এমন খবর পেয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়।

সন্ত্রাসীদের প্রাথমিকভাবে যেখানে থাকার কথা ছিলো বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গিয়েছিল কিন্তু সন্ত্রাসীরা অন্য আরেকটি স্থানে অবস্থান করছিল। নিরাপত্তা বাহিনী সেই স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করলে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই পাশের উঁচু পাহাড় থেকে সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তাবাহিনীর টহল দলের উপর গুলি করতে শুরু করে।

এসময় কিশোর কণ্ঠের এক ব্যক্তির চিৎকার শোনা যায়। পরবর্তীতে, সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিকে উপেক্ষা করে জীবন বাজী রেখে ঐ কিশোরের জীবন বাঁচাতে নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে গমণ করে এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঐ কিশোরকে উদ্ধার করে। উদ্ধার পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়তে শুরু করলে টিকতে না পেরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ ঐ কিশোরের নাম ক্যাসি অং মারমা (১৪), পিতা- পাইনু মং মারমা, গ্রাম: ঘেরাও মুখ, ভিতর পাড়া। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত ঐ যুবককে নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধার করে রোয়াংছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বান্দরবান সদর হাসাপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে তার পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুলিবিদ্ধ ছেলেটি মারা যায়।

এ ব্যাপারে রোয়াংছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্ত্রাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি বিনিময়ের পর এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মারা গেছে। নিহত কিশোরের লাশ ময়না তদন্তের জন্য বর্তমানে বান্দরবান সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

সেখানে আমাদের অফিসার রয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে। পরিবারের সদস্যরাও সেখানে অবস্থান করছে। পরে তারা ফিরলে তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করে পরবর্তী কার্যক্রম করা হবে।

কিশোরটি কিভাবে মারা গেল জানতে চাইলে রোয়াংছড়ি থানার ওসি জানান, সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা গেছে। সন্ত্রাসী কারা ছিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কারা ছিলো তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে শুনেছি মগ লিবারেশন পার্টি হতে পারে।