আঞ্চলিকসন্ত্রাসের আরেকটি নির্মম বলী বনাম কথিত জাতপ্রেমিকদের মিথ্যা প্রপাগান্ডা!

॥ অনিন্দ আফ্রিদী-বান্দরবান ॥

রোয়াংছড়ি উপজেলার বিউটি ইটভাটায় স্থানীয় মগ পার্টি চাঁদার দাবীতে দীর্ঘদিন হুমকি দিয়ে আসছিল। বিষয়টি ইটভাটার মালিক পক্ষ স্থানীয় ক্যাম্পে জানায়।সোমবার দিবাগত রাতে তাদের চাঁদা নিতে আসার কথা এমন খবর পেয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়।

সন্ত্রাসীদের প্রাথমিকভাবে যেখানে থাকার কথা ছিলো বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গিয়েছিল কিন্তু সন্ত্রাসীরা অন্য আরেকটি স্থানে অবস্থান করছিল। নিরাপত্তা বাহিনী সেই স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করলে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই পাশের উঁচু পাহাড় থেকে সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তাবাহিনীর টহল দলের উপর গুলি করতে শুরু করে। এতে ক্যাসিং অং মারমা নামের এক মারমা কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।

উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাসি অং মারমার পিতা হ্লানু মং মারমা রোয়াংছড়ি থানায় একটি এঝার দায়ের করেন, যাহাতে তিনি উল্লেখ করেন, “যথাবিহিত সম্মান পুর্বক নিবেদন এই যে, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী হ্লানু মং মারমা(৪২), পিতা- মৃত ক্যপ্রু মারমা, সাং- ঘেরাউ ভিতর পাড়া, থানা- রোয়াংছড়ি, জেলা – বান্দরবান আমি ১ নং রোয়াংছড়ি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ।

আমার ছেলে ক্যাসিং অং মারমা(১৪), রোয়াংছড়ি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র। গত ১২/১১/১৮ ইং তারিখ রাত অনুমান ৭টা ৪৫ মিনিটের সময় আমার ছেলে তাহার সঙ্গীয় উহ্লা সিং মারমা(১৭), পিতা- উক্যচিং মারমা এবং মংহাই সিং মারমা(১৬), পিতা- উবাচিং মারমা উভয় সাং- ঘেরাউ ভিতর পাড়া, থানা রোয়াংছড়িসহ ঘেরাউ পাড়া বৌদ্ধ কেয়াং এর মাঠ হইতে গাছের সিঁড়ি বেয়ে নীচে রাস্তায় নামিলে রোয়াংছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর একটি দলের সহিত অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময় শুরু হয়।

তখন আমার ছেলের বাম বাহু ও বাম হাতে ৪/৫টি গুলিবিদ্ধ হইয়া গুরুতর রক্তাক্ত ও হাড়ভাঙ্গা জখম হয়। আমার ছেলে রাস্তায় লুটাইয়া পড়িলে আমার চাচাতো বোন মে প্রু চিং মারমা(৩৮) অন্যান্য সাক্ষীদের সহায়তায় মংচানু মারমার দোকানে নিয়ে যায়। আমার ছেলের সঙ্গীয় অপর দুইজন দৌড়াইয়া প্রাণে রক্ষা পায়। গোলাগুলির শব্দ শুনিয়া ও আমার ছেলে জখম জখম প্রাপ্ত হওয়ার সংবাদ পাইয়া আমার স্ত্রী ও আমি ঘটনাস্থলে আসি এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় আমার ছেলেকে তাহাদের গাড়ী যোগে গুরুতর জখমি অবস্থায় রোয়াংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি।

সেখান হইতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান হইতে ডাক্তারের পরামর্শক্রমে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে পটিয়া থানা এলাকায় রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে এম্বুল্যান্সে মারা যায়। ঘটনার বিষয়ে জানিতে পারি যে, রোয়াংছড়ি আর্মি ক্যাম্পের লেফট্যানেন্ট ফারহান এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর টহল চলাকালে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী অস্ত্রধারীরা পাহাড়ের উপর হইতে গুলি ছুড়িলে সেনা সদস্যরা পালটা গুলি ছুঁড়ে।

আমার ধারনা সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে আমার ছেলে জখম প্রাপ্ত হইয়া মারা গিয়াছে। আমার ছেলের লাশের ময়না তদন্ত শেষে থানায় হাজির হইয়া এজাহার দায়ের করিতে সামান্য বিলম্ব হইলো।

আমার ছেলের হত্যাকান্ডের বিষয়ে দায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাইয়া অত্র এজাহার দায়ের করিলাম।”
এদিকে উক্ত ঘটনার দিন হতে ফেইসবুকে নিহত যুবকের লাশের ছবি আপলোড করে ভুল ও সাজানো তথ্যদিয়ে বিভিন্নভাবে সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি মহল। এসময় অনেক পাহাড়ী তরুণ তরুনীকে এইসব মিথ্যা তথ্য ঢালাওভাবে শেয়ার করতে দেখা যায়। মুলত নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে এর সুযোগ নিতে চাইছে কুচক্রী মহল।