“প্রসীত খীসা জুম্মজাতিকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে বাঁধাগ্রস্থ করছে”

॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥

ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করে জুম্মজাতির কল্যাণে গণতান্ত্রিক পথে ফিরার আহবান জানিয়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (গণতান্ত্রিক) এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পালিত হয়েছে খাগড়াছড়িতে। ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেডিট ফন্ট (ইউপিডিএফ) গণতান্ত্রিক এর কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মধুপুরস্থ পানখাইয়া পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তপন জ্যোতি বর্মাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালনসহ সমাবেশের মধ্য নিয়ে প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক। সদস্য সুলেন চাকমার সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এম.এন. লারমার গ্রুপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল কান্তি চাকমা, এ সময় বক্তব্য রাখেন, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এর সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন চাকমা,দপ্তর সম্পাদক মিটন চাকমা, চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক উদয় তঞ্চগ্যা প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে কোন আইন নেই যার মাধ্যমে প্রসীত বিকাশ খীসার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দাবী মেনে নিয়ে রাষ্ট্র পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন দেবে। সে জুম্মজাতিকে মিথ্যা স্বপ্নে দেখিয়ে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে বাঁধাগ্রস্থ করছে। গণতান্ত্রিক ঐক্য অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী উল্লেখ করে বক্তারা উন্নয়ন ও জুম্মজাতির অধিকার আদায়ে শামিল হওয়ার আহবান জানান।

এ সময় নেতৃবৃন্দরা ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত, খুনোখুনী বন্ধ করে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পথে সকলকে এক হওয়ার আহবান জানান। সে সাথে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে দল জুম্মজাতির অধিকার রক্ষা করে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করবে সে দলকে ভোট দিতে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আহবান জানান। এ সময় এমএন লারমা জুম্মজাতির জন্য পাহাড়ের শান্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন বলে মন্তব্য করেন জেএসএস নেতারা।

প্রসঙ্গ: গত ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (গণতান্ত্রিক) এর জম্ম হয়। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে আপোষ চুক্তি বলে পূর্ণ স্বায়ত্বশাসনের দাবীতে ১৯৯৮ সালে ২৬ ডিসেম্বর ইউপিডিএফ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা হয়। সংগঠনে র্দীঘদিন একসাথে থাকলেও আভ্যন্তরীন বিভিন্ন মত পার্থক্যের কারণে একটি পক্ষ বিভক্ত হয়। এর পর থেকে ইউপিডিএফের দু’পক্ষ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।