মহালছড়ি মিলনপুর বন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন!

॥ মহালছড়ি প্রতিনিধি ॥

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে মিলনপুর বন বিহারে অত্যন্ত আনন্দ উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গৌতম বুদ্ধের মহা উপাসিকা বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত নিয়মে ১৮তম কঠিন চিবর দান উৎসব সম্পন্ন হয়েছে।

১৪ নভেম্বর চড়কার মাধ্যমে তুলা থেকে সূতা বের করার পর সুতায় রং করা তারপর বেইন (কোমর তাঁত) বুনন ভিক্ষু সংঘের সুত্র পাঠের মাধ্যমে চিবর দানোৎসব শুরু হয়। এই চীবর তৈরি শেষে ১৫ নভেম্বর ভিক্ষু সংঘকে দান করার মাধ্যমে কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন হয়। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা পঞ্চশীল গ্রহণ, সকল প্রাণীর হিতার্থে সমবেত প্রার্থনা, ভিক্ষু সংঘ কর্তৃক ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন। এসময় আরো বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্ট পরিক্খার দানসহ নানাবিধ দান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রধান ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি রাজ বন বিহারের বিহারাধ্যক্ষ শ্রীমৎ মেত্তাবংশ স্থবির ও রাঙ্গামাটির কাউখালী ত্রীরত্নাংকুর বন বিহারের বিহারাধ্যক্ষ শ্রীমৎ ফুশ্য স্থবির উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বেও একইভাবে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রধান সংঘনায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মিলনপুর বন বিহারের বিহারাধ্যক্ষ শ্রীমৎ শ্রদ্ধাতিষ্য মহাস্থবির এবং প্রধান ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বেনুবন অরণ্য কুঠিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ পন্থক স্থবির। অনুষ্ঠানে ভিক্ষু সংঘকে সার্বজনীন চিবরটি দান করেন কঠিন চিবর দানোৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক শোভাকেতু চাকমা।

ধর্মীয় দেশনাকালে ভিক্ষুগণ সকল প্রাণীর মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে বলেন, এ কঠিন চিবর দানের প্রভাবে সবখানে শান্তি উদয় হবে এবং সকল প্রাণী দুঃখ হতে মুক্তি লাভ করবে। নির্বাণ লাভী হতে হলে দান-শীল-ভাবনা ছাড়া বিকল্প নেই। সবাইকে ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা-দ্বেষ, লোভ পরিহার করার আহবান জানান।