যাত্রী সেজে চালককে ছুরিকাঘাত, পাহাড়ী বাঙালী সংঘর্ষের আশঙ্কা!

॥ লংগদু প্রতিনিধি ॥

রাঙামাটির লংগদুতে ভাড়ায় চালিত মোটরবাইকের যাত্রী সেজে পথে চালককে গলায়, হাতে ও বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাত করে মুমুর্ষ অবস্থায় ফেলে রেখে মোটরবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। মোটরবাইক চালকের নাম জয়লাল হোসেন (২০) সে লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের গাউচপুর গ্রামের আব্দুল মোতালেব মিয়ার পুত্র। সন্ধ্যার পর দীঘিনালার বগাপাড়া এলাকায় এঘটনা ঘটে।

এঘটনায় পাহাড়ী বাঙালীর ভূল বুঝাবুঝির আশংকায় সেনাবাহিনী টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

আহতাবস্থায় মোটরবাইক চালক জয়নাল জানায়, বৃহষ্পতিবার বিকালে তারই পরিচিত রাঙ্গীপাড়া এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে নাসির হোসেন(২০) ও হাজাছড়া(পূর্বে গাউচপুর)এলাকার মোঃ সানি হোসেনের ছেলে মোঃ সজ্জল হোসেন(১৮) এরা দুইজনেই মোটরবাইক চালক তারা খাগড়াছড়ি বেড়াতে যাবার নাম করে আমার মোটরবাইক ভাড়া করে। আমি বাইকটি মাইনী নদী পার করে এদের দুইজনকে নিয়ে বাইট্টাপাড়া বাজারে আসি। তারপর সেখান থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। সন্ধ্যা প্রায় সাত ঘটিকার সময় দীঘিনালার বগাপাড়া নিরিবিলি এলাকায় পৌছলে যাত্রী দুইজন হঠাৎ আমাকে হত্যার করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে প্রথমে গলায় পরে হাতে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে। আমার অবস্থা আশংকাজনক হলে আমাকে মোটরবাইক থেকে ফেলে দিয়ে আমার গাড়ীটি নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। আমার হুশ থাকাতে অনেকক্ষন অপেক্ষা করার পর একটি মোটর সাইকেল আসতে দেখে সাহায্য চাইলে তারা আমাকে লংগদু হাসপাতালে নিয়ে আসে।

লংগদু থানার এস আই বিল্লাল হোসেন ঘটনা তদন্ত করেছেন, এখনও কেউ অভিযোগ করেন নাই। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

লংগদু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তন্ময় বড়ুয়া জানান, মোটরবাইক চালক ছেলেটিকে গলায়, হাতে ও বিভিন্ন জায়গায় ধারালো কিছু দিয়ে কেটে দিয়েছে। প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়েছে। অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক তাই রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়েছে।

এদিকে এঘটনায় যাতে পাহাড়ী বাঙালীদের মধ্যে কোন গুজব বা ভূল বুঝাবুঝি না হয় তার জন্য লংগদু জোনের পক্ষ থেকে সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে।