রাঙামাটিতে পাহাড়ি সংস্কৃতি-ঐতিহ্য রক্ষায় ভবিষ্যৎকরণীয় শীর্ষক মতবিনিময়

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙামাটিতে ‘জুম্ম সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় ভবিষ্যৎ করণীয় প্রাসঙ্গিক মতবিনিময়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে শহরের কাঠালতলীর নিজ কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভাটির আয়োজন করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী,সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠন ‘হিলর ভালেদী ও হিলর প্রোডাকশন’।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সুপ্রিয় চাকমা শুভ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা ও দৈনিক যুগান্তর’এর জেলা প্রতিনিধি সুশীল প্রসদ চাকমা, সংগঠনের উপদেষ্টা, বিশিষ্ট আইনীবী ও কণ্ঠশিল্পী চঞ্চু চাকমা ও সংস্কৃতি সংগঠক, সংগঠনের উপদেষ্টা সজীব চাকমা। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, হিলর ভালেদী ও হিলর প্রোডাকশনের সাধারণ সম্পাদক নিকেল চাকমা এবং অর্থ সম্পাদক অনন্ত চাকমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পারমিতা চাকমা।

সভায় পাহাড়িদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় এবং সংরক্ষণ, পুনঃরুদ্ধার ও বিকাশে ভিডিওচিত্র নির্মাণ, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা ও সাহিত্য বিষয়ক পুস্তক ও সাময়িকী প্রকাশসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্¦ারোপ করা হয়। রাঙামাটিতে যে সকল সংগঠন কাজ করে সাংস্কৃতিক অঙ্গণে ভূমিকা রেখে কাজ করে যাচ্ছে এসব কর্মকান্ড বাস্তবায়নে পার্বত্য শান্তিচুক্তির শর্ত মোতাবেক সরকারি সহায়তার দাবি জানানো হয়।

হিলর ভালেদী ও হিলর প্রোডাকশন সংগঠনের বক্তারা জানায়, এ পর্যন্ত নিজেদের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি ভিডিও ফিল্ম ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণ ছাড়াও সংগঠনটির উদ্যোগে দুস্থ ও শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, জেলার লংগদুতে অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে ত্রাণসহায়তা এবং ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে ত্রাণসহায়তাসহ বিভিন্ন আর্তমানবতা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া সংগঠনের নিজ উদ্যোগে ফ্রি চাকমা বর্ণমালা প্রশিক্ষণ ও সনদ বিতরণ পদক্ষেপ নিয়ে পাহাড়িদের নিজ বর্ণমালা সংরক্ষনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।