খাগড়াছড়ি আ’লীগের অমিমাংসীত দ্বন্দ্বের ফেইসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল!

॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥

খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনের নৌকার মনোনয়ন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের বহি: প্রকাশ ঘটেছে ফেইজবুক স্ট্যার্টাসে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে সে পাওয়া-না পাওয়ার কথা ভাইরাল হয়েছে ফেইজবুক স্ট্যার্টাসে। খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজের দেওয়া সে স্ট্যার্টাস ফেইজবুকে ভাইরাল হয়েছে।

বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে নিয়ে দেওয়া সে ফেইজবুক স্ট্যার্টাসে উঠে এসেছে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা শতাধিক মামলা, হামলা,অবহেলা, দল ক্ষমতায় থেকেও সুভিধা বঞ্চিত হওয়ার হৃদয়ের রক্তক্ষরণের কথা।
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে দুই মেরুতে অবস্থানের গল্পটা সে ফেইজবুক স্ট্যার্টাসে প্রকাশ্যে রূপ ধারণ করছে। ফলে বিগত দিনগুলোতে সভাপতি এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের অনুসারী ও কর্মী সমর্থকদের বিভাজনের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে এতে।

তার পরও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্ব আর সমস্যা সমাধান না করে পুনরায় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপিকে নৌকার মনোনয়ন দিলো,এমন প্রশ্ন সবার? খাগড়াছড়ি সকল সমস্যা যেনেও কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন সিদ্ধান্ত দলের জন্য অশনি সংক্ষেত বলে মনে করছে দলীয় একাদিক নেতাকর্মীরা। দ্বন্দ্ব মিমাংসা না হলে নৌকার জয় নিয়ে শঙ্কার কথাও ব্যক্ত করা হয়েছে এতে। খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজ এর ভাইরাল হওয়া ফেইজবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

“মাননীয় নেত্রী, খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনে আপনি যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তিনি তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী ওনার মামলার ভারে জর্জরিত। এইসব মামলার গ্লানি টানা পরিবারগুলা কিভাবে ওনাকে মেনে নিবে? মাননীয় নেত্রী আমি খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েও ওনার মামলার ভার মাথায় নিয়ে ঘুরতেছি,এমপি সাহেবের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত সারাজেলায় ৯৫ টা মামলার মধ্যে আজকেও একটা মামলার হাজিরা ছিল। আমার যদি এই অবস্থা হয় তাহলে বাকিদের অবস্থা একবার ভাবুন। এমপি সাহেবের দায়েরকৃত মামলায় আমি সহ আওয়ামীলীগের ৬৫ জন নেতাকর্মীরা আজকে হাজিরা দিয়েছি, মামলায় জর্জরিত আওয়ামী নেতাকর্মীদের পরিবারগুলা কিভাবে ওনাকে মেনে নিবে?

মাননীয় নেত্রী, আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আমাদের বিবদমান মামলা-হামলার সমস্যার সমাধান অতীব জরুরি। তৃণমূলের কর্মীরা অভিমানি হয়, বেঈমান নয়। আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটানো এই প্রার্থীর হয়েও কাজ করতে আমাদের কোন আপত্তি নেই, আপনি যাকেই দেন আমাদের ভোট নৌকায় পড়বে, এখন প্রয়োজন বিবদমান সমস্যার সমাধান অর্থাৎ দলীয় কোন্দল মিটানো,সময় থাকতে ভোটের আগেই সমস্যার সমাধান খুবই জরুরী। মাননীয় নেত্রী সর্বোপরি আপনার জন্যে আমরা জীবন দিতেও প্রস্তুত।”