কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারি যাত্রীসাধারণসহ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর হচ্ছে জেলা প্রশাসন

॥ আলমগীর মানিক ॥

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ রাঙামাটির কাপ্তাই লেক‘কে দূষণমুক্ত রাখতে এবং লেকে নৌ-দূর্ঘটনা এড়াতে এক নৌ-যানগুলোতে লাইফ জ্যাকেটসহ দূর্ঘটনা প্রতিরোধক সকল প্রকার সরঞ্জাম সংযোজনে এক সপ্তাহ সময় বেধে দিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, আপনারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আপনারা উদ্যোগ নানিলে আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিষ্ট্রেট এর মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জেলা প্রশাসক বলেন, কাপ্তাই হ্রদকে রক্ষায় এখনই যদি আমরা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করি তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই হ্রদের পানি যেমনিভাবে ব্যবহার করা যাবেনা, তেমনিভাবে হ্রদের মাছও খাওয়ার মতো রুচি থাকবেনা। এছাড়াও হ্রদে চলাফেরাও কঠিন হয়ে উঠবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। এই প্রেক্ষাপটে কাপ্তাই হ্রদের উপর চলাচলকারী নৌ-যানগুলোকে সকল প্রকার নিয়মকানুন মেনেই চলতে তথা আইন মানতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ।

তাই কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারি নৌ-যানগুলোর সমিতি বা সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তাদের প্রতিটি সদস্যকে নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সঠিক নিয়মকানুন মেনে চলার মানসিকতা গঠনে উদ্যোগ নিতে রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতি, দেশীয় নৌ-যান সমিতি, স্প্রিড বোট, টুরিষ্ট বোট মালিক সমিতিসহ কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্ভরশীল বিভিন্ন সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম, টুরিষ্ট পুলিশ, বিআইডব্লিউটিআইয়ের প্রতিনিধি, লঞ্চ মালিক সমিতি স্প্রিড বোট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত থেকে মতবিনিময় করেন।

বৈঠকে জেলা প্রশাসক বলেন, সম্প্রতি কাপ্তাই হ্রদে বোটওয়ালার অসচেতনতার কারনেই একজন যাত্রী (যে কিনা উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) কাপ্তাই হ্রদের পানিতে পড়ে মারা যায়। এই ধরনো দূর্ঘটনা কারোই কাম্য নয় এবং এটা যে প্রতিদিন ঘটছে সেটাও নয়। কিন্তু আমরা সকলেই যদি নিজিদের অবস্থান থেকে সচেতন হই তাহলে হয়তো এসকল অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো আমরা এড়াতে পারতাম।

রাঙামাটির যাত্রীবাহি নৌ-যানগুলোর সংগঠনগুলো থেকে সচেতনতামূলক কর্মকান্ড এক্কেবারেই দৃশ্যমান নয় মন্তব্য করে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা চাই আপনারা এসব ব্যাপারে এগিয়ে আসুন। রাঙামাটিবাসী এবং অত্রাঞ্চলে আগত পর্যটকদের জন্য এসকল সংগঠনগুলোর সদস্যদেরকে সাংগঠনিকভাবে আরো দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

বৈঠকে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সার্বিক মতামতের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক জানান, কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারি নৌ-যানগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানোয় নিষেধাজ্ঞা, প্রতিটি নৌ-যানে(লঞ্চ, বোট, টুরিষ্ট বোট, স্প্রিড বোট) প্রয়োজনীয় লাইফ জ্যাকেট, দূষণ এড়াতে একটি করে ডাষ্টবিন বাস্কেট, অগ্নি নির্বাপক স্যালিন্ডার রাখাসহ বক্স টয়লেট স্থাপন করতে হবে।

অন্যথায় আগামী এক সপ্তাহ পর হতে ম্যাজিষ্ট্রেট এর মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও হ্রদে চলাচলকারি টুরিষ্ট বোটগুলোতে এখন থেকে পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো প্রকার সাউন্ড সিষ্টেম বা মাইক ব্যবহার করা যাবেনা। এর ব্যতয় ঘটনোর চেষ্ঠা হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উক্ত বোট ও সাউন্ড সিষ্টেম জব্দ করার হুশিয়ারিও দেন জেলা প্রশাসক।

এদিকে বৈঠকে স্প্রিড বোট মালিকরা জানিয়েছেন, এখন থেকে লঞ্চ ঘাটগুলোতে কোনো প্রকার যাত্রী উঠানামা করবে না তারা। এছাড়াও যাত্রীবাহি লঞ্চ থেকে কোনো যাত্রী উঠানো হবেনা। এছাড়া রাঙামাটি থেকে সম্প্রতি চালু হওয়া উপজেলাগুলোতে চলাচলকারি স্প্রিডবোটগুলোকে একটি নিয়মের মাধ্যমে নিয়ে এসে নির্দিষ্ট্য হারে ভাড়া নির্ধারণ করে দিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে উক্ত বৈঠকের মূল স্টেক হোল্ডার রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট্য দাবি-দাওয়াগুলো উত্থাপন করলেও জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্যদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত মতামতের কোনো সঠিক উত্তর বা পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেননি লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।