শিক্ষানুরাগী ডিসি মামুনুর রশিদের বদান্যতায় পাহাড়ের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের চোখে আশাঁর আলো

॥ আলমগীর মানিক ॥

প্রশাসক থেকে দিনে দিনে শিক্ষানুরাগী হিসেবে খ্যাতি পাচ্ছেন রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। পিছিয়ে পড়া রাঙামাটি জেলায় গরীব, অসহায় ও অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখায় জনমনে তিনি এক ব্যতিক্রমধর্মী ও শিক্ষানুরাগী জেলাপ্রশাসক হিসেবে এক অনন্য স্থান দখল করে নিয়েছেন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে ইচ্ছুক এক অস্বচ্ছল নারী শিক্ষার্থীর আবেদনে সাড়া দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার হাতে অর্থ সহায়তা চেক তুলে দেওয়ায় বিষয়টি আবারও টক অব দি টাউনে পরিণত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের বেশ কিছু সংস্কারধর্মী ও জনমূখি উদ্যোগের একটি হলো জেলাপ্রশাসনের গণশুনানী। সাধারণত জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সাধারণ মানুষ নানাভাবে নিগৃহীত এবং বিচারহীনতার শিকার হয়ে থাকেন। এই প্রত্যন্ত মানুষদের কথা মাথায় রেখেই এই সরকারের বর্তমান মেয়াদের মাঝামাঝি থেকে জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ে গণশুনানীর রেওয়াজ চালু হয়। গণশুনানী সবার জন্য উন্মুক্ত এবং সকলেই এখানে তাদের যে কোনো সমস্যা নিয়ে জেলাপ্রশাসনে আবেদন করে গণশুনানীতে অংশ নিতে পারেন।

রাঙামাটি জেলায় গণশুনানীর জন্য সাপ্তাহিক নির্ধারিত দিন হচ্ছে বুধবার। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে ডিসি মামুনুর রশিদ ইতোমধ্যে গণশুনানীর জন্য ইতোমধ্যে প্রত্যন্ত উপজেলা সমূহে স্বশরীরে গিয়েও শুনানী করে এসেছেন। এবং তিনি ঘোষণা করেছেন, দুর্গম অঞ্চলের মানুষের আসতে অসুবিধা হলে এবং তারা চাইলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সেও গণশুনানীতে অংশ নিতে পারবে।

বর্তমান জেলা প্রশাসক রাঙামাটিতে যোগদানের পরপর গণশুনানীর সুযোগ নিয়ে শহরের জালিয়া পাড়ার এক শিক্ষার্থী বই কিনতে পারছে না বলে শুনানীতে অংশ গ্রহণ করে। জেলাপ্রশাসক এ কথা শুনে সাথে সাথেই বই কিনে ওই শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষনিকভাবে উপহার দেন। এই উদাহরণের রেশ ধরে এর পর প্রায় প্রতিটি গণশুনানীতেই কোনো না কোনো শিক্ষার্থী তার প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনের যৌক্তিকতা বিবেচনা করে জেলাপ্রশাসক কাউকেই খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। সংখ্যাটি তাৎক্ষনিকভাবে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক জানাতে না পারলে এ সংখ্যা অনেক বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৮ নভেম্বর) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত গনশুনানিতে এক অসচ্ছল মেধাবী ছাত্রী ভর্তি ফি এর জন্য আবেদন করেন। ছাত্রীটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে নির্বাচিত হলেও আর্থীক অস্বচ্ছলতার কারণে ভর্তি ফি না থাকায় ভর্তি হতে পারছে না বলে জানায়। সে জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত গনশুনানিতে উপস্থিত হয়ে ভর্তি ফি এর জন্য আবেদন করে।

মেধাবী এই শিক্ষার্থীর কথা শুনে সাথে সাথেই জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনর রশিদ ভর্তি ফি বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে তাকে চেক প্রদান করেন। পাশাপাশি জেলাপ্রশাসক ওই শিক্ষার্থীকে তার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার উপদেশ প্রদান করে বলেন, প্রয়োজনে পরবর্তীতে মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় যাওয়ার নজির স্থাপন করে এই জেলাপ্রশাসকের একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।