স্ত্রী নির্ভরশীল ফখরুল-ওবায়দুল!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজের কোনো গাড়ি নেই। স্ত্রীর কাছ থেকে প্রাপ্ত একটি প্রাইভেটকার আছে। স্ত্রীর ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ১৪০ টাকার একটি গাড়ি আছে সেটাই তিনি ব্যবহার করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নিজস্ব কোনো বাড়ি বা এপার্টমেন্ট নেই। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- উত্তরায় অর্জনকালীন সময়ের ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি এবং পৈতিৃক সম্পত্তি হিসেবে ৬০ শতাংশ অকৃষি জমি। স্ত্রীর অর্জনকালীন সময়ের ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হলফনামায় যা আছেঃ

পিতা মির্জা রুহুল আমিন, মাতা ফাতেমা আমিন, ঠিকানা মহল্লা-কালিবাড়ী, ওয়ার্ড নং-০৬, ডাকঘর-ঠাকুরগাও, থানা-ঠাকুরগাও সদর, উপজেলা- ঠাকুরগাও সদর, জেলা- ঠাকুরগাও।

তার নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাও-১। এছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের আসনেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

পেশায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা ও পরামর্শক।

হলনামায় বর্তমান ফৌজদারি মামলার পূর্ণাঙ্গ তালিকা ইসিতে পাওয়া যায়নি। তবে ‘আংশিক’ তালিকা অনুযায়ী-৩৮টি মামলার মধ্যে তিনটিতে অব্যহতি পেয়েছেন।

অতীতে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল ৭টি। ছয়টিতে তিনি অব্যহতি পেয়েছেন। আর একটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর নথিজাত করা হয়েছে।

আয়ের খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন- কৃষিখাত থেকে বছরে আয় ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়িভাড়া/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া খাতে ফখরুলের কোনো আয় না থাকলেও এ খাতে তার স্ত্রী বছরে আয় করেন ৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৮৮ টাকা। তিনি ব্যবসা থেকে আয় করেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৪টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত ১ লাখ ৪১ হাজার ১৮১/৮৭ টাকা। তার স্ত্রী শেয়ার থেকে ৮৪ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে আয় করেন  ২০ লাখ টাকা। পেশা (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক ইত্যাদি) থেকে বছরে আয় করেন ৬ লাখ টাকা। চাকুরী করে বছরে সম্মানী ভাতা পান ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। তার স্ত্রী চাকুরী থেকে বছরে বেতন থেকে আয় করেন ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪০ টাকা। তিনি বছরে ব্যাংক সুদ পান ২ হাজার ৮০৫টাকা। তার স্ত্রী ব্যাংক সুদ থেকে ২৬ হাজার ৯০৭ টাকা এবং ডিপিএস থেকে পান ১১ লাখ ১৯ হাজার ৩৮৮টাকা।

মির্জা ফখরুলের বছরে আয় ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৩ টাকা। মাসিক গড় আয় ৯৪ হাজার ২৮৬ টাকা।

অস্থাবর সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন-নগদ টাকা আছে ৪২ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৫/৩২ টাকা। তার স্ত্রীর হাতে আছে ৫ হাজার ৩১২ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৮১/৭৮ টাকা। তার স্ত্রীর আছে ২১ লাখ ৭২ হাজার ৮৭০/৭৪ টাকা। দি মির্জাস প্রা. লিমিটেডে উত্তরাধিকার সূত্রে তার শেয়ার আছে ৬৫৮টি।

নিজের নামে ফখরুলের সঞ্চয় পত্র না থাকলেও স্ত্রীর নামে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে। আছে ১০ ভরি সোনা, যা বিয়ের সময় দান হিসেবে পেয়েছেন। তার স্ত্রীর ২ লাখ টাকার স্বর্ণ আছে।

১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ১টি টিভি, ২টি ফ্রিজ, ১টি এসি, ২টি ডেকসেট আছে। তার স্ত্রীর ১ লাখ টাকা ইলেকট্রনিক সামগ্রী আছে।

১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের খাট, সোফা সেট ও ডাইনিং টেবিল আছে। স্ত্রীর ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র আছে।

স্থাবর সম্পদের হিসেবে উল্লেখ করেছেন- অর্জনকালীন মূল্যের ৬০ হাজার টাকার ৫ একর কৃষি জমি আছে। তার স্ত্রীর আছে অর্জনকালীন মূল্যের ৫০ হাজার টাকার জমি। ৫ লাখ টাকার অর্জনকালীন সময়ের মূল্যের ৪ শতক অকৃষি জমি। স্ত্রীর আছে ৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা মূল্যের ৫ কাঠা অকৃষি জমি।

অর্জনকালীন ১০ লাখ টাকার দোতলা বাসার একাংশ আছে। নিজের কোনো এপার্টমেন্ট না থাকলেও তার স্ত্রীর ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এপার্টমেন্ট আছে।

ওবায়দুল কাদেরের হলফনামায় যা আছেঃ

পিতা-মৃত মোশারফ হোসেন, মাতা-ফজিলাতুন্নেছা, ঠিকানা- মোশারফ হোসেন বাড়ি, গ্রাম-বড় রাজপুর, ১নং ওয়ার্ড, বসুরহাট পৌরসভা, ডাকঘর-বসুরহাট, উপজেলা-কোম্পানীগঞ্জ, জেলা- নোয়াখালী।

তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী-৫

মামলার সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন- বর্তমানে তার নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। অতীতে ১২টি মামলা দায়ের হয়েছিল। অব্যাহতিমূলে ৯টি নিষ্পত্তি এবং ৩টিতে খালাস পেয়েছেন।

পেশা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, বেসরকারি চাকরি (বর্তমানে এমপি ও মন্ত্রী হিসেবে বেতন ভাতা পাই এবং বই ও পত্র পত্রিকায় লিখে আয় করি)।

আয়ের স্থানে তিনি উল্লেখ করেছেন- বাড়িভাড়া/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বছরে আয় ১৩ লাখ ৬৮ হাজার, পেশা (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক ইত্যাদি) ১২ লাখ ৬০ হাজার, বই লিখে আয় ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫১টাকা। ৩১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫১টাকা। মাসিক গড় আয় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ টাকা ২৫ পয়সা।

স্ত্রীর আয়ের স্থানে তিনি উল্লেখ করেছেন- বাড়িভাড়া/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বছরে আয় ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৩৬টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৬০টাকা,  পেশার স্থানে লেখা আছে প্রযোজ্য নয়, অন্যান্য আয় দেখিয়েছেন- ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫১৯ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজের নগদ টাকা আছে ৫৫ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৮৩ লাখ ৫৮হাজার ৭৪২ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয় পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ১ কোটি ২৪ লাখ ২১ হাজার ২৭৮টাকা। বাস, ট্রাক, মটর গাড়ি ও মটর সাইকেল ইত্যাদি বিবরণী (পরিমাণ, অর্জনকালীন সময়ের মূল্যসহ) ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২৫ তোলা স্বর্ণ আছে।

তিনি উপহারে পাওয়া মোবাইল ব্যবহার করেন। নিজের নামে ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র আছে।

স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে- স্ত্রীর হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা আছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২৬ লাখ ৩৪হাজার ৬১১ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয় পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৫৫ লাখ ৯ হাজার ৮৪৫টাকা, ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি নেই। ১ লাখ টাকা মূল্যের ২০ তোলা স্বর্ণ আছে। ১২ হাজার টাকার (টিএন্ডটি ও মোবাইল) আছে। আছে ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র।