সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষিত বেকারদের জন্য ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে ঐক্যফন্ট!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

আগামী নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী হলে ত্রিশোর্ধ্ব শিক্ষিত বেকারদের জন্য চালু হবে বেকার ভাতা। এ ছাড়া সেনাবাহিনী ও পুলিশ ছাড়া সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা থাকবে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে তরুণদের জন্য এমন বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঐক্যফ্রন্ট সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এজন্য বিএনপি, গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য থেকে একজন করে প্রতিনিধির সমন্বয়ে ইশতেহার কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি এ খসড়া চূড়ান্ত করেছে।

ইশতেহারের এই খসড়া জোটের স্টিয়ারিং কমিটির কাছে পাঠানোর পর জোটের শীর্ষ নেতারা সম্মতি দিলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার কমিটিতে রয়েছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মাহফুজ উল্লাহ, আ ও ম শফিক উল্লাহ, শহীদ উদ্দিন, ইকবাল সিদ্দিকী ও জাহেদ উর রহমান।

ইশতেহারে আকর্ষণীয় বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোনের চার্জ অর্ধেকে নামিয়ে আনা, দেশে বিভিন্ন স্থানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা, সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো হামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইবুনাল করা।সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের যেসব প্রতিশ্রুতি থাকছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, একাধারে দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা, অনাস্থা ভোট ও অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের দলের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার অনুমতি। এছাড়া জাতীয় সংসদ উচ্চকক্ষ সৃষ্টি করা এবং বিভিন্ন দল থেকে সেখানে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে না। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে যে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি রয়েছে তা বাতিল করা হবে। সকল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার চালু করা হবে।

ইশতেহারের খসড়ায় খাতভিত্তিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে। এর মধ্যে নাগরিক নিরাপত্তার বিধান করতে জোর প্রতিশ্রুতি থাকবে। যেমন, সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার করা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল, মামলাজট কমাতে উচ্চআদালতের ছুটি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি থাকবে। সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বন্ধ করার ঘোষণা থাকবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হবে। মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি জেএসসি-পিইসি পরীক্ষা বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পরীক্ষাগ্রহণ, ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যে দেশের সব প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও খসড়ায় গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

খসড়া ইশতেহারে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত, উচ্চ আদালকের বিকেন্দ্রীকরণ, বিভাগীয় সদরে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। ত্রিশোর্ধ্ব শিক্ষিত বেকারদের জন্য ভাতা, তিন বছরের মধ্যে সব সরকারি শূন্য পদে নিয়োগের নিশ্চয়তা থাকবে। প্রস্তাবিত খসড়া ইশতেহারে কৃষক-শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি থাকবে ইশতেহারে। থাকবে দারিদ্র্য আরও কমিয়ে আনার বিষয়টিও। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও স্ব অবস্থান- এ তিন অঙ্গীকারের মধ্যে দিয়ে নবধারার রাজনীতি ও সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে। থাকছে নতুন নতুন চমক ও অঙ্গীকার।

জানা গেছে, রাজনীতিতে অতীতমুখিতা বা প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে নতুন ধারার সৃষ্টি, জাতীয় সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি থাকবে ইশতেহারে।শিক্ষা ক্ষেত্রে কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সব সরকারিকরণ করা হবে। বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের চাকরি পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করা হবে। শিক্ষক নিয়োগে শতভাগ মেধা অনুসরণ করা হবে।

আইন ও বিচার বিভাগের সংস্কার, বিচারকদের স্বচ্ছ নিয়োগ পদ্ধতি ও বিচার কাজে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, হাইকোর্টের বিচারপতিদের বার্ষিক ছুটি ৪ সপ্তাহে সীমিতকরণ ও সর্বোচ্চ ৫ বছরের মধ্যে মামলার রায় চূড়ান্ত করা হবে। ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, আমরা ইশতেহার কমিটিতে ছয়জন ছয়টা প্রস্তাব দিয়েছি। এগুলো চূড়ান্ত করা হলে আশা করি ১০ ডিসেম্বর নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের আগেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার প্রকাশ করা যাবে।

৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এর চূড়ান্ত খসড়া স্টিয়ারিং কমিটিতে জমা দেওয়া হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্টিয়ারিং কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে ১০ ডিসেম্বরের আগেই প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ইশতেহার।