মাদকসেবীদের তথ্য সরাসরি আমাকে দিন, জিরো টলারেন্সের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিবোঃ ডিসি রাঙামাটি

॥ আলমগীর মানিক ॥

পাহাড়ে মাদকের অবাধ ব্যবহার বন্ধে পারিবারিক উদ্যাগের পাশাপাশি অত্রাঞ্চলে কর্মরত সরকারী-বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এনজিও গুলোর মাধ্যমে তৃণমুল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করার আহবান জানিয়েছেন রাঙামাটির বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী-বেসরকারী প্রতিনিধিবর্গ।

মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এর পার্টনারশিপ স্ট্রেনদেনিং ইউনিট এর আয়োজনে “মাদক ও তার প্রতিকার” বিষয়ে ফোকাস্ গ্রুপ ডিসকাশন নিয়ে রাঙামাটিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেছেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে মাদকের ব্যবহার অতোটা বাড়েনি। এই অঞ্চলে পাহাড়িদের বাড়িতে নিজস্ব ব্যবহারের জন্য তৈরিকৃত চোলাই মদ দিয়ে মাদকের বিচরণ হচ্ছে এমনটা নয়। এখানে ইয়াবা-গাঁজাসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্যের ব্যবহার হচ্ছে। এবং এসবের কারনেই যুব সমাজ অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে শুধুমাত্র আইনের প্রতি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে বসে থাকলে কাজের কাজ কিছুই হবেনা। মাদকসেবী মাদকের সাথে জড়িত ব্যবসায়িসহ সংশ্লিষ্ট্যদের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে সামাজিকভাবে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। রাঙামাটিতে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকবলের সংকটসহ এই বিভাগটির কাছ থেকে কোনো প্রকার সহযোগিতা রাঙামাটি জেলা প্রশাসন পায়না জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে তথ্য সরাসরি আমাকে দিন, আমি জিরো টলারেন্সের মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিবো এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম শফি কামাল এর সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উত্তম কুমার দাশ, জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ খোরশেদ আলম, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক রূপনা চাকমা, রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনতোষ মল্লিক, জেলা কর্মসংস্থার ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক নীহার কান্তি খীসা, ব্র্যাকের রাঙামাটি কেন্দ্রের পরিচালক সমীর কুন্ড, পৌর কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা, বাংলাদেশ বেতারের বার্তা প্রতিনিধি সাংবাদিক নন্দন দেবনাথ, দৈনিক রাঙামাটির চীফ রিপোর্টার আলমগীর মানিক, বেসরকারি এনজিও প্রোগ্রেসিভ এর নির্বাহী সুচরিতা চাকমাসহ বিভিন্ন চিকিৎসক, সমাজ সেবা কর্মকর্তা, এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিবর্গ উক্ত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করে পাহাড়ে মাদকের অবাধ বিস্তাররোধে বিভিন্ন সুপারিশমালা তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, রাঙামাটির পুলিশ বিভাগ মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মাদক ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহবানও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, সভায় মতবিনিময়কালে উঠে আসা বেশ কিছু সুপারিশমালার মধ্যে উল্লেযোগ্য সুপারিশগুলো হলো: রাঙামাটি জেলা মাদকের ক্ষেত্র ও মাদক সেবীদের অবস্থান নিশ্চিত করা জায়গা গুলোতে পুলিশ অভিযান নিশ্চিত করা, সন্ধ্যার পর স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা যাতে রাস্তা ও বিভিন্ন বেশ কিছু পয়েন্টে ঘোরা ফেরা না করে তার জন্য মাইকিং করা। মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী, ব্যবহারকারী তালিকা প্রণয়ন করে তাদের পরিবারবর্গকে সচেতন করারসহ বেশ কিছু সুপারিশ মালা দেয়া হয়।
সভায় ব্র্যাকের প্রতিনিধি সমীর কুন্ড জানান, ব্র্যাক পার্বত্যাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠির ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে দীর্ঘ বছর ধরে। এরই আলোকে পাহাড়ের নতুন প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছৌবল থেকে রক্ষায় কিভাবে কাজ করা যায় এবং এই লক্ষ্যে করনীয় নির্ধারনে ব্র্যাকের উদ্যোগে মাদক ও তার প্রতিকার নিয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়েছে। এখান থেকে প্রাপ্ত সুপারিশমালা উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হবে। এরই আলোকে সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনানুসারে পাহাড়ে মাদকের অবাধ ব্যবহার বন্ধে এবং যুব সমাজকে মাদকের কুফল সম্পর্কে অবহিতকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।