সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই গণশুনানীঃ ডিসি রাঙামাটি

॥ সৌরভ দে ॥

গণশুনানীর মাধ্যমে রাঙামাটিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেছেন, সরকারি সেবাসমূহ জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যেই গণশুনানীর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রত্যন্ত এলাকার অতি সাধারণ মানুষটিও যেন প্রশাসনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে তার অভাব অভিযোগ তুলে ধরতে পারে। তিনি বলেন এখানে যারা তাদের অভাব অভিযোগ নিয়ে গণশুনানীর সুযোগে জেলা প্রশাসকের পাশে বসে তার মনের কথা বলতে পারছে, অনেক সময় দেখা যায় এই সাধারণ মানুষগুলো তার ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছেও ঘেঁষতে পারে না। এতে অনেকেই নানা প্রবঞ্চনার শিকার হয়।

জেলাপ্রশাসক যোগ করেন যে, আমরা সরকারি সিদ্ধান্তেই গণশুনানীর আয়োজন করেছি। তবে এ ক্ষেত্রে মানুষের কথা দরদ দিয়ে শোনার ক্ষেত্রে হয়তো ব্যক্তিক ভিন্নতা থাকতে পারে। এ সময় তার সাথে গণশুনানী করতে আসা কয়েকজন ভিক্ষুক দেখিয়ে তিনি বলেন, ওরাও দেশের নাগরিক, তাদেরও সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা পাওয়ার শাশ্বত অধিকার রয়েছে। বুধবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাক্কালে রাঙামাটির সর্বস্তরের গণমাধ্যম কর্মীরা জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করতে গেলে তিনি এই মত ব্যক্ত করেন।

সুপ্রাচীন কাল থেকেই ঐতিহ্যগতভাবে জেলা প্রশাসকগণ জন কল্যাণার্থে জনগণের সাথে গভীরভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজ করে আসছেন। আধুনিক জনপ্রশাসনকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করতে জনগণের সমস্যা সম্ভবনা নিয়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে গণশুনানী নামে জেলা প্রশাসকের সাথে জনগণের আলোচনা/সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের সাক্ষাৎ ছাড়াও প্রতি বুধবার দিনব্যাপী বিশেষভাবে জেলা প্রশাসক জনগণের অভাব, অভিযোগ, আবেদন, নিবেদন শুনছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য বিষয়সমূহ তৎক্ষণাৎ নিষ্পত্তি করে জনগণকে সেবা প্রদান করছেন। এছাড়াও টেলিফোনে বা লিখিতভাবে বিভিন্ন দপ্তর/ব্যাক্তির সাথে যোগাযোগ করে জনগণের অভাব, অভিযোগ, আবেদন, নিবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। গণশুনানীর সিদ্ধান্তসমূহ লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য পাঠানো হচ্ছে। সাধারণ জনগণ তাদের যেকোনো সমস্যা বা বিষয় প্রতি বুধবার অনুষ্ঠিত গণশুনানীতে জেলা প্রশাসককে জানাতে পারবে।

এই বিষয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, আমরা গণশুনানীতে যেসব সমস্যার সমাধান দেই পরে তার বিষয়ে ফলোআপ করে দেখি সমাধান হলো কিনা। তিনি জানান, সপ্তাহে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে বুধবার দেশের সকল জেলা প্রশাসকগণ দাপ্তরিক কাজ থেকে অব্যহতি নিয়ে গণশুনানীতে সময় দিয়ে থাকেন। প্রতি বুধবারে গণশুনানীতে দুস্থ রোগিদের জন্য ঔষধ বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বই কিনে দেওয়া, স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আর্থিক সহায়তা এবং ঘর সংস্কারের জন্য টিন বিতরণসহ জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ও গণশুনানীতে সমাধান করা হয়ে থাকে।

ডিসি মামুনুর রশীদ আরো বলেন, জেলা হিসেবে রাঙামাটি দেশের সর্ববৃহৎ এবং জেলার বৃহৎ একটি অংশ দুর্গম হওয়ায় সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌছে দেওয়া অনেক কঠিন একটি ব্যাপার। তারপরও জেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা হতে সুবিধা বঞ্চিত মানুষ জেলা প্রশাসনের দ্বারে আসেন তাদের অভিযোগ নিয়ে, আমরাও এই বিষয়টি মাথায় রেখে অভিযোগকারীর বিভিন্ন অভিযোগ আমলে নিয়ে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি। যেসব বিষয় তাৎক্ষনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না সেসব বিষয় প্রশাসনের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং উক্তসকল অভিযোগসমূহ নিষ্পত্তি হয়েছে কিনা তা পরবর্তীতে তদারকি করা হয়।

তবে জেলাপ্রশাসনের একজন কর্মকর্তা এ সময় সাংবাদিকদের জানান, এখন বেশির ভাগ মানুষ আর্থিক সাহায্য নিতেই গণশুনানীতে ভীড় জমাচ্ছে। স্যার তাদের সাথে যদিও আন্তরিকতার সাথে কথা বলেন, তবে তিনি চান মানুষ প্রশাসনিক জটিল সমস্যা নিয়ে তার কাছে আসুক।

৫ ডিসেম্বর বুধবার গণশুনানীতে বাঘাইছড়ি শিজক কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা ও শহরের এক শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্নালিজম বিভাগে ভর্তির জন্য ৬ হাজার টাকা নগদ প্রদান করেন। এছাড়াও ৬ জনকে ঔষধ কিনতে নগদ ৫শ’ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পরে সম্প্রতি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ থেকে মোবাইল ফোনে বেসরকারি চ্যানেল এশিয়ান টিভির জেলা প্রতিনিধি ও সিএইচটি টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক সাংবাদিক আলমগীর মানিককে জীবন নাশের হুমকি দেয়ার বিষয়টি গণশুনানীতে তোলা হলে জেলা প্রশাসক বিষয়টি অবহিত হয়েছেন জানিয়ে এই ব্যাপারে পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে।