জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতার আত্মসমর্পন!

॥ আল-মামুন – খাগড়াছড়ি ॥

নিজেকে ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেডিক ফ্রন্ট ইউপিডিএর এর নানিয়ারচর সার্কেলের বিচার ও সাংগঠনিক পরিচালক দাবী করে আনন্দ চাকমা ওরফে পরিচিতি নামে এক মধ্য বয়সী যুবক প্রেস কনফারেন্স করেছে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে। অস্ত্রের পথ ছেড়ে নিজ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত পথ ছেড়ে শন্তির পথে স্বাভাবিক জীবনে ফিরার কথা সাংবাদিকদের কাছে জানান তিনি।

বুধবার রাতে একটি বিদেশী পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলিসহ সেনাবাহিনী কাছে আত্মসমর্পন করেন তিনি। সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোনে এসে অস্ত্র সমর্পন করার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি করা হলে তিনি জানান, অনেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় কিন্তু ইউপিডিএফ এর ভয়ে আত্মসমর্পনের সাহস করছেন না তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব কনফারেন্স রুমে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় পাহাড়ে চলমান সংঘাতে জীবনের নিরাপত্তা না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি ৩৬ বছর ধরে জঙ্গলে জীবন কাটানোর দুঃসহ জীবনের কথা জানান।  খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাসিন্দা আনন্দ চাকমা প্রায় ৩৬ বছর ধরে গেরিলা জীবন কাটাচ্ছেন। গত ৪ বছর ধরে তিনি ইউপিডিএফ এর সঙ্গে জড়িত বলে জানান।

আনন্দ চাকমা জানান, ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের কাছে একে-৪৭, এসএমজি, চাইনিজ রাইফেল, এলএমজি, একাশি ও এম-১৬ এর মতো বিপুল ভারী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।

শান্তিবাহিনী, জনসংহতি সমিতি ও গত চার বছর ইউপিডিএফ (প্রসীত) হয়ে কাজ করেছি। জীবনের ৩০ বছর আমি জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে জীবন যাপন করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠির অধিকার আদায় ও তাদের উন্নতির যে লক্ষ্য নিয়ে যুবক বয়সে এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম তা থেকে ইউপিডিএফ সম্পূর্ণভাবে বিচ্যুত। ইউপিডিএফ’র কোন নীতি ও আদর্শ নেই। তারা সকলেই রক্তের নেশা ও ক্ষমতার মোহে পড়ে আছে।

চাঁদাবাজি, মানুষকে হয়রানী আর ভয়ভীতি ও অন্যায়-অত্যাচার করে সকলে নিজেদের আখের গুছাতে ব্যস্ত। গুম, খুন, হত্যা ও অপহরণই বর্তমানে তাদের কাজ। ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের কাছে স্বজাতীয় কোন ভাই-বোনও নিরাপদ নয়। আমারও স্ত্রী, এক ছেলে ও ডিগ্রি ৩য় বর্ষে পড়ুয়া একটি মেয়ে রয়েছে। এ কারণে অনেক ভেবে-চিন্তে অন্যায়ের পথ ছেড়ে সুস্থ্য, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার মত অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। কিন্তু ইউপিডিএফ হত্যার ভয় দেখাচ্ছে। এ জন্য তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারছে না।

আনন্দ চাকমা জানান, জঙ্গলের অস্বাভাবিক জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আসায় পরিবারের সদস্যরা আনন্দিত। আমার এক ছেলে সরকারি চাকরি করছে। আমার মেয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। আমিও এই স্বাধীন দেশের উন্নয়নের ধারায় নিজেকে সম্পৃক্ত করে আমার বাকী জীবনটা একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে সুখে-শান্তিতে অতিবাহিত করতে চাই।

এ সময় তিনি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো ৪ ভাগে বিভক্ত হয়ে খুন, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজীতে ব্যস্ত উল্লেখ করে বিগত সময়ে হত্যাসহ নিজেদের নেতাকর্মীদের নানা ঘটনায় উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন।

সে সময় তিনি তার ছেলে-মেয়েদের নিরাপত্তার কথাও তুলে ধরেন। তাই বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহযোগিতার প্রস্তাব করেন। আনন্দ চাকমা ওরফে পরিচিতি প্রথমে মহালছড়ি জোন কমান্ডার এর কাছে অস্ত্র সমর্পন করে বিষয়টি খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।