শুধুমাত্র আত্মসম্মান রক্ষার্থে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন বৈধ করিয়েছিঃ মাম্যাচিং

॥ বান্দরবান প্রতিনিধি ॥

নির্বাচন কমিশনে আপিল করে বান্দরবানে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মাম্যাচিং মনোনয়ন বৈধ করালেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। শুধুমাত্র বিরোধী গ্রুপের কাছে আত্মসম্মান বজায় রাখতেই তিনি তার মনোনয়ন বৈধ করালেন এমনটাই জানিয়েছেন রাজ পুত্রবধু মাম্যাচিং।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেয়া মনোনয়ন পত্রে দলের মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর জাল ছিল অপর প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাম্যাচিং এর মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার। পরে মাম্যাচিং মির্জা ফখরুলের কাছ থেকে মনোনয়নের হলফনামা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তা বৈধ করেন।

শনিবার মাম্যাচিং এর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে কমিশন। তবে শুধুমাত্র সাচিং প্রু জেরীর অভিযোগের প্রমাণ দিতে আপিল করে মনোনয়ন বৈধ করেন মাম্যাচিং।

আপিলের এ সময়টিতে মাম্যাচিং ঢাকায় অবস্থানের সময় বান্দরবানে তার বড় বোন মারা গেলেও তিনি সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বান্দরবানে বিএনপিতে বোমাং রাজ পরিবারের দুই সদস্য রাজ পুত্রবধু মাম্যাচিং ও রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরীর মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

এরা দুজনেই আবার সম্পর্কে মামি-ভাগ্নে। এই দ্বন্দ্বের কারণে বান্দরবানে বিএনপি সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলোতেও দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। এবার জেলা বিএনপির সভাপতি মাম্যাচিং, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাচিং প্রু জেরী ও জেলা মহিলা দলের নেত্রী উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনা রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন জমা দিলেও মাম্যচিং ও লীনার মনোনয়ন বাতিল হয়।

পরে এরা দুজনেই আপিল করেন কমিশনে। মাম্যাচিং এর মনোনয়ন বৈধ হলেও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের তিনি জানান, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তাই আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু মনোনয়নে মহাসচিবের স্বাক্ষর জাল ছিল সাচিং প্রু জেরীর এমন অভিযোগ কাম্য ছিল না। এটি আমি অসম্মানিত বোধ করেছি। দল একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতেই পারে। কিন্তু পরে হয়তো বাকিরা প্রত্যাহার করে নিতে পারে। কিন্তু এর আগেই আক্রমনাত্মক ভুমিকা কাম্য ছিল না। শুধুমাত্র আত্মসম্মান রক্ষার্থে মহাসচিবের হলফনামা নিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন বৈধ করিয়েছি।