“পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তামূলক পরিবেশ প্রয়োজন”

॥ আলমগীর মানিক ॥

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে টেকসই কর্মসূচী বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারনে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস উপলক্ষে “প্রমোশন অফ সাসটেইনেবল লাইভহুডস ইন চট্টগ্রাম হিল ট্রাক্টস” শীর্ষক এই সেমিনার মঙ্গলবার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্ণফূলী সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম. আমিনুল ইসলাম।

সেমিনারে “গেস্ট অব অনার” হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ওয়াইজ কবীর। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিআইএমওডি থিম লিডার অর্থনীতিবিদ ড. গোলাম রসুল। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সম্মানিত ভাইস-চেয়ারম্যান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব জনাব তরুণ কান্তি ঘোষ। সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনে প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল উদ্যোক্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি কাজী এম. আমিনুল ইসলাম বলেন, একসময় পৃথিবীর একটা বিরাট অংশ দারিদ্র্য ছিল, মধ্যবিত্তের সংখ্যা ছিল বিশ্বের প্রায় অর্ধেক। সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে দারিদ্র্য অনেক কমে গেছে। এদেশের দারিদ্র্য মানুষকে যদি উপরে উঠাতে হয় তাহলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সরকারের সহায়ক নীতি এবং আন্তরিকতা থাকার কারণে দেশ এখন বহুদূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এলডিসি হতে উন্নয়নশীল দেশে পর্দাপন করেছে। এ গর্বের ভাগীদার দেশে সকল জনগণ এমন মন্তব্য করে প্রধান অতিথি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল হতে পেপার, রেয়ন, রাবার, হস্তশিল্পসহ বহু পণ্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা পরিবেশ প্রয়োজন। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি তাহলে এ এলাকার উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়নের জন্য অনেক কিছু করতে পারব। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় উদ্যোক্তা সৃজনের কর্মসূচীও হাতে নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আরো এগিয়ে যাবে, এজন্য আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করে যেতে হবে।