ব্রেকিং নিউজ

রাঙামাটিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে বিভিন্ন বাহিনীর ৮হাজার সদস্য : নিঃসংকোচে ভোটদানের আহ্বান ডিসি-এসপি’র

॥ আলমগীর মানিক ॥

আগামী ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন রাঙামাটির নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনের দিন ২৯৯ পার্বত্য রাঙামাটি আসনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব-পুলিশসহ আনসার-ভিডিপি’র অন্ততঃ ৮ হাজার সদস্য। যে কোনো পরিস্থিতি কঠোর হস্তে মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে জেলা রির্টার্নিং কর্মকর্তা ও ডিসি একেএম মামুনর রশিদ বলেন, জনগণ যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে সে লক্ষ্যে করনীয় সকল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমরা আপোষহীন থাকবো।

এবারের সংসদ নির্বাচনে নৌকা-ধানের শীষ, সিংহ- লাঙ্গল, কোদাল ও হাত পাখা প্রতিক নিয়ে ২৯৯ নং রাঙামাটি আসনটিতে এবার এমপি পদে লড়ছেন ৬ জন প্রার্থী। ৩ লাখ ১৩ হাজার ৭৬জন পুরুষ আর ২ লক্ষ ৮২ হাজার ৯০৩ মহিলাসহ সর্বমোট ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭৯জন জনসংখ্যা নিয়ে বর্তমান রাঙামাটি জেলার ১০ উপজেলায় এবারে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে ৪ লক্ষ ১৮ হাজার ২১৭জন ভোটার। তার মধ্যে নারী ভোটার হলো ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬৩ এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ৩৫৪জন।

যে কোনো ধরণের বেআইনী পদক্ষেপ বা আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি মাথায় রেখে অথবা আঞ্চলিকদলগুলোর সশস্ত্র তৎপরতাসহ দূর্গমতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে রাঙামাটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভোটগ্রহণসহ কেন্দ্র তদারকিতে দায়িত্ব পালন করবেন ২ হাজার ৮শ’ ৮২জন সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা।

এই আসনটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ উপরোক্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এবার প্রতিটি ভোট কেন্দ্রকেই নিরাপত্তা বলয়ে আনা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব-পুলিশসহ আনসার-ভিডিপি’র অন্তত ৮ হাজার সদস্য পুরো রাঙামাটি জেলায় দায়িত্ব পালন করবে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে রাঙামাটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫৪টি স্টাইটিং টিম, বিজিবি’র ৪৪টি, পুলিশের ২৭টিসহ বিশেষায়িত এলিট ফোর্স র‌্যাব এর ২টি টিম জেলাজুড়ে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও সেনাবাহিনী-পুলিশের আরো ১৪টি ও ১৭টি বিশেষ টিমকে (রিজার্ভ ফোর্স) সার্বক্ষনিক প্রস্তুত রাখা হবে যাতে জরুরী সংকটকালীন সময়ে তারা মুভ করতে পারে। প্রায় আড়াই হাজার সেনাসদস্য, ২ হাজার পুলিশ সদস্য, আড়াই হাজার আনসার-ভিডিপি, এক হাজার বিজিবি সদস্য এবারের নির্বাচনে রাঙামাটির সড়ক ও নৌপথে দায়িত্ব পালন করবে।

নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, সর্বমোট ২০৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৬টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ন, বাকি ৬৭ কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া দূর্গম হওয়ায় ২১টি কেন্দ্রকে হেলিসটি কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মোট ৮৯৩টি ভোট কক্ষে ভোটাররা তাদের মূল্যবান রায় প্রদানের সুযোগ পাবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে সর্বমোট ২০৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৮৯৩জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১৭৮৬জন পোলিং অফিসার ৩০ তারিখের সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটির ২০৩টি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা একেএম মামুনুর রশিদ।

নানা সমিকরণের মাঝে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্নে বেশ আট-ঘাট বেধেই নেমেছে পাহাড়ের সংশ্লিষ্ট্য প্রশাসন যন্ত্র। এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে জেলা রিটানির্ং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেছেন, কে কোন দল এটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাঝে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন রাঙামাটি তথা দেশবাসীকে উপহার দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর মন্তব্য করে জনাব মামুন জানান, প্রতিটি কেন্দ্রকেই আমরা নিরাপত্তা বলয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গকারি যে দলের বা গোষ্ঠীর সমর্থকই হোক না কেন, আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। আগামী ৩০ তারিখ ফলাফল ঘোষনা পর্যন্ত জেলার সকল প্রশাসনিক যন্ত্র সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে বলেও জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা একেএম মামুনুর রশিদ।

এদিকে, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবির জানিয়েছেন, নির্বাচনকালীন সরকার তথা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুসারে রাঙামাটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সবরকম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে পুলিশ। এই লক্ষ্যে জেলায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জেলায় বৈধ লাইসেন্সধারীদের কাছ থেকে অস্ত্র জমা নেওয়া এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এছাড়াও পলাতক সন্ত্রাসী, ওয়ারেন্টভূক্ত আসামীসহ সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের বিরুদ্ধে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনাব আলমগীর কবির বলেন, আমরা এবার রাঙামাটিতে সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধ পরিকর। নির্বাচনী পরিবেশে বিঘœসৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্গণসহ ইলেট্রোরাল বিধি অনুসারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।