ব্রেকিং নিউজ

সেনা-বিজিবি-বিমানবাহিনীর সহায়তায় নিশ্চিত মৃত্যু থেকে বাঁচলো প্রসূতি সোনাপতি চাকমা

॥ আলমগীর মানিক ॥

রোববার (৩০ ডিসেম্বর) দেশেরন্যায় পার্বত্য জেলা রাঙমাটিতেও যখন সংসদ নির্বাচনের ভোটের ডামাডোল চলছিল, তখন তীব্র প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন সোনাপতি চাকমা নামের এক চাকমা গৃহবধু। জেলার জুড়াছড়ি উপজেলার দূর্গম বগাখালীতে স্বামী দয়াময় চাকমার সাথে বসবাসকারী এই গৃহবধূর যন্ত্রণা কমাতে তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় গ্রাম্য ধাত্রীর শরনাপন্ন হলে অনভিজ্ঞ সেই ধাত্রীর অসাবধানতায় পেটেই মারা যায় সন্তান। এরপর যন্ত্রনার তীব্রতা বেড়ে গিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হতে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা ধারস্থ হয় নিকটবর্তী “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ” বিজিবি’র ক্যাম্পে।

মৃত্যুর দুয়ার অব্দি পৌছে যাওয়া অসহায় হতদরিদ্র পাহাড়ি গৃহবধূটির করুন অবস্থা দেখে বিজিবি কর্তৃপক্ষ তড়িৎ গতিতে উক্ত গৃহবধুটিকে বাঁচাতে সেনা ও বিমান বাহিনীর সাহায্য কামনা করে তার বার্তা পাঠায়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টারে করে ওই নারীকে চট্টগ্রামে এনে তার প্রাণ রক্ষা করেন। তবে বাঁচানো সম্ভব হয়নি তার গর্ভের সন্তানটিকে।

বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার-এই তিন দেশের সীমান্তবর্তী গ্রাম রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার বগাখালী। রাঙামাটি সদর থেকে সেই দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে যেতে সময় লাগে সাতদিন। হাসপাতালের অভাবে সেই গ্রামে মরতে বসেছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক প্রসূতি এমন মন্তব্য করে জুরাছড়ির দুমদুম্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শান্তিরাজ চাকমা জানান, দয়াময়ের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে ডাকা হয়েছিল ধাত্রীকে। কিন্তু ধাত্রী প্রসব করাতে ব্যর্থ হন। মারা যায় গর্ভের সন্তানটি। সোনাপতির জীবন নিয়েও শঙ্কা দেখা দেয়।

যেকোনও মুহূর্তে সোনাপতির মৃত্যু হবে, এই আশঙ্কাতেই কেটে যায় রাতটি। সোমবার সকালে দয়াময়ের পরিবারের সদস্যরা বিজিবি’র স্থানীয় সীমান্ত চৌকিতে গিয়ে বিষয়টি খুলে বলেন। তখন বিজিবি’র পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়। সেনাবাহিনী বিমানবাহিনীর সহায়তা চায়। সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোরে চট্টগ্রামে বিমানবাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটি থেকে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পৌঁছে যায় জুরাছড়ির বগাখালী গ্রামে। হেলিকপ্টারে করে সোনাপতিকে এনে দুপুরে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ভেতরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। সেখানে দীর্ঘসময় ধরে অস্ত্রোপচারের পর বিপদমুক্ত হয়েছেন সোনাপতি চাকমা।

শান্তিরাজ বলেন, ‘সোনাপতি আমার এলাকার মেয়ে। আমাদের এলাকায় ভাল কোনো হাসপাতাল না থাকায় তার গর্ভের সন্তানটিকে বাঁচাতে পারিনি। তবে সেনাবাহিনীর কারণে সোনাপতির জীবন রক্ষা পেয়েছে। আমরা যদি সেনাবাহিনীকে আগে জানাতাম, তাহলে দুজনকেই বাঁচানো যেত।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের সদস্য চাথুইমা মারমা, লক্ষ্মীছড়ি থানার পুলিশ কনস্টেবল মংজয় চাকমাকে উন্নত চিকিৎসা দিয়েছে সেনাবাহিনী। সম্প্রতি খাগড়াছড়ির দুরছড়ি এলাকায়ও ডায়রিয়ার প্রকৌপ দেখা দেয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা এলাকায় গিয়ে মানবিক সেবা দিয়ে অন্ততঃ ৩০টি পরিবারের শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুকে সুস্থ করেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা, যেখানে সাধারণ পৌঁছাতে দিনের পর দিন লেগে যায়, সেসব এলাকায় বসবাসকারীদের নিয়মিত এই ধরনের সেবা প্রধান করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা।