পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বীর বাহাদুর এমপি!

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হলেন বীর বাহাদুর উশৈ সিং। নির্বাচনে বিপুল ভোটে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার মন্ত্রীত্ব নিয়ে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। ইতোমধ্যে কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন, তা জানিয়ে আগামীকাল সোমবার শপথের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে টেলিফোন করা করা হয়েছে।

বঙ্গ ভবন থেকে রবিবার(৬ জানুয়ারি) সকালে ফোন পেলেন বীর বাহাদুর। কাল সোমবার তিনি নতুন সরকারের অন্য মন্ত্রীদের মতো বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীকে ৮৫ হাজার ২শত ৪৭ ভোটেr বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বান্দরবান ৩০০ নং আসনে থেকে ৬ষ্ঠ বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় পাহাড়ের ক্লিন ইমেজের নেতা বীর বাহাদুর উশৈসিং। গত ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বীর বাহাদুর উশৈসিং মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯শত ৬৬ ভোট। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত সাচিং প্রু জেরী মোট ভোট পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৭শত ১৯ ভোট। এর পর পরই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বান্দরবানের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বীর বাহাদুর উশৈসিং। বীর বাহাদুরের জয়ে উচ্ছাসিত পার্বত্য জেলাসহ বান্দরবানবাসী।

এদিকে, নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা করতে যাচ্ছে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ৪৬ সদস্যের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হবেন ২৪, প্রতিমন্ত্রী ১৯ ও উপমন্ত্রী ৩ জন।

মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার ফোন পেয়েছেন বলে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনা (মন্ত্রিপরিষদ, জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা, সশস্ত্র বাহিনী, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, মহিলা ও শিশু), আ ক ম মোজাম্মেল (মুক্তিযুদ্ধ), ওবায়দুল কাদের (সড়ক পরিবহন ও সেতু), ড. আব্দুর রাজ্জাক (কৃষিমন্ত্রী), আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল (স্বরাষ্ট্র), ড. হাছান মাহমুদ (তথ্য), আনিসুল হক (আইন), আ হ ম মুস্তফা কামাল (অর্থমন্ত্রী), তাজুল ইসলাম (এলজিআরডি), ডা. দীপু মনি (শিক্ষা), একেএম আব্দুল মোনেম (পররাষ্ট্র), এমএ মান্নান (পরিকল্পনা), নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (শিল্প), গোলাম দস্তগীর গাজী (বস্ত্র ও পাট), জাহিদ মালেক স্বপন (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ), সাধন চন্দ্র মজুমদার (খাদ্য), টিপু মুনশী (বাণিজ্য), নুরুজ্জামান আহমেদ (সমাজ কল্যাণ), শ ম রেজাউল করিম (গৃহায়ন ও গণপূর্ত), মো. শাহাব উদ্দিন (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু), বীর বাহাদুর উশৈ সিং (পার্বত্যমন্ত্রী), সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ (ভূমিমন্ত্রী), মো. নুরুল ইসলাম সুজন (রেলপথ), স্থপতি ইয়াফেস ওসমান (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), মোস্তফা জব্বার (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি)।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফোন পেয়েছেন— কামাল আহমেদ মজুমদার (শিল্প), ইমরান আহমেদ (প্রবাসী কল্যাণ), জাহিদ আহসান রাসেল (যুব ও ক্রীড়া), নসরুল হামিদ বিপু (বিদ্যুৎ ও জ্বালানি), আশরাফ আলী খান (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ), বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান (শ্রম ও কর্মসংস্থান), খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (নৌপরিবহন), মো. জাকির হোসেন (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা), শাহরিয়ার আলম (পররাষ্ট্র), জুনাইদ আহমেদ পলক (আইসিটি), ফরহাদ হোসেন (জনপ্রশাসন), স্বপন ভট্টাচার্য (এলজিআরডি), জাহিদ ফারুক (পানি সম্পদ), মো. মুরাদ হাসান (স্বাস্থ্য ও পরিবার), শরীফ আহমেদ (সমাজ কল্যাণ), একেএম খালিদ (সংস্কৃতি), ডা. এনামুর রহমান (দুর্যোগ ও ত্রাণ), মাহবুব আলী (বেসামরিক বিমান ও পর্যটন), শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (ধর্ম)।

উপমন্ত্রী হচ্ছেন— বেগম হাবিবুন্নাহার (বন পরিবেশ ও জলবায়ু), একেএম এনামুল হক শামীম (পানিসম্পদ) ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (শিক্ষা)।