আ’লীগ নেত্রী ফাতেমা গণধর্ষণ পরবর্তী হত্যার দায় স্বীকার, আটক ২

॥ রামগড় প্রতিনিধি ॥

খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্য ফাতেমা বেগমকে(৫০) ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে জাহাঙ্গীর আলম(৪৫) নামে এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে রামগড় থানা পুলিশ তাকে মাটিরাঙ্গা থেকে গ্রেফতার করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করার পর গতকাল শুক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মোরশেদুল আলমের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আটক জাহাঙ্গীর আলম। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত নজরুল ইসলাম প্রকাশ নাজিম(২৮) নামে আরেক আসামিকে গ্রেফতার করে।

২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর রামগড়ের মাহবুবনগর এলাকা থেকে ফাতেমা বেগমের (৫০) অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা ও দুই সন্তানের জননী। এ ব্যাপারে ২৫ ডিসেম্বর রামগড় থানায় ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি মামলা(নম্বর-৫) রুজু করা হয়।

গোপনসূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদ্য পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এস্এম সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধমে বৃহস্পতিবার রাতে মাটিরাঙ্গার কাজীপাড়া থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে। সে মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি ইউনিয়নের বড়বিল মুসলিমপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। দুই সন্তানের জনক এবং পেশায় বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন কাজের শ্রমিক।

পুলিশের ঐ অভিযানে অংশ নেয়া রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ তারেক মো: আব্দুল হান্নান জানান, আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জাহাঙ্গীর আলম জানায়, নজরুল ইসলাম প্রকাশ নাজিম নামে এক পিকআপ ড্রাইভারের মাধ্যমে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৮ টার দিকে জালিয়াপাড়া রামগড় সড়কের মাহবুবনগর নামক স্থানে ফাতেমা বেগমকে ডেকে আনা হয়। তারা ফাতেমাকে রাস্তার অদূরে একটি সেগুন বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনা প্রকাশ করে দেয়ার ভয়ে জাহাঙ্গীর ও নজরুল দুজন মিলে তাকে হত্যা করে।

ওসি তারেক মো: আব্দুল হান্নান আরও জানান, জাহাঙ্গীরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার গুইমারার জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম নাজিমকে পুলিশ গ্রেফতার করে। নজরুল জালিয়াপাড়ার রেজাউলের ছেলে। সে দুই সন্তানের জনক।

ওসি জানান, জাহাঙ্গীর রামগড় জালিয়াপাড়া ৩৩ কেভিএ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন কাজের শ্রমিক আর নজরুল পিকআপের মালিক ও ড্রাইভার। তাঁর পিকআপ করেই বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের মালামাল পরিবহন করা হত।

উল্লেখ্য যে, রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের মাহবুব নগর এলাকায় স্থানীয় শিশুরা বিকালে ক্রিকেট খেলার সময় বলটি বাগান থেকে কুড়িয়ে আনতে গেলে দুর্গন্ধ পায়। বল খোঁজার সময় লাশ দেখতে পেয়ে অভিভাবকদের জানায়। পরে খবর পেয়ে রামগড় থানার পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে। নিহত ফাতেমার ছেলে শাহজাহান এটি তাঁর নিখোঁজ মায়ের লাশ বলে সনাক্ত করে ।