নিজের শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যার কথা স্বীকার করলো নরপশু শিক্ষক!

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে পাষন্ড নরপিশাচ শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণের সময় নির্মমভাবে নিহত হওয়া কোমলমতি শিক্ষার্থী মিতালী মারমাকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার মূূল অভিযুক্ত লম্পট অংবাচিং মারমা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। সোমবার তাকে রাঙামাটির চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ৫দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে হত্যাকারি অংবাচিং ওরফে আবাসু বামং মারমা আদালতের উপস্থিতিতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করতে ইচ্ছে প্রকাশ করে।

এসময় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক জাহিদ আহাম্মেদ এর আদালত আসামীর কাছ থেকে ১৬৪ দন্ডবিধিতে জবানবন্দি গ্রহণ করে আসামীর বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে দাখিল করা রিমান্ড আবেদন বাতিল করে আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ প্রদান করেন।

চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ উদ্দিন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, আমরা আসামীকে আটক করে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ন তথ্য পাওয়ার লক্ষ্যে আদালতের মাধ্যমে পাঁচদিনের রিমান্ডে আনার আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু আসামীকে আদালতে তোলার পর সে নিজে থেকেই মাননীয় আদালতে ঘটনা সম্পর্কে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানে রাজি হয়। এরপর ১৬৪ ধারা মোতাবেক আদালতের সামনেই আসামী ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে এবং সেগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়।

চন্দ্রঘোনা থানার ওসি তদন্ত শফিউল আলম জানিয়েছেন, শনিবার ২ ফেব্র“য়ারী কোদালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থী মিতালী মারমা প্রাইভেট পড়তে তারই শিক্ষক অংবাচিং মারমার কাছে গেলে সেখানে তাকে মুখ চেপে ধর্ষণের চেষ্ঠা চালায়।

এতে মিতালী বাধা দিলে তাকে গলায় রশি পেছিয়ে হত্যা করে পাষন্ড নরপশু অংবাচিং। এই ঘটনার পর নিহত মিতালীকে বস্তায় ভরে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সময় স্থানীয় জনতা হাতেনাতে ধরে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

এই ঘটনায় ৩ ফেব্র“য়ারী নিহতের পিতা সাথুইঅং মারমা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর ৯(২) তৎসহ ২০১ ধারায় মামলা দায়ের করেন। চন্দ্রঘোনা থানায় দায়েরকৃত মামলা নাম্বার-০১। তারিখ: ০৩/০২/২০১৯ইং। এই মামলার আইও থানার এসআই ইসরাফিল আলম।