ফলোআপ : রাঙামাটিতে জোড়া খুনে জড়িতদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে আটক-৮

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের কারিগড় পাড়ায় অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে দু’জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দু’দিনের ব্যবধানে সর্বমোট ৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ।

থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, যৌথবাহিনীর মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে বৃহস্পতিবার বিকেলে খোংসাথুই মারমা প্রকাশ মোস্তফা (৫২) ও তপন তালুকদার (৩২) নামে দু’জন এবং শুক্রবার আরো ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার আটককৃতরা হলো তেজেন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা (৩৮), মংচাপ্রু মারমা (৫৪), উথোয়াইনু মারমা(৪৮), উয়াইমং মারমা (২৩), সাচিংমং মারমা ও রাজস্থলী উপজেলার ২নং গাইন্দ্যা ৯নং ওযার্ডের ইউপি সদস্য থুইচিংমং মারমা (৩৪)। বাঙ্গালহালিয়াসহ আশে-পাশের এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে যৌথবাহিনী।

গত ৪ ফেব্রুয়ারী সোমবার কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়নের কারিগড় পাড়ায় একটি চায়ের দোকানে বসে সহকর্মীদের সাথে আড্ডারত অবস্থায় মুখোশধারী একদল সন্ত্রাসী মংসিংনু মারমা (৪০) ও তার বন্ধু মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৩২ কে ব্রাশ ফায়ার করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ২ জনের মৃত্যু ঘটে।

নিহত দুইজনই কাপ্তাই উপজেলার আয়ামীলীগের কর্মী বলে দাবী করে ঘটনার পরের দিন মঙ্গলবার আধাবেলা হরতাল পালন করেন কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামীলীগ। নির্মম এই খুনের ঘটনায় নিহত মংসিনু মারমা’র শশুর আপ্র“ মারমা বাদি হয়ে চিহ্নিত ২১ জনসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনের বিরোদ্ধে চন্দ্রঘোনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জোড়াখুনের পর থেকে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে নেমেছে জানিয়ে চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, আমরা আটককৃতদেরকে আদালতে উপস্থাপন করলে তাদের আপাতত হাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আটককৃতদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।