ব্রেকিং নিউজ

রাঙামাটির প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে শৃঙ্খলা সভায় ক্ষোভ:মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং বাড়াতে ডিসি’র আহবান

॥ আলমগীর মানিক ॥

শুধুমাত্র পাশের হারের মধ্যদিয়ে একটি জেলার শিক্ষা ব্যবস্থা পরিমাপ করা যায়না, গুনগত ও মানসম্মত শিক্ষা প্রদান নাকরলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। রোববার রাঙামাটিতে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সর্বোচ্চ সভায় রাঙামাটি জেলার সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে এমন তথ্য উঠে আসলে জেলা প্রশাসক এমন মন্তব্য করেন। গত বছর যাবৎ সদরে অবস্থিত বাদলছড়ি পাড়া এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কোনো কর্মকর্তা কেমন পাঠদান চলছে সেবিষয়ে জানতে পরিদর্শনে যাননি।

এটা অত্যন্ত দুঃখজনক মন্তব্য করে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেছেন, শুধুমাত্র বাদলছড়ি নয়, আমাদের রাঙামাটিতে ৭শতাধিক এরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। আমার মনে হচ্ছে আমাদের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেই কমবেশি এরকম পরিস্থিতি রয়েছে।

আইন শৃঙ্খলা সভায় জেলা প্রশাসক সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গত ৬ই ফেব্র“য়ারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে জেলার সকল স্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক থাকলেও রাঙামাটির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।

এছাড়াও বিগত প্রায় সবগুলো মিটিংয়েও তিনি উপস্থিত থাকেননি। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কি তাহলে জেলার ডিসি’র চেয়েও বড় কর্মকর্তা হয়েগেছেন যে, তিনি কোনো নির্দেশনাই মানবেন না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক মন্তব্য করে জেলা প্রশাসক বলেন, আমি এই বিষয়টি নিয়ে আমার উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখবো।

গুনগত ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা থেকে আমরা দিনের পর দিন পিছিয়ে পড়ছে, এটা রাঙামাটির ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত বলেও মন্তব্য করে জনাব মামুনুর রশিদ বলেন, আমাদের জেনারেশন এর জন্য যদি আমরা প্রাথমিক শিক্ষার মূল ভিত্তি সৃষ্টি করতে নাপারি তাহলে ২০৪১ সালে উন্নত দেশে নিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন সেই অবস্থা থেকে রাঙামাটিবাসী পিছিয়ে থাকবে এবং এখানকার ছেলেমেয়েগুলো বঞ্চিত হবে।

এমতাবস্থায় রাঙামাটির এই নাজুক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ও তাদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।

রাঙামাটির শিক্ষা কার্যক্রম যাতে আরো উন্নত করা যায় এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট্য সকল সরকারী-বেসরকারী কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসার আহবানও জানানো হয়েছে আইন শৃঙ্খলা সভায়।

এসময় মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন রাঙামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক নৌ কমান্ডার মোঃ আসাদুজ্জামান খান, জেলার প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ শহীদ তালুকদার, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফী উল্লাহসহ জেলার সকল সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও প্রতিনিধিগণসহ আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সভায় জানানো হয়, কোনো ধরনের শিক্ষার্থী হোষ্টেলে না থাকলেও একটি চারতলা বিশিষ্ট্য আবাসিক হোষ্টেলকে আবানো বিপুল পরিমাণ অর্থ খরছ করে ৬ তলা বিশিষ্ট্য ভবন বানানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা সভায়। এদিকে সভায় কাউখালী উপজেলার চেয়ারম্যান এসএম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকোশলী জানান, আমরা শীঘ্রই রাঙামাটির দশ উপজেলায় দশটি বিদ্যালয় ভবন তৈরির কাজ শুরু করবো।

এছাড়াও সভায় আগামী বর্ষার আগেই রাঙামাটির অন্যতম প্রধান সড়ক ও আসামবস্তি সড়কটিকে চলাচলের উপযোগি করে গড়ে তোলার কাজ শুরু করতে রাঙামাটির সড়ক বিভাগ ও এলজিইডিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে রাঙামাটি শহরের বনরূপা বাজারের সমতাঘাট এলাকাবাসী তাদের চলাচলের অসুবিধার কথা জানিয়ে পৌরসভাকে একটি চিঠি দিয়েছে জানিয়ে পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেছেন, জেলার সকলস্থানে সড়কের উপর বসা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে জন চলাচল নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সড়ক বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। এই ক্ষেত্রে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

এদিকে আইন শৃঙ্খলা সভায় সিদ্ধান্ত অনুসারে এখন থেকে রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ট্রাক-বাসসহ বড় বড় যানবাহনগুলো শহরের এসপি অফিস সংলগ্ন নীচের রাস্তাটিকে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়। এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়ে পুলিশ প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।

এদিকে আইন শৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত হয়ে সভাপতির মাধ্যমে নিজের পরিচয় তুলে ধরে সদ্য যোগদান করা জেলার সিনিয়র নির্বাচনী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী ১৮ই মার্চ ৫ম ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাঙামাটির সদর ইউনিয়নে ইবিএম এর ব্যবহার হতে পারে। এই ধরনের একটি প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে।

রোববারের এই আইনশৃঙ্খলা সভার মাধ্যমেই রাঙামাটি থেকে বিদায় নিয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোছাঃ সুমনী আক্তার। তার স্থানে নতুনভাবে যোগ দিয়েছেন জুনায়েদ কবির সোহাগ।

এদিকে রাঙামাটিতে আরডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া চট্টগ্রামের বাসিন্দা শতরূপা তালুকদার রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় নতুন ইউএনও হিসেবে যোগদান করেছেন। সভায় তিনি নিজের পরিচয় তুলে ধরে বলেন আমি ৩০তম বিসিএস এর সদস্য। আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।