ব্রেকিং নিউজ

বান্দরবানে অকেজো হয়ে পড়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকঃ সেবা বঞ্চিত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

॥ বান্দরবান প্রতিনিধি ॥

শেখ হাসিনার অবদান কমিউনিটি ক্লিনিক বাচাঁয় প্রাণ এ লক্ষ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হলেও সঠিক তদারকি ও নজরদারীর অভাবে নুন্যতম সেবাও পাচ্ছে না দূর্গম এলাকার মানুষ। পার্বত্য জেলা বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চল রুমা উপজেলা এছাড়াও বান্দরবান সাত উপজেলার সব কমিউনিটি ক্লিনিকের অবস্থা খারাপ।

পাহাড় বেষ্টিত ৪৯৩ বর্গকিলোমিটারে এই উপজেলায় বসবাস করে ১১টি পাহাড়ী ও বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। এসব মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকারী ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ এর ফলে প্রতিষ্ঠিত দূর্গম অঞ্চলে ৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ডাক্তারের অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নার্সিং সুপার ভাইজারের অনুপস্থিতিতে দুর্গম এলাকার এসব কমিউনিটি ক্লিনিক বেশীরভাগ সময় তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে। এছাড়াও কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, ঔষধ সংকটসহ নানান অভিযোগ স্থানীয়বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে। ফলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো থেকে নূন্যতম চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না উপজেলা দূর্গম অঞ্চলের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ নিয়মিত তদারকির ও জবাবদিহিতা না থাকায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার, কর্মকর্তা, নার্সিং সুপার ভাইজাররাও নিয়মিত কর্মস্থলেই উপস্থিত থাকেন না। বেশিরভাগ সময় তালা বদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো।

পান্তলা পাড়ার বাসিন্দা মংচাচিং মার্মা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক আছে কিন্তু ডাক্তার আসে না নিয়মিত মাসে একদিন আসে।দেখা যায় যখন অসুস্থ্ হই তখন ক্লিনিক বন্ধ থাকে অথবা ডাক্তার পাই না। কারন অসুখতো বলে কয়ে আসে না। তারা যখন আসে তখন আর ওখানে যাওয়ার দরকার হয় না। প্রতিদিন যদি একজন থাকত তাহলে আমরা দরকারের সময় সেবা পেতাম।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রুমা উপজেলায় কক্ষ্যংঝিড়ি, চাঁদাপাড়া, চাইরাগ্রপাড়া, বাস ত্মাংপাড়া, বগামুখপাড়া. পলিকাপাড়া. পানতলাপাড়া এবং মেনরনপাড়ায় ৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকে সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বরের চিকিৎসা, গর্ভবতী মায়েদেরও নিয়মিত চেকআপ করাসহ বিনামূল্যে ঔষধ সরকারীভাবে বরাদ্দ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ক্লিনিকে সিএইচসিপি ৬দিন, হেল্থ এ্যাসিস্ট্যান্ট ৩দিন ও ফ্যামিলি হেল্থ এ্যাসিস্ট্যান্ট স্বাস্থ্যকর্মী ৩দিন করে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সপ্তাহে ১দিনও তাদের দেখা মিলে না। ফলে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে বঞ্চিত হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। সামান্য রোগের চিকিৎসা সেবার জন্য ছুটতে হচ্ছে জেলা শহর ও বিভাগীয় শহরে। যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো তারা জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে যেতে পারলেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার হতদরিদ্র ও খেটেখাওয়া মানুষগুলো।

এ বিষয়ে রুমা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: বামপ্রু মারমা বলেন,কমিউনিটি ক্লিনিকের বিষয়টি এতদিন আমি জানতাম না। আজ আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়েছি। দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতি ও অনিয়মের বিষয়ে তাদেরকে
কৈফিয়ত তলব ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে এবিষয়ে জানতে বান্দরবান জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার অংশৈপ্রু মার্মার সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রধানমন্ত্রীর দশটি বিশেষ উদ্যোগের একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। এ প্রকল্পের লক্ষ্য দূর্গম ও প্রত্যান্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক অনিয়ম ও অবহেলার ফলে বান্দরবানের দূর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষজন সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। তাই স্থানীয়দের দাবী সঠিক তদারকির মাধ্যমে দূর্গম অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো সচল রাখা হোক।