ব্রেকিং নিউজ

আওয়ামীলীগে ঘাপটি মেরে থাকা বাসন্তি স্বরূপে প্রকাশ করলেন নিজেকে

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

দশম জাতীয় সংসদের পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সংরক্ষিত আসনে দলীয় নিয়োগকৃত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা কর্তৃক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও অত্রাঞ্চলে সরকার কর্তৃক পূর্ণবাসিত বাঙ্গালী জনগোষ্ঠিকে জড়িয়ে সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট মনগড়া বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ। পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল ইতিহাসকে পাশকাটিয়ে ২৬শে ফেব্র“য়ারী ২০১৯ তারিখে জাতীয় সংসদে পাহাড়ের সংরক্ষিত আসনের এমপি বাসন্তী চাকমা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেটেলার কর্তৃক মানুষ কাটার যে বক্তব্য দিয়েছেন এতে বুঝা যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে ঘাপটি মেরে থাকা বাসন্তী সংসদে সময়োনুসারেই স্বরূপে নিজেকে তুলে ধরেছেন।

আওয়ামীলীগের খোলসে বাসন্তী চাকমা পাহাড়ের আঞ্চলিক সন্ত্রাসী দলগুলোর পক্ষাবস্থানই তুলে ধরেছেন। বিগত দশম জাতীয় সংসদে পার্বত্য রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তথা পার্বত্য চুক্তি পূর্ববর্তী শান্তিবাহিনী নামক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস এর অন্যতম সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার পাঁচটি বছর জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সময়েও এই ধরনের মিথ্যাচার করেননি। কিন্তু পক্ষান্তরে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্তসহ অসাম্প্রদায়িক চেতনাধারী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে সরাসরি দল থেকে সংরক্ষিত আসনে নিয়োগ পাওয়া বাসন্তী চাকমা মহান জাতীয় সংসদে পার্বত্যবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেই পাহাড়ের পরিস্থিতি নিয়ে মিথ্যাচারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় একটি অন্যতম সু-শৃঙ্খল সামরিক বাহিনী ও পুর্নবাসিত বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির বিরুদ্ধে প্রদত্ত বক্তব্যেই বাসন্তী চাকমা প্রমান করলেন এতোদিন তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে অসাম্প্রদায়িকতার খোলস পরে দলটির আধ্যপ্রান্ত চুষে খেয়েছেন। বাঙ্গালী নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, পাহাড়ে আওয়ামীলীগকে কারা নিয়ন্ত্রণ করছে বাসন্তী চাকমা তার জলন্ত উদাহরন।

বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে মহান জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে বাসন্তী চাকমার নির্লজ্জ মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করেছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে আওয়ামীলীগ এই সর্ব প্রথম কোন সাম্প্রদায়িক হিংস্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সহচর উপজাতীয় নারী বাসন্তি চাকমার হাতে সংরক্ষিত সংসদীয় নারী আসনের এমপির দায়িত্ব তুলে দিলেন। যিনি সংসদে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষে সাফাই গেয়ে গেলেন। কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, বাসন্তি চাকমা সরকারিদলের একজন সংরক্ষিত সংসদীয় নারী এমপি হয়েও কিভাবে রাষ্ট্রের বৃহত্তর সর্বোচ্চ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদমূলক বক্তব্য দিলেন?? তিনি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মহান সংসদে দাঁড়িয়ে তার ১২ মিনিটের মূল বক্তব্য ও ২ মিনিট অতিরিক্ত সময় নিয়ে পাহাড়ের সেনাবাহিনী তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সহ বাঙালি জনপদকে মিথ্যা অপবাদে জড়িয়ে উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেন। যাহা ইতিমধ্যে জনমতে সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পাহাড়ের বাঙালির যেমন মানসম্মান নষ্ট হয়েছে তেমনি দেশবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ব হয়েছে। সরকারি একজন এমপি কিভাবে রাষ্ট্রের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বাঙালি ও সেনাবাহিনী বিদ্বেষ করে? এই নিয়ে সাধারণ পার্বত্য বাসীর পাশাপাশি সমতল ভূমির বিভিন্ন পেশাজীবির মানুষ ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বাসন্তি চাকমার সংসদের ভাষণ বাঙালি জনপদ ও সেনাবাহিনী বিরোধী। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে অতিরঞ্জিত তেল মদন করে পুরো বাঙালি জাতি ও সেনাবাহিনী কে অপমান করলেন!! তিনি পাহাড়ের বাঙালি ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বল্লেন, অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ বছর ধরে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকর্মে লিপ্ত থাকা স্বজাতীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি বাক্যও উচ্চারণ করেননি!! একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা গত ২৬ এ ফেব্রুয়ারী মহান সংসদে দাড়িয়ে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বহিরাগত এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে যে মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছে তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কাল্পনিক বক্তব্যের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করে শান্তিবাহিনীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছে সাম্প্রদায়িক এই সংসদ সদস্য। পিবিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখা তার বক্তব্যের তিব্র নিন্দা জানাচ্ছে। বাঙ্গালী নেতৃবৃন্দ বলেন, পিবিসিপি বাসন্তী চাকমাকে স্পস্ট করে বলে দিতে চায় যে তিনি যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য থেকে পদত্যাগ না করে তাহলে পার্বত্য চট্রগ্রামের পাহাড়ী এবং বাঙালিদের সাথে নিয়ে তাকে পাহাড় থেকে অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সসস্ত্র শান্তিবাহিনীকে নিজের ভাই বলে পরিচয় দিয়ে বাসন্তী শান্তিবাহিনীর অঘোষিত সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রমান করেছেন। তার বক্তব্যের অসত্যতা তার বক্তব্যের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন এখানকার হত্যাকান্ড সন্তু গ্র“প ও প্রিতি গ্র“পের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে আসছে মন্তব্য করে পিবিসিপির নেতৃবৃন্দ বলেন,১৯৮৬ সালে পানছড়িতে একটি গণহত্যা হয়েছিলো ঠিকই তবে সেটা বাসন্তী চাকমার দেয়া তথ্য ০১ মে তারিখে নয়। সেটি হয়েছিলো ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত সময়ে। স্থান ছিলো খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং, চেঙ্গী, পানছড়ি, লতিবান, উল্টাছড়ি ৫টি ইউনিয়নের ২৪৫টি গ্রামে। ঐ দিন সেনাবাহিনী এবং বাংগালী মিলে কোন পাহাড়িকে “আল্লাহু আকবার” বলে জবাইও করেনি। বরং বাসন্তী চাকমার শান্তিবাহিনীর ভাইয়েরা ঐ এলাকার প্রত্যেকটি বাংগালী গ্রামে অগ্নিসংযোগসহ লুটতরাজ এবং নিরস্ত্র নিরীহ ৮৫৩ জনের অধিক বাংগালী নারী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ বনিতাকে হত্যা করে। বাংগালী নারীদেরকে পাকিস্তানী সেনাদের মত করে গণধর্ষণ ও পরে হত্যা করে।

শান্তিবাহিনীর হামলায় ঐদিন আহত প্রায় ৫০০ জনের অধিক বাংগালী। ৬২৪০টি বাড়ি লুটতরাজ করে সম্পূর্ন ভাবে পুড়িয়ে দেয় বাসন্তী চাকমার ভাই শান্তিবাহিনীর হায়েনারা। হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, দা-দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে জবাই করে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে, বেয়নেট ও অন্যান্য দেশি অস্ত্র দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে নানা ভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করেছিল এই অসহায় মানুষ গুলোকে। প্রতিটি লাশকেই বিকৃত করে সেদিন চরম অমানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল বাসন্তী চাকমার ভাইয়েরা। ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখা এবং বেচে যাওয়া কিছু কিছু সাক্ষী আজো আছে।

১৯৮৬ সালের ২৯ এপ্রিল ঐ রাতে খাগড়াছড়ি জেলাতে বাসন্তী চাকমার ভাই শান্তিবাহিনীরা আরো কয়েকটি গণহত্যা চালিয়েছিলো যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ দিঘীনালা গণহত্যা ও মাটিরাংগা গণহত্যা। এছাড়াও, কুমিল্লাটিলা, শুকনাছড়ি, দেওয়ান বাজার, সিংহপাড়া, তাইন্দং গণহত্যা (১৯৮৬ সালের ১৮ মে) এবং দিঘীনালা গণহত্যা (১৯৮৬ সালের ২ জুলাই) ঐ বছরেই সংঘটিত হয়েছিলো যেখানে বাসন্তী চাকমার ভাই বর্বর শান্তিবাহিনী বাঙালীদেরকে নির্বিচারে হত্যা করেছিলো। তাই বাসন্তী চাকমাকে মহান জাতীয় সংসদে বানোয়াট বক্তব্যের জন্য জাতীর কাছে ক্ষমা চেয়ে স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদ সদস্য থেকে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছে পিবিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখা।

উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ির বাসিন্দা ও আওয়ামীলীগের নেত্রী বাসন্ত্রী চাকমাকে এইবার ১১ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত সংসদীয় ৯ নারী আসনে জাতীয় সংসদে এমপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২৬ শে ফেব্র“য়ারী পাহাড়ের সংরক্ষিত আসনের এই নারী সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখতে গিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার লিংক নীচে দেওয়া হলো……………

https://www.facebook.com/watch/?v=309891659881073