ব্রেকিং নিউজ

সেনাবাহিনী ও ইসলামধর্ম নিয়ে সংসদে এমপি বাসন্তী চাকমা’র মিথ্যাচারে উত্তপ্ত পাহাড় : সংঘাতের আশঙ্কা

॥ আলমগীর মানিক ॥

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের টিকেটে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে যোগদান করা উপজাতীয় নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা কর্তৃক জাতীয় সংসদে বহুল বিতর্কিত বক্তব্যের কারনে আবারো অশান্ত হয়ে উঠছে পাহাড়। এই প্রথমবারের মতো ক্ষমতাসীন দলের সাইনবোর্ডে জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে সম্পূর্ন মিথ্যাচার তথ্য উপস্থাপন করে পাহাড়ের ইতিহাসের নতুন মাত্রা যোগ করা বক্তব্যে বাসন্তী চাকমা নির্লজ্জ মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে নতুনভাবে পার্বত্য পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন পাহাড়ের সুশীল সমাজসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিকদলগুলোর নেতৃবৃন্দ।

গত ২৬শে ফেব্র“য়ারী জাতীয় সংসদে প্রদত্ত বক্তব্যে সংরক্ষিত এমপি বাসন্তী চাকমা বলেছিলেন, আমি কাউকে ছোট করতে চাইনা, আবার বলেন, ৯৬ সালের ১ মে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও তৎকালীন বহিরাগতরা মিলে আল্লাহু আকবর বলে পানছড়ি ব্রীজের উপর একজন একজন করে পাহাড়ীদের জবাই করেছিল। ক্ষমতাসীনদলের মহিলালীগের নেতৃত্বে থাকা বাসন্তী চাকমা ক্ষমতাসীন দলের এমপি হয়ে রাষ্ট্রের জাতীয় সংসদ ভবনে দাড়িয়ে রাষ্ট্রের একমাত্র সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতমূলক বক্তব্য দিয়ে পার্বত্যাঞ্চলে নতুনকরে সংঘাতের পথ বাতলে দিয়েছেন বলেও মনে করছে এখানকার বাসিন্দারা। এছাড়াও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পূর্বমুহুর্তে বাসন্তী চাকমার এই ধরনের বিতর্কিত বক্তব্যে ব্যাপকহারে খেসারত দিতে হতে পারে আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থীদের।

শনিবার পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আয়োজিত পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলনে অত্রাঞ্চলের বাঙ্গালী সংগঠনগুলো এবং ক্ষমতাসীনদলের সমমনা সুশীল ব্যক্তিবর্গ এধরনের মত ব্যক্ত করেছেন। শনিবার রাঙামাটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসন ৯ এর সংরক্ষিত সংসদ সদস্য পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির বাসিন্দা বাসন্তি চাকমা কর্তৃক গত ২৬ ফেব্র“য়ারী জাতীয় সংসদে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করে যে উষ্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটির বিভিন্ন স্তরের সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। পার্বত্যবাসী’র ব্যানারে শনিবার (২ মার্চ) সকালে রাঙামাটি শহরের স্থানীয় একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাতীয় সংসদের কার্যবিবরনী থেকে সংসদ সদস্যের আপত্তিকর বক্তব্যগুলো এক্সপাঞ্জ করা না হলে ইতিহাসে এটা আমাদের রাষ্ট্রীয় সামরিক বাহিনী ও পবিত্র ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে নির্লজ্জ মিথ্যাচার ভাষনটি একটি দলিল হিসেবে দাঁড় করাবে কুচক্রি মহল। তাই অনতিবিলম্বে বহুল বিতর্কিত রাষ্ট্র বিরোধী এই বক্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরনী তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে। এসময় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম মুন্না, কাজী মোহাম্মদ জালোয়া, পল্লব দেওয়ান, রূপকুমার চাকমা, জাহাঙ্গীর কামাল, জামাল উদ্দিন, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, হাবিবুর রহমান হাবিব, নাজিম আল হাসান ও মোর্শেদা বেগম প্রমুখ।

৩৩৩ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন সাংসদ বাসন্তি চাকমার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাম্প্রদায়িক উসকানি, পার্বত্য স্থিতিশীলতা বিনষ্টের ষড়যন্ত্র ও গর্বিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যেচার, বানোয়াট বক্তব্য প্রদানের বিরুদ্ধে আয়োজিত এই সংবাদ সন্মেলনের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় খাগড়াছড়ি ৩৩৩ নং সংরক্ষিত পার্বত্য আসন থেকে মনোনিত সংসদ সদস্য বাসন্তি চাকমা গত ২৬ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদে বক্তব্য দানকালে এক পর্যায়ে বলেন, আমি কাউকে ছোট করতে চাইনা, আবার বলেন, ৯৬ সালের ১ মে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও তৎকালীন বহিরাগতরা মিলে আল্লাহু আকবর বলে পানছড়ি ব্রীজের উপর একজন একজন করে পাহাড়ীদের জবাই করেছিল।

এ ধরনের বিতর্কিত বক্তব্যের মাধ্যমে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তি চাকমা কি বোঝাতে চেয়েছেন তার ব্যাখ্যা দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। বাসন্তি চাকমার দেয়া সকল মিথ্যা ও ধর্মীয় অনুভূতিসহ পার্বত্য এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত করা বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিতর্কিত সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে প্রত্যাহারে রোববার সকালে রাঙামাটিতে মানববন্ধন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্বারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়।

অপরদিকে একই দাবিতে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা। শনিবার সকাল আনুমানিক ১১.০০ ঘটিকায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় গত ২৬ শে ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইং রোজ মঙ্গলবার তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামীলীগ হতে মনোনয়ন প্রাপ্ত সংসদ সদস্য হলেও ‘বাসন্তী চাকমা’ মহান জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তার বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস কারী ৫১% শতাংশ বাঙালি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অখন্ডতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীর নামে অপবাদ মূলক কথিত অসত্য,বানোয়াট বক্তব্য প্রদান করেছেন। তার প্রদানকৃত বক্তব্যের সম্পূর্ন অংশ ই ছিলো উগ্র সাম্প্রদায়িক।

সে তার বক্তব্যের শুরুতেই পাহাড়ের বসবাস কারী বাঙালিদের সেটেলার ও বহিরাগত আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে ১৯৯৬ সালে নাকি বাঙালি ও সেনাবাহিনী ‘আল্লাহু আকবর’ বলে তার চোখের সামনে অনেক উপজাতি কে জবাই করেছেন। তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যে, ১৯৯৬ সালে ১ মে এই ধরনের কোন ঘটনা ই ঘটেনী। এবং তার বক্তব্য যে সম্পূর্ন ই মিথ্যা ও অন্য কারো দ্বারা সাজানো এটি তার বক্তব্যে ই প্রমানীত , সে কখনো বলেছেন ১৯৮৬ আবার কখনো বলেছেন ১৯৯৬। কিন্তু তার এই ধরনের উগ্র সাম্প্রদায়িক, একপেশে বক্তব্যে মনে হয়েছিলো সে পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জাতী গোষ্টি ও সকল জনগনের প্রতিনিধি নয়, পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এজেন্ট।

কারন সে তার বক্তব্যে ঐ সময়ের রাষ্ট্রদ্রোয়ী উপজাতী সশস্ত্র দুটি গ্রুপের সন্ত্রাসীদের ভাই বলে সম্বোধন করেছেন, আর বাংলাদেশের নাগরিকদের ও দেশ রক্ষায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীকে বলেছেন সেটেলার ও বহিরাগত খুনি। সে তার বক্তব্যে এটা বলেছেন যে, ঐ সময় থেকে মনে মনে সপ্ন লালন করে রেখেছেন কখনো সংসদে আসতে পারলে রাষ্ট্রদ্রোহী ভাইদের গেরিলা জীবনের গল্প তুলে ধরবেন। তার সকল বক্তব্যে একথা প্রমানীত যে, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লেভেল জড়িয়ে ঘাপটি মেরে ছিলো- রাষ্ট্রদ্রোহী , বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠির এজেন্ট , যখন ই সুযোগ পেয়েছেন নিজের স্বরুপে ফিরেছেন।