ব্রেকিং নিউজ

পাহাড়ের নারী এমপি বাসন্তী চাকমার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন

॥ আলমগীর মানিক ॥

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে পার্বত্যাঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ইসলাম ধর্মকে জড়িয়ে ন্যাক্কারজনক মিথ্যাচারমূলক বক্তব্য দেওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত আসনের এমপি বাসন্তী চাকমাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়াসহ সংসদের কার্যবিবরনী থেকে ২৬ ফেব্র“য়ারী তারিখে বাসন্তী চাকমার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানিয়ে রাঙামাটি শহরে মানববন্ধন করেছে কয়েকশো নারী-পুরুষ।

রোববার দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মুখে ঘন্টাব্যাপী আয়োজিত এই মানববন্ধনে পাহাড়ি-বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সচেতন পার্বত্যবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধন শেষে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে নাগরিক পরিষদের নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুন্না, রূপ কুমার চাকমা, মোঃ জাহাঙ্গীল কামাল, রাসেল মারমা, জামাল উদ্দিন, কাজী মোঃ জালোয়া, জাহাঙ্গীর আলম, হাবিবুর রহমান হাবিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রদত্ত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ বাসন্তি চাকমা ২৬ ফেব্রুয়ারী-২০১৯ইং মহান জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানের এক পর্যায়ে দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনী ও পার্বত্য খাগড়াছড়ি এলাকায় বসবাসরত বাঙ্গালীদের বহিরাগত উল্লেখ করে ন্যাক্কারজনক বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যের মাঝখানে এমপি বাসন্তি চাকমা বলেন “আমি কাউকে ছোট করতে চাইনা, আবার বলেন- ১ মে/১৯৮৬/১৯৯৬ সালে রোজ শুক্রবার জুমা’র নামাজের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও তৎকালীন বহিরাগতরা মিলে আল্লাহু আকবর বলে পানছড়ি ব্রীজের উপর একজন একজন পাহাড়ী উপজাতি লোক জবাই করেছিল”। উক্ত বক্তেব্যর কারণে আমরা পার্বত্যবাসী মনে করি দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে এমন ন্যাক্কার জনক বক্তব্যের মাঝে সেনাবাহিনীর সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে এবং দেশের গর্ব সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রয়াস মাত্র। অসম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ১৬ কোটি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিসহ মূল চেতনায় আঘাত করেছেন। পাশাপাশি রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বসবাসরত সকল বাঙ্গালীকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসন ৩৩৩ এর মনোননীত সাংসদ বাসন্তি চাকমার বক্তব্যে পার্বত্য জেলার সকল জনগোষ্টির মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হইয়াছে উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দূর্যোগ অবকাঠামো উন্নয়নসহ গণতন্ত্র রক্ষায় দৃঢ়তার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে দক্ষতার সহিত দায়িত্ব পালন করিয়া বাংলাদেশের সুনাম বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় তিন পার্বত্য জেলার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সন্ত্রাস দমন, অব কাঠামো উন্নয়ন সহ চিকিৎসা প্রদানে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, দেশের গর্ব সেই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দেশ দ্রোহিতার সামিল বলে পার্বত্যবাসী মনে করি। তাই বাসন্তী চাকমার বক্তব্য প্রত্যাহারসহ তাকে জনসম্মুখে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থণার আহবান জানানো হয়।