লামা উপজেলা নির্বাচনঃ আলমগীরের পুঁজি ভালোবাসা, মোস্তফার শিক্ষা, সেতারার সম্পদ!

॥ লামা প্রতিনিধি ॥

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বান্দরবানের লামায় তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ভোটারের ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে আছেন মো. আলমগীর। দারিদ্রতার কষাঘাতে র্জজরিত আলমগীর নির্বাচনী ইসতেহারেও সে বিষয়টি লুকাননি। স্পষ্টত তার বার্ষিক আয় কৃষি আর ব্যবসা থেকে। তাও সব মিলিয়ে দুই লক্ষ টাকা। এতেই তার সংসার ও সমাজে সেবা। শিক্ষা দীক্ষায় মাধ্যমিকের গন্ডি না পেরোলেও নিজের সততা ও সাধারণ ভোটারের ভালোবাসায় সিক্ত আলমগীর এবারের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, ধন-দৌলতে বড় হলেই চলে না, সমাজ সেবা করতে হলে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মন বুঝতে হবে। খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট কোথায় তা আগে বের করতে হবে। আমি দীর্ঘদিন মাঠে থেকে যতটুকু সম্ভব কাজ করে আসছি। টাকা-পয়সা দিয়ে সেবা করতে পারছি না ঠিক, তবে সাধারণ মানুষের বিপদে কাছে থেকে ভালোবাসা দিয়ে হলেও পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বাসিন্দা সেতারা আহমেদ পুরোপুরি ভিন্ন। তার রয়েছে প্রচুর সহায় সম্পত্তি। ইতিপূর্বে লামার রাজনৈতিক দৈন্যতার সুযোগে লামার সরই এলাকার ভোটার হয়েই উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে পরের বার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে হেরে যাওয়ায় এলাকা থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে চট্টগ্রামে বসবাস করছেন। দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর ফের চেয়ারম্যান পদে লড়তে এলাকায় এসে এখন লামায় ভাড়া বাসা খুঁজছেন তিনি। তার নির্বাচনী ইসতেহারেও সহায় সম্পত্তির পাশাপাশি চট্টগ্রামে বসতি গড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

শিক্ষিত সেতারা আহমেদ নির্বাচনী ইসতেহারে নিজের পেশা হিসেবে দেখালেন- গৃহিনী তিনি। তাতে কি? রয়েছে তার বাৎসরিক প্রচুর আয়।

তিনি লিখেছেন- সেতারা আহামদ এর নগদ টাকা, ব্যাংক জমা, সঞ্চয় আমানত, স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্রসহ অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ২৪০ টাকা। এরমধ্যে ৩ হাজার টাকা করে মোট ৩০ ভরি স্বর্ণের মূল্য ৯০ হাজার টাকা। নিজের নামে স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৭.২০ একর কৃষিজমির যার মূল্য ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আর স্বামীর নামে ৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। স্বামীর রয়েছে ৩০ একর কৃৃষি ও অকৃষি জমি রয়েছে যার মূল্য ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৪ গন্ডা প্লট মূল্য ৫৮ হাজার ৭০৯ টাকা, চট্টগ্রাম মহানগরের সিডিএতে প্লট মূল্য ১৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা ও জামালখানে ১ হাজার ৫০ বর্গফুটের বাড়ি মূল্য ৩২ লাখ টাকা। এছাড়া নির্ভরশীলদের নামে ৪ কাঠা জমি মূল্য ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ টাকা, দালান ৭৫ লাখ টাকা, ১৪.৫ প্লট মূল্য ৬ লাখ, ৫ কাঠা জমি ২ লাখ ১ হাজার টাকা, ৮ একর জমি ৩ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে।

এছাড়াও সেতারা আহমেদের যৌথ মালিকানায় ০.৮০ জমির মধ্যে ০.৪০ একর জমির মালিক। তার কৃষিখাত, বাড়ি-দোকান ভাড়া ও গরু খামার। এর থেকে সেতারা আহমেদের বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। সেতারার উপর নির্ভরশীলদের বাৎসরিক আয় ৯ লাখ ৪২ হাজার ২০০ টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সেতারা আহমদ বলেন, আমি এবার জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করছি। ইতিপূর্বে লামা উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। আশা করি জনগণ এবারও দেখবেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মোস্তফা জামালের শিক্ষা উচ্চ মাধ্যমিক। পেশা কৃষি ও ব্যবসা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এরমধ্যে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীতে রয়েছে টিভি ১টি, ফ্যান ৪টি, ফ্রিজ ১টি, মোবাইল সেট ৩টি যার মূল্য ৮৫ হাজার টাকা। আসবাবপত্রের মধ্যে আছে সোফাসেট ১টি, আলমারি ২টি, খাট ২টি, চেয়ার ৬টি, আলনা ২টি যার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও নির্ভরশীলদের নামে ৭০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রীর ২০ ভরি স্বর্ণ অলংকার রয়েছে। যার মূল্য ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ০.৫০ শতাংশ জমি, সেমি পাকা ১টি দোকান আছে মোস্তফা জামালের। কৃষিখাত, বাড়ি-দোকান ভাড়া ও ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।