পাহাড়ে জলবায়ুর ক্ষতিরোধসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইউএনডিপি’র ৬৭.২কোটি টাকার“বনায়ন প্রকল্প”(ভিডিও)

॥ আলমগীর মানিক ॥

পার্বত্যাঞ্চলের প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয়দের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ প্রার্ন্তিক জনগোষ্ঠিকে বনায়নের আওতায় সম্পৃক্ত করে সামাজিক বনায়ন সৃষ্টির মাধ্যমে জীবনমানোন্নয়নের পাশাপাশি অত্রাঞ্চলের জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার বছরের পর বছর কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। বুধবার দুইদিনের সফরে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে সফরে এসে মিলার আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বনায়ন, বন ধ্বংস পরবর্তী অত্রাঞ্চলের বনগুলোকে নতুনভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যেসকল উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো চলমান রয়েছে সেগুলোর সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে দেখতে প্রথমবারের মতো রাঙামাটি সফরে এসে রাষ্ট্রদূত আরো জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নে ‘চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস ওয়াটারশেড কো-ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টিভিটি (সিএইচটিডব্লিউসিএ)’ নামে ৬ বছর মেয়াদের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের শেষের দিকে। এতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মাধ্যমে ৬৭.২ কোটি বাংলাদেশী টাকার অনুদান দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, সেগুলোতে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য্য রক্ষায় গুরুত্ব পাবে। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলাসহ সামাজিক বনায়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করা হচ্ছে। বুধবার রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে জাতিসংঘের (ইউএন) উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইড এবং ইউএনডিপির বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেয়া সংক্ষিপ্ত এক ব্রিফিংয়ে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন রাষ্ট্রদূত।

এসময় ইউএসএইডের বাংলাদেশের প্রধান ডরিগ ব্রাউন, রাষ্ট্রদূত মিলার সহ-ধর্মিনী মিশেল এডেলম্যান, বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের প্রেস বিশেষজ্ঞ রিকি সালমিনা, ইউএনডিপির পার্বত্য চট্টগ্রামের সিএইচটিডিএফ প্রকল্পের সমন্বয়নকারী প্রসেনজিৎ চাকমা, ঐশর্য্য খীসা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বন সংরক্ষক সানা উল্ল্যাহ পাটোয়ারীসহ অন্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ইউএসএইড ও ইউএনডিপি’র মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিচালিত ‘চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস ওয়াটারশেড কো-ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টিভিটি (সিএইচটিডব্লিউসিএ)’ নামে এই প্রকল্পটিতে সহায়তা করছে-বাংলাদেশ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের সার্বিক উদ্দেশ্য হচ্ছে-পাহাড়ে টেকসই বন ব্যবস্থাপনাকে এগিয়ে নেয়া, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের টেকসই জীবিকা অর্জনে সহায়তা করা। এসব কার্যক্রমে স্থানীয় কমিউনিটি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন ও জলাভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দেয়া।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও জানান, প্রকল্পে কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে- বনাঞ্চলের চিহ্নিত জলবিভিাজিকাগুলোর কমিউনিটি ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, কমিউনিটির যৌথ ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা-যাতে সরকার ও স্থানীয় কমিউনিটিগুলো সহযোগী হিসেবে সমতার ভিত্তিতে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার কমিয়ে আনতে সংরক্ষিত এলাকা ও তার আশেপাশে বসবাসরত বাংলাদেশীদের জীবিকার মানোন্নয়নসহ তাতে বৈচিত্র্য আনা এবং পাহাড়ের ঢালে টেকসই চাষাবাদ কৌশল গ্রহণের বিষটিকে এগিয়ে নেয়া। আমরা এসব কর্মসূচিকে চলতি বছরের আগষ্ট পর্যন্ত সম্প্রসারিত করতে চাই।

এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদুতের সফর সঙ্গী ইউএসআইডির পরিচালক বলেছেন, পাহাড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় অত্রাঞ্চলের ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা শুরু করেছে ইউএসআইডি। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় বড় ধরনের ক্ষতিরোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা। বাংলাদেশ সরকারের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে কাজ করে যাবে এই সংস্থাটি। মার্কিন দূতাবাসের প্রেস বিশেষজ্ঞ রিকি সালমিনা জানান, রাঙামাটিতে দুই দিনের সফরসূচির মধ্যে আজ রাঙামাটির বরকল উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ইউএনডিপি এবং ইউএসএইড বাস্তবায়িত প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।