উপজেলা নির্বাচনে মানিকছড়িতে আমেজ নেই: দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোটাররা!

॥ মানিকছড়ি প্রতিনিধি ॥

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মানিকছড়িতে নির্বাচনী মাঠে আমেজ নেই! চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর শুধু মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনকে ঘিরে এখানে আওয়ামীলীগে ৩জন প্রার্থী হওয়া এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ে এসে একজনকে অঘোষিতভাবে দলীয় সমর্থন দেয়ায় একদিকে যেমন ভোটাররা দ্বিধাদ্বন্দ্বে অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠে আমেজ নেই বললেই চলে! ফলে ভোটাররা দলীয় প্রাথী ব্যতিত অন্যপ্রার্থীর বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে। সর্বত্র চলছে কানাঘোষা।

নির্বাচনী মাঠ এবং প্রার্থী সূত্রে জানা গেছে, ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোট গ্রহন আগামী ১৮ মার্চ। ফলে দেশ ব্যাপি সর্বত্রই মাঠে এখন নির্বাচনী আমেজ। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে একাধিক প্রার্থী না থাকায় শুধু মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট অনুষ্টিত হবে। আর ক্ষেত্রে প্রার্থী ৪জন। এর মধ্যে ৩জনই আওয়ামীলীগ সমর্থিত এবং ১জন বিএনপি সমর্থিত(সম্প্রতি বিএনপি তাকে দল থেকে বহিস্কার করেছে)। আর নির্বাচন ঘোষণার শুরুতে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক থাকা বাধ্যতামূলক করায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন,ভাইস চেয়ারম্যান পদে উদ্রাচাই কার্বারী ও নূরজাহান আক্তার লাকি’কে দলীয় প্রতীক দেয়া হলেও পরে ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্ত করেন সিইসি। ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্ত করায় উদ্রাচাই কার্বারী প্রার্থী থেকে একপর্যায়ে সরে দাড়াঁয়। অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম খান মকবুল আহম্মদের কন্যা নূরজাহান আক্তার লাকি দলীয় প্রতীক হারানোর পাশাপাশি দলের সমর্থনও হারিয়েছে! এর জায়গায় দলীয় সমর্থন পেয়েছেন উপজাতী নেত্রী ও সাবেক সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ডলি চৌধুরী ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বাবুল। অন্যদিকে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা)রাহেলা আক্তার এবং সাবেক ইউপি সংরক্ষিত সদস্য শিউলি বেগম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন।

প্রথমে দলীয় সমর্থন ও প্রতীক পাওয়া নূরজাহান আক্তার লাকি’র শেষ মূর্হূত্বে এসে দলের সমর্থন হারালেও মাঠ ছাড়েনি। অন্যদিকে লাকির পরিবর্তে দলীয় সমর্থন(অঘোষিত) পাওয়া ডলি চৌধুরীকে জেলা ও উপজেলার সকল আওয়ামীলীগ,ছাত্রলীগ,যুবলীগ সমর্থন দিয়ে তাঁর পক্ষে কাজ করতে নেতা-কর্মীদের নিদের্শ দেয়ায় এবং দলের আরো ২জন প্রার্থী(স্বতন্ত্র) থাকায় ভোটাররা এক ধরণের বিপাকে রয়েছে।

অনেক ভোটারের প্রশ্ন দলীয় প্রতীক পাওয়া নূরজাহান আক্তার লাকি’কে কেন শেষ মূহূর্ত্বে এসে দল সমর্থন প্রত্যাহার করে নিল এবং দলের ৩জন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকা স্বত্ত্বেও কেনই বা দল অঘোষিতভাবে একজনকে সমর্থন দিচ্ছে এ নিয়ে চলছে নানা ধরণের হিসেব-নিকেশ! তবে না প্রকাশ না করার শর্তে দলের একাধিক সূত্রের দাবী আওয়ামীলীগ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং একজন প্রার্থী যেহেতু উপজাতি তাই দলের উচিত তাঁর জন্য তৃণমূলে কাজ করা। এছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য কারো নেই।
এদিকে গত দু’দিন ধরে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে কোন নেতা-কর্মী সাথে পাচ্ছেনা বলে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মাঠে নির্বাচনী পরিবেশ জমজমাট করার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছে সরকার এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্ত করেছে। সেক্ষেত্রে কেনইবা দল এখানে একজনের পক্ষে সকল নেতা-কর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়তে নিদের্শ দিচ্ছে! বিষয়টি আমাদের কাছে বোধগম্য নয়!
এ নিয়ে চলছে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বি ৪ প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান রাহেলা আক্তার(ফুটবল),দলীয় মৌন সমর্থন পাওয়া ডলি চৌধুরী(কলস), প্রতীক ও দলীয় মৌন সমর্থন হারানো নূরজাহান আক্তার লাকি(হাঁস) এবং সাবেক বিএনপি নেত্রী শিউলি বেগম(প্রজাপতি)। তাঁরা প্রতিদিন গণসংযোগ ও প্রচারণায় নিজস্ব আঙ্গিকে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ,ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ,শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়া, দুর্নীতি ,বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ , প্রতিবন্ধী ও সমাজে অবহেলিত নাগরিকদের মূলস্রোত ধারায় এনে সমাজ উন্নয়নে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গিকার ব্যক্ত করছে।

অন্যদিকে প্রশাসন নির্বাচন নির্বিঘ্নে করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।