ব্রেকিং নিউজ

বাহুবলের ইউএনও’র শাস্তির দাবিতে রাঙামাটিতে এলজিইডি’র মানববন্ধন

॥ আলমগীর মানিক ॥

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন কর্তকর্তাদের সাথে অপব্যবহারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতিবাদে আজ সারা দেশব্যপি মানব বন্ধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে এলজিইডি’র জেলা ও সকল উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের অংশগ্রহনে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর এর সামনে মানববন্ধনকরা হয়েছে। মানববন্ধনে রাঙামাটি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াদুল ইসলাম, নানিয়াচর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র রায়, উপসহকারী প্রকৌশলী নয়ন বর চাকমা, উপসহকারী প্রকৌশলী সুরেন্দ্র চাকমা, উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ সিদ্দীকুর রহমান, এলজিইডির হিসাব রক্ষক মোঃ সোলাইমান, সহকারী হিসাব রক্ষক সাইফুল ইসলামসহ এলজিইডির কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বহুল আলোচ্য গত ৬ মার্চ হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন কর্তৃক ক্ষমতা অপব্যবহার করে উপজেলার প্রকৌশলী মহিউদ্দিনকে অবৈধভাবে গ্রেফতার এর ঘটনা কেকেন্দ্র করে ইউএনও অসীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লিখিত অভিযোগ দিযেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীরা। সরকারি কর্মচারি আইন ২০১৮ এর ৪১(১) ধারা অনুযায়ী কোন ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযুক্ত হওযার পূর্বে কোন সরকারী কর্মকর্তাকে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গ্রেফতারের কোন বিধান নেই। অথচ আইন অমান্য করে উপজেলা প্রকৌশলীকে হাতকড়া পরান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসীম উদ্দিন।

অভিযোগে বলা হয়, হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার নির্বাহী অফিসার জসীমউদ্দিন দীর্ঘ দিন ধরে ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে সরকারি টাকা উঠিয়ে নিচ্ছেন। গত ৬ মার্চআরো কিছু ভুয়া বিল নিতে আসলে উপজেলা প্রকৌশলী মহিউদ্দিন স্বাক্ষর করেনি। তখন থানার পুলিশ ডেকে নিয়ে নির্বাহী অফিসারের অফিস রুমে তাকে হাতকড়া পরানো হয়। যা একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার করতে পারে না।

একজন গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করাহযেছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসীমউদ্দিন হবিগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করার পর থেকে পরিত্যক্ত ঘোষিত সরকারি বাসায় বসবাস করে আসছেন। পরিত্যক্ত ঘোষিত বাসা বিধায় তিনি সরকার নির্ধারিত ভাড়া প্রদান না করে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দেখিয়ে সরকারের লাখ-লাখ টাকা আত্মসাত করে আসছেন। সরকারি টাকা না দিতে উপজেলা প্রকৌশলী দ্বিমত পোষন করার পর থেকে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ধরণের অনিয়ম ছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে অনেক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

আরো উল্লেখ্য যে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসিম উদ্দীন কযেকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াারম্যানের সাথে যোগসাজশে এডিবি এবং ভূমি উন্নয়ন তহবিল ( ১%ভূমি তহবি:) এর উকিলা-করেছেন। সাতকাপন ইউনিয়নের ১% ভূমিকর তহবিলের একটি কাজের বিল প্রদানের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে চাপ সৃষ্টি করেন। উপজেলা প্রকৌশলী বিল, ভাউচারে অনিয়ম থাকায় এর নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাটির কাজ করায় বিল প্রদানে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনার পরই উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসিম উদ্দীন বেলা সাড়ে এগারটায় নিজ উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অবৈধ ভূয়া বিল বসিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করে হাতকড়া পড়ান। যা নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় চলছে।