অনাগ্রহের নির্বাচনে নেই উৎসবের আমেজঃ ঝিমিয়ে প্রচার-প্রচারণা!

॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বাকী আর অল্প কয়দিন। নির্বাচন নিয়ে তেমন কোন উৎসাহ নেই সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। কখন ভোট তাও যানা নেই অনেক ভোটারের। তবে খাগড়াছড়ির ৮ উপজেলার মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বতায় খাগড়াছড়ি সদর ও মানিকছড়ি উপজেলায় নৌকার দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচীত হওয়ায় বাকী ৬ উপজেলায় চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে জয়ের লক্ষে মরিয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামীলীগের নৌকার প্রার্থীরা।

পঞ্চম এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণা দেখা গেছে ভিন্ন দৃশ্য। আগের সকল নির্বাচনে মাইকিং করে কর্মী-সমর্থক ভরা চাঁদের গাড়ী দেখা গেলেও এখন প্রচারনাটা যেন ডিজিটালে ছোয়া লেগেছে। গাড়ীতে ক্যাসেট এ চলছে প্রার্থীরা রেকর্ডিং প্রচারনা। বিভিন্ন উপজেলায় সদর এলাকায় প্রচারনা বাদ দিয়ে প্রত্যন্ত এলাকাকে প্রধান্য দিয়ে দূর্গম এলাকাকে র্টাগেট রেখে ভোটারদের মন জয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

তার মধ্যে প্রচারণায় এগিয়ে কিছুটা উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে- পানছড়ি,লক্ষীছড়ি ও মহালছড়ি উপজেলা। কারণ জাতীয় রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের পাশাপাশি আঞ্চলিক দলের প্রার্থীরাও স্বতন্ত্র পদে চেয়ারম্যান পদের জন্য লড়ছেন। ফলে জয়ের র্টাগেটকে কাজে লাগাতে উপজাতীয় ভোটরদের ধারে ধারে ভোট ভিক্ষায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে প্রার্থীসহ কর্মী-সমর্থকরা। চেয়ারম্যানের পদ পেতে মরিয়া সরকার দলীয় প্রার্থীরাও নেমেছে আট-ঘাঠ বেঁধে। এ যেন জয়-পরাজয়ের প্রাণপন খেলা।

তবে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ এ নির্বাচনে খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দিয়েছে এবার তরুণ-প্রবীণের সমন্বয়ে। তৃনমুলের ভোট ও দলীয় সিদ্ধান্তে আট উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় টিকিটও পেয়েছেন প্রার্থীরা।

ইতি মধ্যে ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের হিসাব নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে। ভোটারা যোগ্য,শিক্ষিত,তরুণ ও মেধা সম্পন্ন ব্যক্তি চেয়ারম্যান জয়যুক্ত করা গেলে উন্নয়ন তরান্বিত হবে বলে চায়ের দোকানে দোকানে চলছে গুঞ্জন। তবে এবার জয়ের উৎসাহটা যেন প্রার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের প্রতি যেমনি নেই উৎসাত তেমনি অনাস্থার দৃশ্য এখন চারদিকে যেন ভোটের মাঠে হাহাকার শব্দটা দৃশ্যমান। আগামী ১৮ই মার্চ নির্বাচনে দৃশ্যমান হবে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বাস্তব দৃশ্যপট। আগামী ১৮ মার্চ সারাদেশের মত খাগড়াছড়ির ৮উপজেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আট উপজেলায় নৌকার প্রার্থী যারা, আট উপজেলার মধ্যে খাগড়াছড়ি সদরে আওয়ামী লীগ নেতা মো: শানে আলম ও মানিকছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: জয়নাল আবেদীন ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে তাজুল ইসলাম বাবুল জয়লাভ করেছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বতায়।

এছাড়াও মাটিরাঙ্গায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম,খাগড়াছড়ি রামগড়ে পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক বিশ্ব প্রদীপ ত্রিপুরা,দীঘিনালায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মো: কাশেম,পানছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক বিজয় কুমার দেব, লক্ষীছড়িতে বাবুল চৌধুরী এবং মহালছড়িতে ক্যজাই মারমা নৌকার প্রতিকে নির্বাচনে লড়ছেন।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কার কি প্রতিক: খাগড়াছড়িতে ভোটার সংখ্যা ৮১,১৪৫ জন। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে-জয় কুমার চাকমা (বই), মো: আকতার হোসেন (চশমা), আবু হানিফ (টিয়া পাখি), রণিক ত্রিপুরা (টিউবওয়েল), রুতান চৌধুরী (তালা)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে-নিউসা মগ (প্রজাপতি), বিউটি রানী ত্রিপুরা (পদ্ম ফুল) ও সালমা আহাম্মেদ মৌ (কলস)।

দীঘিনালায় ভোটার সংখ্যা ৭৫,৫৪০জন। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে-উমেশ কান্তি চাকমা (হেলিকপ্টার), প্রফুল্ল কুমার চাকমা (আনারস)। ভাইস চেয়ারম্যান- মো: মোস্তফা কামাল (টিউবওয়েল), সমদা নন্দন চাকমা (তালা) সুসময় চাকমা (চশমা) ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান-গোপা দেবী চাকমা (প্রজাপতি),লিপি দেওয়ান (বৈদ্যুতিক পাখা),সীমা দেওয়ান (কলস)।

মহালছড়িতে ভোটার সংখ্যা ৩১,৮৯৩ জন। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে-একেএম হুমায়ুন কবির (মোটর সাইকেল), কাকলী খীসা (আনারস), বিমল কান্তি চাকমা (কাপ-পিরিচ), সুকুমার চাকমা (ঘোড়া)। ভাইস চেয়ারম্যান-ক্যাচিংমিং চৌধুরী (উড়ো জাহাজ), মো: জসিম উদ্দিন (বই), হৃদয় চাকমা (টিউবওয়েল)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অং¤্রা মারমা (পদ্ম ফুল),ভৌমিকা ত্রিপুরা (কলস),শেফালী আক্তার (ফুটবল), সুইনুইচিং চৌধুরী (প্রজাপতি),স্বপ্না চাকমা (সেলাই মেশিন)।

মাটিরাঙ্গায় ভোটার সংখ্যা ৭৫,৩৭৫ জন। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে- মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া (দোয়াত কলম), মো: তাজুল ইসলাম (আনারস)। ভাইস চেয়ারম্যান-আলী হোসেন (চশমা), মো: আনিসুজ্জামান (বই), মো: আনোয়ার হোসেন ভূইয়া (টিয়াপাখি),মো: আবুল বশর (টিউবওয়েল), মনির হোসেন (মাইক)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে-খাদিজা বেগম (লাঙ্গল), মরিয়ম বিবি (ফুটবল), রোজিনা বেগম (প্রজাপতি),হাসিনা বেগম (কলস),হোসনেয়ারা বেগম (হাঁস)।

রামগড়ে ভোটার সংখ্যা ৩৮,৫৭০ জন। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান- মো: আবু বক্কর ছিদ্দিক (আসারস)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে- কাজী মো: জিয়াউল হক (তালা),মো: আনোয়ার ফারুক (টিয়া পাখি)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে-নাছিমা আহসান নীলা (প্রজাপতি), হাসিনা আক্তার (কলস)।

পানছড়িতে ভোটার সংখ্যা ৪৮,৪৮৩ জন। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে-মিটন চাকমা (আনারস), শান্তি জীবন চাকমা (কাপ-পিরিস)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে-চন্দ্র দেব চাকমা (তালা), জনেশ আয়ন চাকমা (মুকুল) (চশমা), প্রশান্ত চাকমা(টিউবওয়েল), মুনিন্দ্র লাল ত্রিপুরা (টিয়া পাখি), মো: শাহাজাহান কবির সাজু (উড়ো জাহাজ), হারুনুর রশিদ (মাইক)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে- মনিতা ত্রিপুরা (ফুটবল), মিলন বিবি (কলস), রত্মা তঞ্চগ্যা (হাঁস)।

মানিকছড়িতে ভোটার সংখ্যা ৪৩,৫২৯ জন। এ উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে-ডলি চৌধুরানী (কলস),নুরজাহান আফরিন লাকী (হাঁস), শিউলী বেগম (প্রজাপতি), রাহেলা আক্তার (ফুটবল)।

লক্ষ্মীছড়িতে ভোটার সংখ্যা ১৮,২৯৯ জন। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে-অংগ্যপ্রু মারমা (মোটর সাইকেল), নীল বর্ণ চাকমা (ঘোড়া), রাজেন্দ্র চাকমা (আনারস), স্বপন চাকমা (দোয়াত-কলম)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে-উল্লাচি মারমা (চশমা), মো: নুরে আলম(টিউবওয়েল), রাজু চাকমা দীপান্তর (তালা)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে- মিনুচিং মারমা(পদ্ম ফুল), মেরিনা চাকমা (ফুটবল), রত্ম চাকমা( কলস), সুমনা চাকমা( তীর-ধনুক)।

প্রসঙ্গত: চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ শুধু মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে জয় পায়। রামগড় ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায় বিএনপি, মহালছড়ি উপজেলা পরিষদে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা)’র প্রার্থী এবং অন্য পাঁচটি উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে জয় লাভ করে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী।