নির্বাচনের আগমূহুর্তে আলীকদমে সহিংসতাঃ যুবলীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

॥ আলীকদম প্রতিনিধি ॥

নির্বাচনের শেষমূহুর্তে আলীকদমে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৮ মার্চ) উপজেলা পরিষদের পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে আলীকদম উপজলায় ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল রবিবার আলীকদম প্রেসক্লাবে উপজেলা যুবলীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কালামের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

যুবলীগের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত শনিবার (১৬ মার্চ) আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জামাল উদ্দিনের জনসভা থেকে ফেরার পথে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিনারুল ইসলামের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনার জের ধরে রবিবার (১৮ মার্চ) বিকাল তিনটায় আলীকদম প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে উপজেলা যুবলীগ। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিউল আলম।
লিখিত বক্তব্যে দাবী করা হয়, শনিবার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জামাল উদ্দিনের জনসভা শেষে যুবলীগ নেতা মিনার রাত ১০ টার সময় পান বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এ সময় তিনি পান বাজারস্থ রেস্ট হাউজের সামনে পৌঁছুলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালামের সমর্থিত ২৫-৩০ জনের একদল দুবৃত্ত পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাতে লাঠিসোটা, ধারালো দা, লোহার রড নিয়ে যুবলীগ নেতা মিনারের গতিরোধ করে।

পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালামের সমর্থিত ওমর ফারুক, দেলোয়ার ও যুবলীগের দলছুট কর্মী নুরুল আলমের নেতৃত্বে মিনারের ব্যবহৃত ১২৫সিসি ডিসকভার মোটর সাইকেলটি দুর্বৃত্ত দল পুুড়িয়ে দেয়। সংবাদ সম্মেলনের পঠিত বক্তব্যে স্বাক্ষর করেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার জিহাদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিউল আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শুভরঞ্জন বড়–য়া ও ছাত্রলীগ সভাপতি সৌরভ পাল ডালিম প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে লামা ও আলীকদম উপজেলার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগ নেতারা দাবী করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম তার একাধিক জনসভায় প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে হত্যার হুমকী দিয়েছেন। স্থানীয় উচ্ছেৃঙ্খল লোকজন ছাড়াও এ উপজেলার বাইরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের সাথে সাথে তার আঁতাত আছে।

লিখিত বক্তব্যে দাবী করা হয়, সোমবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে যুবলীগ নেতা মিনারের মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেছে।
এদিকে, রবিবার বিকাল ৫টায় আলীকদম প্রেসক্লাবে পাল্টা এক সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন পরিকল্পিতভাবে মোটর সাইকেল পোড়ানোর ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কমী ড্রাইভার মিজান, আওয়ামী লীগ নেতা কফিল ও ড্রাইভার শামশুর নেতৃত্বে মোটর সাইকেল পোড়ানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দল আমার ও আমার লোকজনের ওপর ওপর জুলুম করছে। তার দাবী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি আমার নির্বাচনী প্রোগ্রামের একটা তালিকা প্রশাসনের কাছে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ১৬ মার্চ আমাকে নির্ধারিত স্থান আলীকদম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জনসভা করতে দেয়নি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মৌখিক বক্তব্যে আরো বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমিই আবারো উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হবো। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তিনি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, যে মোটর সাইকেলটি পোড়ানো হয়েছে তা মিনারের নয়। এটি প্রার্থীর বড় ভাইয়ের ছেলে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কুরুকপাতা, বলাইপাড়া, পোয়ামুহুরী, মিরিংচর, বাবু পাড়া, কালাইয়ারছড়া, লাইতুমনি পাড়া, রেংপুং হেডম্যান পাড়া, মাংতাই হেডম্যান পাড়া, আদু পাড়া, নয়াপাড়া, মংচা পাড়া, মমপাখই হেডম্যান পাড়া, চিনারী বাজারসহ মোট ১৪টি ভোট কেন্দ্রসমুহে ভোট কারচুপির আশংকা রয়েছে। তাই তিনি প্রশাসনকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানান।