ব্রেকিং নিউজ

রুমায় নারী মেম্বারকে লাথি মারলেন আ’লীগ নেতা!

॥ বান্দরবান প্রতিনিধি ॥

বান্দরবানের রুমায় ছোমাচিং মারমা নামের এক নারী মেম্বারকে লাথি মেরেছেন পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় জেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, রুমা উপজেলা সদরে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় একটি রেষ্টুরেন্টে গতকাল দুপুরে ভাত খাচ্ছিলেন পাইন্দু ইউনিয়নের ১,২,৩ নাম্বার ওয়ার্ডের এর নারী মেম্বার ছোমাচিং মারমা (২৮)। ঐ সময়ে পাইন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা উহ্লামং মারমাও ঐ রেষ্টুরেন্টে খাবার খেতে যান। দেখা হওয়ার পর চেয়ারম্যান উহ্লামং নারী মেম্বারকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ায় নারী সদস্য (মেম্বার) পদ থেকে পদত্যাগের কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতকের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সবার সামনে রেষ্টুরেন্টে নারী মেম্বার ছোমাচিং মারমাকে লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেন চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা। এতে আহত হন নারী মেম্বার।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে নারী মেম্বারকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নারী মেম্বার ছোমাচিং মারমা রুমা থানায় অভিযোগ করতে গেলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান পাইন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা উহ্লামং মারমা’সহ দুজনকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে যান। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যানকে নারী মেম্বারের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। কিন্তু তারা রাজি হয়নি।

অভিযুক্ত পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা বলেন, নারী মেম্বার ছোমাচিং মারমা আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। ক্ষিপ্ত হয়ে আমি তাকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছি। রাগের মাথায় আমার বিষয়টি ভুল হয়েছে।

তবে নারী মেম্বার ছোমাচিং মারমা বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো মীমাংসা হয়নি। দু’একদিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করব আমি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কাশেম চৌধুরী জানান, ঘটানাটি আমি মানুষের কাছ থেকে শুনেছি। তবে এ ঘটনায় থানায় এখনো মামলা হয়নি। ভুক্তভোগীও কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।