ব্রেকিং নিউজ

বুধবার থেকে রাঙামাটিতে অনির্দিষ্ট্যকালের নৌ-ধর্মঘট! মিথ্যাচারের অভিযোগ ডিসি’র

॥ আলমগীর মানিক ॥

কাপ্তাই হ্রদে যাত্রী পরিবহনে বেসরকারী উদ্যোগে চলাচলকারি স্প্রীড বোট ও স্টাফ বোট পরিবহন সার্ভিস বন্ধের দাবিতে বুধবার থেকে অনির্দিষ্ট্যকালের নৌ পরিবহণ ধর্মঘট ডেকেছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারি লঞ্চ মালিক সমিতি তথা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহণ) সংস্থা রাঙামাটি জোন কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যারাতে সংস্থার রাঙামাটির চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন সেলিম স্বাক্ষরিত উক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাঙামাটি লেকে প্রায় শতাধিক অবৈধ স্পীড বোট ও স্টাফ বোট নিজেরাই সময়সূচী দিয়া যাত্রী পরিবহন করায় লঞ্চ মালিকগণের চরম আর্থিক ক্ষতি করিতেছে,যা সম্পূর্ণ বে-আইনী ও অবৈধ। অবৈধ স্প্রীড বোট ও স্টাফ বোটের শ্রমিকদের সাথে যাত্রী নিয়ে টানাটানিকে কেন্দ্র করে নৌ-যান শ্রমিকদের সাথে প্রতিদিন হাতাহাতি ও মারামারি হচ্ছে। এতে নৌ-যান শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ১০/০৪/১৯ইং হইতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ-ধর্মঘট পালন করবে বলে লঞ্চ মালিকগণকে জানায়।

উপরে উল্লেখিত বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের নিকট বারবার অনুরোধ করার পরেও কোন ব্যবস্থা বা সহযোগিতা না পাওয়ায় আমাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী আগামী ১০/০৪/১৯ইং রোজ বুধবার হইতে যথাযথ নৌ-ধর্মঘট পালন করা হইবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তির শেষে উল্লেখ করা হয়, বুধবার শুরু হওয়া নৌ-ধর্মঘটের মাধ্যমে যদি আমাদের দাবি মানা নাহয় তাহলে বৃহস্পতিবার থেকে এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়ে সড়ক ও নৌ-যান মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সকল পরিবহন বন্ধ রেখে একসাথে ন্যায্য দাবী আদায়ের ঘোষণা দেয়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, এটা সম্পূর্ন মিথ্যা-বানোয়াট এবং বেআইনি অভিযোগ জনাব সেলিমের। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিজের গুরুত্বর অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে সেখানে অবস্থান করছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক প্রতিবেদককে বলেন, আমি এই বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছি। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ আগেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, বৈঠকে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ এবং ডিজি শিপিংয়ের প্রতিনিধিও অংশগ্রহণ করেছিলেন।

এসময় উভয় পক্ষই সমঝোতায় পৌছেছিলো। এর পরবর্তী আমি আবারো জনাব মঈন উদ্দিন সেলিমকে ডেকে আগামী পহেলা বৈশাখ ও বিজু অনুষ্ঠানের কথা বিবেচনায় নিয়ে আপাতত শান্ত থাকার জন্যে অনুরোধও করেছিলাম। কিন্তু তিনি বিষয়টি সম্পূর্ন অগ্রাহ্য করে এমন একটি অভিযোগ জানালেন যাহা এক্কেবারেই মিথ্যাচার। জেলা প্রশাসক জানান, আমি এ পর্যন্ত সকল প্রকার সার্বিক সহযোগিতা করে এসেছি।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে অকাঙ্খিত কর্মসূচীর ডাক দিয়ে সেলিম যদি মনে করেন, রাঙামাটির প্রশাসন তার কথামতো চলতে হবে তাহলেতো বিষয়টি তেমনভাবে হয় না। জেলা প্রশাসক বলেন, দেশের মানুষের আয় বেড়েছে বিধায়, নাগরিকদের পকেটে টাকা আছে, সেক্ষেত্রে তাদের চলাচলসহ জীবন যাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেক্ষেত্রে নাগরিকরা যদি টাকা খরচের বিনিময়ে তাদের সময় বাঁচাতে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে সেক্ষেত্রে কেউ কি বাধা দিয়ে রাখতে পারবে? এমন প্রশ্ন করে জেলা প্রশাসক বলেন, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার বদ্ধ পরিকর। সুতরাং আইন তার নিজস্বগতিতে চলবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থা বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির চট্টগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর নয়নশীল জানিয়েছেন, আমরা উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করেছি এবং স্প্রীড বোট মালিকগণ আইনানুগভাবে নিয়মকানুন মেনে তাদের বোট চালাবেন এ ক্ষেত্রে কয়েকটা দিন সময় প্রার্থনা করেন তারা। এতে সকলেই একমত পোষণ করেছিলো। কিন্তু আকস্মিকভাবে নৌ-ধর্মঘটের ডাক দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটা জনদূর্ভোগ বাড়াবে। এই ধরনের কর্মসূচী দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া মোটেও যৌক্তিক নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রাঙামাটির দুইটি উপজেলা ছাড়া বাকি আটটি উপজেলা যোগাযোগের অন্যতম প্রধান রুট হলো কাপ্তাই হ্রদ। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান উৎসব বিঝু-সাংগ্রাই-বৈসাবিনসহ পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানের সময় এই ধরনের নৌ-পরিবহন ধর্মঘট ডাকায় চরমভাবে জনদূর্ভোগে পড়বে অত্রাঞ্চলের বাসিন্দারা।