বর্ষবরণ ও বিদায়ে মারমা জনগোষ্টির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

॥ মানিকছড়ি প্রতিনিধি ॥

বাংলা বিদায়ী বর্ষ ১৪২৫ কে বিদায় ও নববর্ষ ১৪২৬কে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় খাগড়াছড়িকে মাতিয়ে তুলেছে শনিবার মারমা জনগোষ্টিরা। আর বৈসাবীকে ঘিওে নতুন সাঁজে সেজেছে তরুণ-তরুণীরা। সকালে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল রুবায়েত মাহমুদ হাসিব,পিএসসি,জি আর বিকালে মংরাজ আবাসস্থল মানিকছড়িতে শোভাযাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটে।

সমাজের সকল পাপাচার,গ্লানী,দুঃখ-বেদনা ধূয়ে মুছে পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করতে পাহাড়ে উপজাতি জনগোষ্টিরা ৩ দিন ব্যাপি পালন করছে নানা উৎসব। বৈসু,সাংগ্রাই ও বিজু এ তিনটি নামের প্রথমাক্ষওে নামকরণ হয়‘ বৈসাবী’। চাকমা,মারমা আর ত্রিপুরারা মিলে এ উৎসবকে রাঙ্গিয়ে তোলে হরেক রঙ্গে। কাল পহেলা বৈশাখ। ফলে শনিবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ির প্রতিটি পাড়া-মহলা ও গ্রামে-গঞ্জে মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণী,শিশু-কিশোর,বয়োঃবৃদ্ধ সকলেই এ উৎসবকে ঘিরে ছিল মহানন্দে। সকালে গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছি তে বর্ণিল আয়োজনে বের করা হয় শোভাযাত্রা। এ শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন ১৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারীর জোন অধিনায়ক লে.কর্ণেল রুবায়েত মাহমুদ হাসিব,পিএসসিপ,জি। বিশেষ অতিথি ছিলেন,উপজেলা চেয়ারম্যান উশেপ্রু মারমা,ইউপি চেয়ারম্যার রেদাক মারমাসহ মারমা তরুল-তরুণীরা।

অপরদিকে বিকাল ৪টায় মংরাজ আবাসস্থল মানিকছড়িতে অনুষ্টিত হয় বর্ণিল সাঁজে সজ্জিত হাজারো মারমা জনগোষ্টির উপস্থিতিতে একটি দীর্ঘ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ম্্রাগ্য মারমা,উপজেলা আ.লীগ সভাপতি ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মো.জয়নাল আবেদীন,আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক মো.মাঈন উদ্দীন, ইউপি চেয়ারম্যান মো.শফিকুর রহমান ফারুক,অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশীদ,মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি মংশেপ্রু মারমা, সাধারণ সম্পাদক রিপু মারমা। র‌্যালি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে রাজবাড়ী হয়ে মহামুনি চত্বরে গিয়ে আলোচনাসভার মাধ্যমে শেষ হয়েছে।

কাল সকালে প্রশাসনের উদ্যোগে নুতন বছরেকে বরণে রয়েছে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। এছাড়া মহামুনি চত্বরে জমবে ঐতিহ্যবাহী মহামুনি মেলা। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় উপজেলার অন্তত ২০টি পাড়া-মহল্লা,ক্লাবের হাজারো মারমা নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সাঁজ-পোশাকে সেজে জুমচাষী, হুক্কা সেবনের ভঙ্গিমাসহ নানা উপকরণ প্রদর্শণ করে শোভাযাত্রাকে আকর্ষণীয় করে তোলেন। এ যেন পাহাড়ে চিরাচরিত্রের রঙ্গিন মহড়া।