রাঙামাটি বিএফডিসি’র ব্যবস্থাপক নৌ-কমান্ডার আসাদকে আলোকিত সরকারী কর্মকর্তার স্বীকৃতি

॥ আলমগীর মানিক ॥

দক্ষতা ও কর্মতৎপরতার মাধ্যমে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য সম্পদের ব্যাপক উন্নতি সাধনে অসামান্য অবদান রাখায় এবার আলোকিত সরকারী কর্মকর্তার স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএফডিসি রাঙামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক নৌ কমান্ডার মোঃ আসাদুজ্জামান খান। সম্প্রতি রাঙামাটি শহরের তবলছড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর এই চৌকস কর্মকর্তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেয় বাংলা নববর্ষ উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

রাঙামাটিতে চলমান অনলাইন নিউজ পোর্টাল আলোকিত রাঙামাটির সৌজন্যে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে বলে আয়োজকদের সূত্রে জানাগেছে। গত ১৫ই এপ্রিল রাঙামাটির মাঝেরবস্তি এলাকায় নববর্ষ উদযাপন পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাঙামাটির বিশিষ্ট্যজনের উপস্থিত থেকে এই পুরস্কার তুলে দেন। বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর কমান্ডার পদমর্যাদার মোঃ আসাদুজ্জামান খান বিগত দু’বছর আগে বিএফডিসি রাঙামাটি কেন্দ্রে ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেছিলেন।

সারাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যেসকল প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দূর্নীতিতে ভরপুর হয়ে ধারাবাহিকভাবে লস দিয়ে যাচ্ছিলো,সেসকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকার নৌ-বাহিনীর মেধাবী কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ প্রদান করে আসছে। মূলতঃ প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আগ্রহেই নৌ-বাহিনীর কর্মকর্তাদের এসব প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে করে ধবংশ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো লাভের মুখ দেখতে শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত এক দশক সময়কাল ধরে রাঙামাটির বিএফডিসিতে নৌ-বাহিনীর কমান্ডার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আসছে সরকারের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ।

২০১৭ সালের ফেব্র“য়ারীর শেষান্তে রাঙামাটি বিএফডিসিতে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় স্টেক হোল্ডারদের সহযোগিতায় কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিসহ হ্রদের প্রাকৃতিকভাবে মাছ উৎপাদন ও মৎস্য প্রজননে অবৈধভাবে বাধা হয়ে থাকা অবৈধ জাঁক অপসারণসহ অভয়াশ্রমগুলোতে অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধে কঠোর অবস্থানে থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেন কমান্ডার আসাদ।

এছাড়াও কাপ্তাই হ্রদের মাছ থেকেই রেনু সংগ্রহপূর্বক সেগুলোকে হ্যাচিং করাসহ মাছের পোনা উৎপাদনে বিএফডিসির নিজস্ব হেচারি চালুর মাধ্যমে হ্রদের পানিতেই উৎপাদিত পোনা অবমুক্তকরণে সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়ে কাপ্তাই হ্রদে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন যেমনিভাবে বেড়েছে তেমনিভাবে অবমুক্তকরণকৃত পোনাগুলোও বেড়ে উঠার পাশাপাশি প্রজনন করছে।

এতে বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবছর আরো বেশি পরিমাণে রাজস্ব আয় হবে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়িরা। পরিবেশগত ও ভৌগলিক প্রকৃতি নির্ভর পাহাড় আর জলসম্পদে ভরপুর পার্বত্য রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে আশাতিত ভাবে বেড়েছে দেশীয় প্রজাতির বড় মাছের উৎপাদন। অত্রাঞ্চলের মৎস্য সেক্টরে বর্তমানে দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়িরা।

উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে কর্ণফুলী নদীর উপর বাঁধ দিয়ে এই পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বাপেক্ষা আলোড়ন সৃষ্টিকারী নয়নাভিরাম বৃহৎ এই কাপ্তাই হ্রদের জন্মলাভ ঘটেছিল। দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টিকরা কাপ্তাই হ্রদের আয়তন ৭২৫ বর্গকিলোমিটার এবং হ্রদের নূন্যতম গভীরতা ১০ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা গড়ে ৪৯৫ ফুট। বিশালাকৃতির এই হ্রদ দেশের মিঠা পানির মাছের একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। বিগত ১৯৬৪ সালের পর থেকে মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএফডিসিকে এই বিশাল জলাভূমির সার্বিক দায়িত্ব দেয়া হয় যা অদ্যাবধি বিরাজমান আছে।