ব্রেকিং নিউজ

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন! রাঙামাটিতে ভাইসহ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে বালিশ চাপা এবং পরবর্তী সিলিন্ডারের জ্বালানী গ্যাস ছেড়ে দিয়ে হত্যা চেষ্টাসহ গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগে রাঙামাটি সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের নেতা সাইফুল ইসলাম ও তার ভাই সাজ্জাদকে গ্রেফতার করেছে রাঙামাটির কোতয়ালী থানা পুলিশ। আটককৃত সাজ্জাদের বিরুদ্ধে তার ভাবীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছে ভূক্তভোগী গৃহবধূ।

রোববার দিবাগত রাত আটটার সময় শহরের রিজার্ভ বাজারের ২নং পাথরঘাটা এলাকা থেকে এই দু’ভাইকে গ্রেফতার করে কোতয়ালী থানায় নিয়ে যায় এসআই মোবারক হোসেন। আটককৃতরা উভয়েই ২নং পাথরঘাটার জনৈক আবুল হাশেমের সন্তান।

কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ রোববার দিবাগত রাতে কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ১১(ক)/১১(গ)/৪(১)/১০/৩০তৎসহ ১৮৬০ সালের পেনাল কোড এর ৩১২/৫০৬ দণ্ড বিধিতে মামলা দায়ের করেছেন। কোতয়ালী থানায় দায়েরকৃত মামলা নাম্বার-২২, তারিখ: ২১/০৪/২০১৯ইং। মামলার মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবির ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুপি উল্লাহর সার্বিক নির্দেশনা অনুসারে অভিযান চালিয়ে উপরোক্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখিত তথ্যের মাধ্যমে ভূক্তভোগী গৃহবধূ লায়লা অভিযোগ করেছেন, বিগত ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের ৭ তারিখে উল্লেখিত সাইফুলের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সময় তার স্বামীকে নগদ এক লাখ টাকা যৌতুক প্রদান করা হয়েছিলো। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল প্রথমে নগদে এক লাখ, পরে আরো দুই লাখ টাকা নিয়েও ক্ষান্ত হয়নি। পরবর্তীতে আরো ৫ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্যে তার স্ত্রীকে প্রায় সময়ই নির্যাতন চালাতো। যৌতুকের চাহিদা না মেটানোয় সাইফুল তার স্ত্রীর গর্ভে থাকা দুই মাস পাঁচদিনের বাচ্চাটিও ট্যাবলেটের মাধ্যমে নষ্ট করে দেয়।

এদিকে সাইফুলের ভাই সাজ্জাদ সাইফুলের অনুপস্থিতিতে উক্ত গৃহবধূর রুমে প্রবেশ করে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্ঠা করতো। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ তারিখেও সাইফুল তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেওয়ার জন্যে ব্যাপকভাবে মারধর করে এক পর্যায়ে তার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্ঠা চালায়। এসময় কোনো রকম প্রাণে বেঁেচ উঠলেও পরক্ষণেই সাইফুলের ছোট ভাই সাজ্জাদ রুমে প্রবেশ করে গ্যাসের সেলিন্ডারের মুখ খুলে দিয়ে গ্যাসের আগুনে মেয়েটিকে পুড়িয়ে মেরে ফেলতে চায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এসময় গুরুত্বর আহতাবস্থায় প্রাণ নিয়ে কোনো রকমে রুমের বাইরে এসে চিৎকার করতে থাকলে স্থানীয় প্রতিবেশি ও স্বজনরা এসে তাকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে ২১ তারিখ বিকেল পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে রাতে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগী ঐ নারী। এদিকে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বিষয়টি রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির এর নজরে আসায় তিনি তাৎক্ষনিকভাবে কোতয়ালী থানা পুলিশকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করার পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ছুফি উল্লাহকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি।

তিনি জানান, আমাদের নজরে বিষয়টি আসার পরপরই আমরা অভিযান পরিচালনা করে আসামীদ্বয়কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে এসেছি এবং ভূক্তভোগী নারীকে আমরা নিরাপত্তা দিয়ে তার ইচ্ছানুসারে তার স্বজনের বাসায় পৌঁছে দিয়েছি। উক্ত নারীর নিরাপত্তার ব্যাপারে কোতয়ালী থানা পুলিশ সজাগ রয়েছে বলেও জানান ওসি।