ব্রেকিং নিউজ

রাঙামাটির কোতয়ালীতে এক মাসে মাদকের ২২টিসহ ৩৫ মামলায় গ্রেফতার-৮৩

॥ আলমগীর মানিক ॥

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনের প্রয়োগ করতে গিয়ে নানামুখি রাজনৈতিক প্রভাব সত্বেও রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় বিগত এপ্রিল মাসে মাদক,নারী নির্যাতন, ধর্ষন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ ফৌজদারি নানা অপরাধে অন্তত ৩৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার বিপরীতে ৩৬ জনকে এবং জি-আর ও সি-আর মামলায় ওয়ারেন্ট তামিল করা নিয়ে সর্বমোট ৮৩ জনকে গ্রেফতার করেছে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে থানায় গত এক মাসে রুজু হওয়া ৩৫ মামলার মধ্যে শুধুমাত্র মাদকের মামলা-ই হয়েছে ২২টি। এই ২২ মামলার বিপরীতে গ্রেফতার করা হয়েছে ২৬ জনকে। এসকল আসামীর কাছ থেকে ১৮৬ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭১ পুড়িয়া গাঁজা ও ২৩০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশের সদস্যরা।

কোতয়ালী থানা সূত্রে জানাগেছে, কোতয়ালী থানায় এমাসে মাদকের মামলাগুলোর অধিকাংশই এসআই মোবারক হোসেন কর্তৃক দায়েরকৃত। এসব মামলায় আটককৃত আসামীদের এক তৃতীয়াংশকেই গ্রেফতার করেছেন মোবারক।

অপরদিকে, এপ্রিল মাসে দায়েরকৃত ৩৫ মামলার মধ্যে ধর্ষণ মামলা রয়েছে একটি, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা রয়েছে একটি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে একটি, বাকিগুলোর মধ্যে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের মামলাও রয়েছে। এমাসে জিআর মামলায় ২৮টি এবং সিআর মামলায় ১৯টি ওয়ারেন্ট তামিল করা হয়েছে।

কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি উপরোক্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রাঙামাটি শহরে মাদকের ভয়াবহ ছৌবল থেকে তরুন প্রজন্মকে রক্ষায় নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবীর। তারই প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় কোতয়ালী থানা পুলিশের মাসব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে শুধুমাত্র মাদকেরই ২২ মামলায় আটক করা হয়েছে ২৬ জনকে। আটককৃতরা সকলেই মাদক ব্যবসার সাথে ওতঃপোত ভাবে জড়িত।

বর্তমানেও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে ওসি রনি জানান, ইতিমধ্যেই আমরা চিহ্নিত মাদক বিক্রেতাদের আইনের আওতায় অনেকটাই নিয়ে এসেছি। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাদকসেবীরা তাদের সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তন করে নব কৌশলে ছোট ছোট চালানের মাধ্যমে মাদকের কেনাবেচা চালাচ্ছে। এতে করে বড় বড় চালান আমরা ধরতে পারছিনা।

এছাড়াও বর্তমান সময়ে মাদকসেবীদের বড় একটি অংশ মাদক কেনাবেচা করছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে। পুলিশ হ্রদে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করতে গেলে মাদকসেবীরা তাদের কাছে রক্ষিত মাদক দ্রব্যগুলো নদীর পানিতে ফেলে দিয়ে আলামত মুক্ত থাকায় তাদেরকে হাতেনাতে আটক করা অনেক সময় সম্ভবপর হয়ে উঠে না।

ওসি জানান, জনগণের তুলনায় এখনো পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য হয়ে উঠেনি। তাই সমাজের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনসাধারণকেই এগিয়ে এসে পুলিশকে সহযোগিতা করার কোনো বিকল্প নেই। এই ক্ষেত্রে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা যদি পুলিশকে মাদক ব্যবসায়ি ও ক্রেতাসহ সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে তাহলে রাঙামাটি শহরের মতো একটি ছোট্ট শহরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে খুব একটা বেশি সময় লাগবেনা।