ব্রেকিং নিউজ

রাঙামাটিতে দিশেহারা বিএ শিক্ষার্থীর মুখে হাসি ফুটলো ডিসি’র সহায়তায়: সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার ঝড়

॥ আলমগীর মানিক ॥

অসহায় হতদরিদ্র নাগরিকদের সহায়তা প্রাপ্তির যেন শেষ ভরসাস্থল হয়ে উঠছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। গত এক বছরের কিছু বেশী সময় আগে জেলা প্রশাসক হিসেবে রাঙামাটিতে যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে নাগরিকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের অভাব-অভিযোগ, চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টি নিজ উদ্যোগে সমাধানের অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ডিসি যেন এখন জনদরদি নেতা। ইতোধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মনজয় করে নিয়েছেন ডিসি মামুন। রোববার আরো একটি মানবিক কাজের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

রাঙামাটির একজন সংবাদকর্মী সুপ্রিয় চাকমা শুভ তার টাইমলাইনে একটি ছবি আপলোড করার পর থেকেই লাইক আর কমেন্টে অংশ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করছেন পাহাড়ি বাঙালি নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।

সুপ্রিয় চাকমার ষ্ট্যাটাসটি ছিল: “বাবা নেই। গত বছর মারা গেছেন। সংসারে মা আর ছোট ভাই বোন। কোনমতে লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছে সমাপ্ত চাকমা। হিলর ভালেদী ও হিলর প্রোডাকশন সংগঠনের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেছে। ডিগ্রীতে পড়ে সে। গতকাল আমাকে জানায়, তার ডিগ্রী ফরম ফিল আপের টাকা কোথা থেকে পাবে ভেবে পাচ্ছে না। এদিকে রাঙামাটি সরকারি কলেজে এ মাসের ৮ তারিখে ফরম ফিল-আপের টাকা জমা দিতে হবে। ভাবলাম সংগঠন থেকে সদস্যেদের থেকে উত্তোলন করে দেওয়া যাবে। কিন্তু সমাপ্ত তাতে রাজি নন। কেননা,গত বারে সমাপ্ত চাকমার চিকিৎসার্থে সংগঠন তার পাশে দাঁড়ায়।

হঠাৎ করে কোথা থেকে সে টাকা পাবে চিন্তিত। কোথা থেকে দরখাস্ত দিয়ে আবেদন করে পাইয়ে দিতে পারি কিনা পরামর্শ চাইলো। আমি তো তেমন বড় মাপের ব্যক্তিত্ব নয় যে আমার সুপারিশে কেউ তার ফিলাপের টাকা দিয়ে দিবে। এদিকে আমার ও আর্থিক দিক দিয়ে একটু সমস্যাতে। যাক অনেক চিন্তা করে দেখলাম। বিপদের সময় ১০ টাকাও এক হাজার টাকার সমান। এক বার চেষ্টা করে দেখতে পারি। কেননা আজ ৫ তারিখ। কাল বাদে পরশু টাকা লাগবে। অসহায় ছেলেটি টাকা পাবে কোথা থেকে..!

এদিকে অসহায়,দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা দিয়ে মহানুভাবতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন আমাদের রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ মহোদয়। অনেক সুনাম আছে অসহায়দের সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে। তাই ছুটে গেলাম সমাপ্তকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে। বিষয়টি খুলে বলার সাথে সাথেই সমাপ্ত চাকমাকে তার ফিলাপের টাকা দিয়ে দিলেন। নিজেকে গর্ববোধ করলাম। সমাপ্তকে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতে না পারলে কি হবে। আমি তো সহযোগিতা করতে পেরেছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ মহোদয়কে। যা একজন ছাত্রের অসহায় সময়ের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছেন। এভাবে সবার হৃদয়ে জেগে উঠুক মানবাত্মা..””

সুপ্রিয় চাকমা’র এই ষ্ট্যাটাসের নিছে কমেন্টে অনন্ত চাকমা লিখেছেন, “শ্রদ্ধাভাজন স্যার রাঙামাটি জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।পাহাড়ে এমন মানবতার মানুষ জন্ম হোক বার বার……”

মোঃ মনিরুল ইসলাম নামের একজন লিখেছেন: ডিসি স্যারের এই দিকটা আমার খুব ভালো লাগে। সমাপ্ত চাকমার আছে আমার অনুরোধ জীবনে ভালো কোন অবস্থানে যেতে পারলে স্যারের মতো আপনিও অন্যদের সহযোগিতা করবেন”।

সুশীল চাকমা লিখেছেন : গভীর শ্রদ্ধা ডিসি স্যারকে, জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার জন্য সুপ্রিয়কে অশেষ স্নেহাশীষ”।

প্রদীপ চাকমা নামের একজন কমেন্ট করেছেন : এলাকায় অনেক বিত্তবান মানুষ আছেন কিন্তু তারা মহৎ কাজের জন্য এগিয়ে আসেন না। তাই আপনাকে এই মহৎ কাজ করার জন্য সাধুবাদ সেই সাথে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি আপনি দেশ তথা জাতির মঙ্গল বয়ে আনতে পারেন।

আরো অন্তত ২০টি মন্তব্যে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ এর জন্য দোয়ার পাশাপাশি শুভ কামনার মাধ্যমে প্রশংসা করেছে পাহাড়ি-বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায়ের মানুষজন।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনায় রাঙামাটির বিভিন্ন প্রান্তের অসহায় দরিদ্র মানুষজনের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে মনে স্থান করে নিয়েছেন এই ডিস্ট্রিক ম্যাজিষ্ট্রেট মামুনুর রশিদ। পিছিয়ে পড়া রাঙামাটিবাসীর উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাওয়া এই জেলা প্রশাসক সম্পর্কে সম্প্রতি বেশ চমকপ্রদ তথ্য মিললো জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল একটি সূত্র থেকে। জেলায় যোগদানের পর থেকেই নিজ বাসভবনে রাত্রী যাপন ছাড়া দিনের প্রায় পুরোটা সময়ই কাটিয়ে দেন অফিসে।

জেলার উন্নয়নে নিজের সর্বোচ্চ টুকু বিলিয়ে দেওয়ার লক্ষে কখন যে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময়টুকু অতিবাহিত হয়ে যায় সেদিকে অনেক সময়ই তার খেয়াল থাকেনা। হোটেল থেকে নয়তো বাসা থেকে আনা রান্না করা খাবার অফিসিয়াল চেয়ারেই বসেই সারেন। এরপর সেই চেয়ারটিতেই সামান্য হেলান দিয়ে হয়তো আধা ঘন্টা সময় একটু জিরিয়ে নেন। এরপর আবারো শুরু হয় জেলা উপজেলার সকল সরকারী ফাইলগুলো সম্পর্কে তথ্য আহরণ ও সই বিতরণ। এরই মধ্যে তার দরবারে বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ আর অনুযোগ নিয়ে হাজির হওয়া মানুষগুলোকে হাসিমুখেই ডেকে নিয়ে শুনের তাদের হৃদয়ের আঁকুতি। সম্ভবপর করনীয় উপকারটুকু সাথে সাথেই সম্পন্ন করে দেন নয়তো দরখাস্তটি নিজেই গ্রহণ করে সহকারিকে পরবর্তী যথাসময়ে কাজটি করে দিতে নির্দেশনা দিয়ে দেন।

এদিকে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের কাছে তার অভিব্যক্তি জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি সরকারের একজন সামান্য কর্মচারি। জনগণের সেবা করার লক্ষ্যেই সরকার আমাকে অত্র জেলায় পাঠিয়েছে। সামান্য কয়দিনের জন্য এই জেলায় আমি দায়িত্ব নিয়ে আমি এসেছি। এই কথাটি মাথায় রেখেই আমি চেষ্ঠা করি যাতে জনগণ তাদের ন্যায্য প্রাপ্ততাটা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পায়।

একান্ত আলাপে জেলা প্রশাসক জানান, আমার পরিবার থাকে ঢাকায় আমি এখানে আমার বাসভবনে গিয়ে একা যে সময়টুকু নষ্ট হবে সেটি যদি আমি রাঙামাটির মঙ্গলে কাজে লাগাতে পারি তাহলে আমার এই ত্যাগের বিনিময়ে অত্রাঞ্চলের বাসিন্দারা সামান্যতম হলেও এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। সরকার আমাকে জনগণের টাকা থেকেই বেতন দিয়ে এখানে পাঠিয়েছে, সুতরাং জনগণের টাকায় বেতন নিয়ে তাদের জন্যই শ্রম দিবো না এই ধরনের অকৃতজ্ঞ মনোভাব আমার কখনোই ছিলোনা এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি যেন ভবিষ্যতেও না হয়। কর্মকালীন প্রতিটি সেকেন্ডকেই জেলাবাসীর উন্নয়নের কাজে লাগাবেন বলেও দৃঢ়তার সাথে জানালেন মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।