ব্রেকিং নিউজ

অর্ডার নিলো স্যামসাং-পাঠালো টয় সেট“মুভিজেন পেইজে”মোবাইল বিক্রির অভিনব প্রতারনা


॥ আলমগীর মানিক ॥

অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেইজে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে স্বল্পমূল্যে কপিকৃত মোবাইল ফোন বিক্রির অপার দিয়ে ক্রেতাসাধারণকে ব্যাপকহারে ঠকাচ্ছে মুভিজেন (Mobizen) নামক একটি অনলাইন শপ। ঘটনার শিকার হওয়া ব্যক্তি রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা। শামসুল ইসলাম নামের ঐ ব্যক্তি ওমান প্রবাসী। সম্প্রতি রাঙামাটিস্থ নিজ বাসায় এসেছেন রমজানের ছুটি নিয়ে। ফেসবুকের মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে স্বল্পমূল্যে একটি মুঠোফোন কেনার লক্ষ্যে মুভিজেন নামক ফেসবুক পেইজে প্রদর্শিত নাম্বারে ০১৭৭৮-৪৮২০৪৮ নাম্বারে যোগাযোগ করে কোরিয়ান কপিকৃত স্মার্ট ফোন এস নাইন মডেলের মুঠোফোন কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে শর্তাবলী জানতে চান।

অপরপ্রান্ত থেকে একজন মেয়ে মোবাইল রিসিভ করে মোবাইলটি কিনতে হলে প্রথমেই ১৫০ টাকা বিকাশে পাঠাতে বলেন। ক্রেতা শামসুল ইসলাম উক্ত টাকা পাঠালে অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, বাকি ৩৮০০ টাকা পরিশোধ করে এসএ পরিবহণ থেকে মুঠোফোনটি বুঝে নিতে হবে। ১৬ মে দুপুরে এসএ পরিবহন থেকে ফোন পেয়ে ক্রেতা শামসুল ইসলাম সেখানে গিয়ে টাকা পরিশোধ করে তাদের কর্মচারির মাধ্যমে টেপ মোড়ানো প্যাকেটটা খুলে দেখতে পান স্যামসাং জে সেভেন এর প্যাকেটের ভেতরে একটি নোকিয়া টয় মোবাইল পাঠানো হয়েছে।

চরমভাবে প্রতারিত হওয়া ক্রেতা শামসুল ইসলাম জানান, আমি অত্যন্ত অভাক হয়েছি আমাদের দেশে এটা কি ধরনের প্রতারনা। আমি দীর্ঘ অন্তত ২০ বছর ধরে ওমানে প্রবাসী হিসেবে বসবাস করছি। সেখানে এই ধরনের প্রতারনার বিষয়টি মোটেও ঘটেনা। পুরো বিশ্বটাই ই কমার্সের মধ্যদিয়ে চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাকে যখন জানানো হয় যে, এসএ পরিবহনে পাঠানো হবে সেসময় আমি আশ্বস্থ হয়ে তাদেরকে মোবাইলটি অর্ডার করি। কিন্তু এটা কি পেলাম।

এদিকে রাঙামাটি এসএ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিষয়ে আপনারা একটি জিডি করে আমাদের কাছে সেটির কপি দেন, দেখি কি করা যায়। আপনারা কন্ডিশন সিস্টেমটা চালু করেছেন এবং এই ধরনের প্রতারকদের জিনিসপত্র খুলে নাদেখিয়ে আপনারা আগেই টাকাগ্রহণ করেন কেন? এবং একারনেই গ্রাহকরা প্রতারনার শিকার হচ্ছে নয়কি? এমন প্রশ্ন করলে এসএ পরিবহন কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

এদিকে বিষয়টি সাথে সাথেই কোতয়ালী থানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি জানিয়েছেন এই ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা সংশ্লিষ্ট্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, গত কয়েকমাস ধরেই এই ধরনের প্রতারনা করছে একটি চক্র। বেসরকারী এসএ পরিবহন, সুন্দরবনের মতো কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর না দেখেই কন্ডিশন সিস্টেমের কারনে ব্যাপকভাবে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকরা।

এদিকে এই ঘটনার পরবর্তী উক্ত পেইজে প্রদত্ত নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করা হলে কয়েকটি নাম্বারে কল রিসিভ করা হয়না। অন্য একটি নাম্বারে কল রিসিভ করে জানানো হয়, পাঠানো প্যাকেটে রক্ষিত মেমোতে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন। একজন নারী এই কয়টি বাক্য বলেই লাইনটি কেটে দেয়। পরবর্তীতে আর রিসিভ করা হয়না।

https://www.facebook.com/mobizen.combd/