২৪ ঘন্টার ব্যবধানে পাহাড়ে আবারো খুন: বাঙ্গালহালিয়ায় যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা!

॥ আলমগীর মানিক ॥

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে এক আওয়ামীলীগ কর্মীকে হত্যার ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই পাহাড়ে আঞ্চলিকদলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে আবারো হত্যার শিকার হলো এক যুবলীগ নেতা। মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে এবার রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলাধীন বাঙ্গাল হালিয়া ইউনিয়নের আট নং ওয়ার্ডে আঞ্চলিকদলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ক্যহ্লা‌ চিং মারমাকে গুলি করে হত্যা করেছে।

রোববার দিবাগত রাত সোয়া এগারোটার সময় আটনং ওয়ার্ডের নাইক্যছড়া পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন ধারণা করা হচ্ছে জেএসএস এর সন্ত্রাসীরাই তাকে হত্যা করেছে। তিনি জানান, নিহত যুবলীগ নেতা নিজ ঘরেই অবস্থান করছিলো। সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র অবস্থায় এসে গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টিম গেছে বলেও জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা।

স্থানীয়রা সূত্রে জানাগেছে, নিহত যুবলীগ নেতাকে বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় থেকেই মেরে ফেলার হুমকিম দিয়ে আসছিলো আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস নামধারী একদল সন্ত্রাসী। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় তাকে একবার একবার অপহরণ করে নিয়ে গেছিলো বলেও জানিয়েছে স্থানীয় একটি সূত্র। চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ জানিয়েছেন, আমরা ঘটনাটি শুনেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিমকে পাঠিয়েছি। তারা ফিরে আসলে ঘটনার বিস্তারিত জানানো যাবে।

এরআগে মাত্র ২৩ ঘন্টা আগে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে একজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ৮নং রাবার বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম ক্য চিং থোয়াই (২৬)। সে রাজবিলা ইউনিয়নের আ.লীগের সহ-সভাপতি চাই পা অং এর ভাই। এবং নিহতের নাম ক্য চিং থোয়াই আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন বলে জানিয়েছেন রাজবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায় যায়, শনিবার আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে ক্য চিংকে বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ভোরে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ৫ নং রাবার বাগান এলাকায় স্থানীয়রা রাস্তায় তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সদর উপজেলার ৫ নং রাবার বাগান এলাকায় রাস্তায় একটি লাশ আছে এমন খবরের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করি।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মে ওই এলাকায় সন্ত্রাসীরা জনসংহতি সমিতির সমর্থক জয় মনি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করে। এর আগে গত ৭ মে সন্ত্রাসীরা জনসংহতি সমিতির কর্মী বিনয় তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ছাড়া অপহরণ করা হয় পুরাধন তংচঙ্গা নামের অপর এক কর্মীকে, এখনো তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এদিকে সম্প্রতি ঐ এলাকায় একের পর এক হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।